ব্যবহার
এটি আরগান অয়েলভিত্তিক একটি ভেষজ চুলের তেল। আরগান অয়েল মরক্কোর আরগান গাছের (আরগানিয়া স্পাইনোসা) বীজের শাঁস থেকে তৈরি, এবং সাধারণত অন্য উদ্ভিজ্জ তেল বা ভেষজ নির্যাসের সাথে মেশানো থাকে। শুষ্ক, জটপাকানো বা ক্ষতিগ্রস্ত চুলে আর্দ্রতা দিতে, আগা ফাটা ও চুল ভাঙা কমাতে, চুলকে নরম ও উজ্জ্বল করতে এবং মাথার ত্বকের রুক্ষতা ও খসে পড়া কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়। শুষ্ক ত্বকেও আরগান অয়েল ব্যবহার করা হয়। চুল পড়া কমানোর দাবি ভালোভাবে প্রমাণিত নয়।
কীভাবে কাজ করে
আরগান অয়েলে প্রচুর ফ্যাটি অ্যাসিড (মূলত ওলিইক ও লিনোলেইক অ্যাসিড), ভিটামিন ই (টোকোফেরল) ও উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এটি চুলের উপর হালকা আবরণ তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখে, চুলের বাইরের স্তর মসৃণ করে ও ঘর্ষণ কমায়, ফলে চুল কম জট পাকায় ও কম ভাঙে। মাথার ত্বকে ও ত্বকে এটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর ফিরিয়ে আনতে ও রুক্ষতা কমাতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা নিয়ে ঘষে ভেজা বা শুকনো চুলে লাগান, বিশেষ করে আগায়। মাথার ত্বকের যত্নে অল্প পরিমাণ তেল মালিশ করে এক ঘণ্টা বা সারারাত রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই বা তিনবার, অথবা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ঔষধের সাথে কোনো প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। মিনক্সিডিলের মতো ঔষধযুক্ত মাথার ত্বকের পণ্য ব্যবহার করলে সেগুলো নির্দেশনা মতো লাগান এবং একই সময়ে তেল ব্যবহারের বিষয়ে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
কারা খাবেন না
- আরগান অয়েল, বাদামজাতীয় বাদাম বা পণ্যের অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- মাথার ত্বক কাটা, সংক্রমিত বা তীব্র প্রদাহযুক্ত হলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
আরগান অয়েল সাধারণত খুব ভালোভাবে সহ্য হয়। ক্ষেত্রবিশেষে, বিশেষ করে বাদামে অ্যালার্জি থাকলে, চুলকানি, লাল হওয়া বা র্যাশ হতে পারে। বেশি ব্যবহার করলে চুল তেলতেলে দেখাতে পারে বা চুলের গোড়ায় ব্রণ হতে পারে। প্রথমবার ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করুন।
মুখ, চোখ বা ঠোঁট ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা সারা শরীরে র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চুল ও ত্বকে আরগান অয়েল ব্যবহার সাধারণত গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ বলে ধরা হয়। পণ্যে অতিরিক্ত এসেনশিয়াল অয়েল থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- চোখে যেন না লাগে; লাগলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- প্রসাধনী চুলের তেল গিলবেন না।
- হঠাৎ বা ছোপ ছোপ চুল পড়লে, অথবা মাথার ত্বক লাল, আঁশের মতো খসা, ব্যথাযুক্ত বা রস পড়লে চিকিৎসক দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
চুলে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ততার আশঙ্কা নেই। কোনো শিশু বেশি পরিমাণে গিলে ফেললে পেটের অস্বস্তি হতে পারে; বমি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসক বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রসাধনী ভেষজ চুলের তেল (আরগান অয়েলভিত্তিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুষ্ক স্থানে, সরাসরি রোদ থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।