ব্যবহার
হেসপেরিডিন লেবুজাতীয় ফলে থাকা একটি ফ্লাভোনয়েড। ঔষধ হিসেবে এটি মূলত ডায়োসমিনের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার হয়, এগুলো কমাতে:
- ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিশিয়েন্সির লক্ষণ, যেমন পা ভারী, ব্যথা বা ফোলা এবং ভ্যারিকোস ভেইন;
- অর্শ (পাইলস), ব্যথা, রক্তপাত ও ফোলা কমাতে।
কিছু ভিটামিন সি ও অন্যান্য সাপ্লিমেন্টেও এটি যোগ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
হেসপেরিডিন শিরা ও ছোট রক্তনালির দেয়ালকে সহায়তা করে। এটি কৈশিক নালি থেকে তরল চুইয়ে পড়া কমাতে সাহায্য করে এবং হালকা প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ রাখে। ডায়োসমিনের সাথে এটি শিরার টান বাড়ায় ও পা থেকে রক্ত ফেরাতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: হেসপেরিডিন সাধারণত ডায়োসমিনের সাথে মিশ্র ট্যাবলেট হিসেবে খাওয়া হয় (সচরাচর ৫০ mg হেসপেরিডিন ও ৪৫০ mg ডায়োসমিন)। পণ্যের গায়ে লেখা মাত্রা বা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান; শিরার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় প্রায়ই খাবারের সাথে দিনে ২ বার ১টি ট্যাবলেট।
- অর্শ বেড়ে গেলে: কয়েক দিন মিশ্র ট্যাবলেটের বেশি মাত্রা, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- সাপ্লিমেন্ট: লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী।
- শিশু: সাধারণত ব্যবহার হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
হেসপেরিডিন রক্ত পাতলা করার ঔষধ (যেমন ওয়ারফারিন বা ক্লোপিডোগ্রেল) ও কিছু রক্তচাপের ঔষধের প্রভাব কিছুটা বাড়াতে পারে। আপনি যে সব ঔষধ খান, ডাক্তারকে জানান, এবং ডাক্তার অন্য পরামর্শ না দিলে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের অন্তত ২ সপ্তাহ আগে বন্ধ করুন।
কারা খাবেন না
- হেসপেরিডিন, ডায়োসমিন, লেবুজাতীয় ফ্লাভোনয়েড বা পণ্যের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। হতে পারে: পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, বদহজম ও মাথাব্যথা। কদাচিৎ: র্যাশ বা চুলকানি।
এগুলো হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন: মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, গুরুতর র্যাশ, বা অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে। অর্শে বেশি রক্তপাত, কালো পায়খানা, বা প্রায় ২ সপ্তাহের বেশি লক্ষণ থাকলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সাধারণ খাবারে থাকা হেসপেরিডিন নিরাপদ, তবে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ঔষধের মাত্রার তথ্য সীমিত। শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- রক্তক্ষরণজনিত রোগ থাকলে বা রক্ত পাতলা করার ঔষধ খেলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- জীবনযাপনের পরিবর্তনও জরুরি: অর্শে আঁশযুক্ত খাবার ও পানি বেশি খান; পায়ের শিরার সমস্যায় সক্রিয় থাকুন ও বিশ্রামের সময় পা উঁচু করে রাখুন।
- হঠাৎ এক পা ফুলে ব্যথা বা লালচে ভাব হলে ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনের অভিজ্ঞতা কম। বেশি খেলে পেটের অস্বস্তি হতে পারে। অনেক বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রক্তনালি সুরক্ষাকারী ঔষধ ও খাদ্যজাত ফ্লাভোনয়েড।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।