ব্যবহার
হাই প্রোটিন বলতে চিকিৎসা পুষ্টি হিসেবে ব্যবহৃত উচ্চ প্রোটিন ও উচ্চ শক্তিসম্পন্ন পুষ্টি পানীয় বা সাপ্লিমেন্ট বোঝায়। যাঁরা সাধারণ খাবার থেকে প্রোটিন ও শক্তির চাহিদা পূরণ করতে পারেন না, যেমন ক্যানসার চিকিৎসার সময়, অস্ত্রোপচার বা অসুখের পর, দুর্বলতা ও বার্ধক্যে, বা অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন ও পেশি কমে গেলে, তাঁদের এটি দেওয়া হয়। কিছু ফর্মুলায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (EPA ও DHA), ভিটামিন ও খনিজও থাকে।
কীভাবে কাজ করে
প্রোটিন অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে, যা দিয়ে শরীর টিস্যু মেরামত করে, পেশি মজবুত রাখে, ক্ষত সারায় এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে। কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি থেকে বাড়তি শক্তি পেলে শরীর প্রোটিনকে জ্বালানি হিসেবে না পুড়িয়ে মেরামতে কাজে লাগাতে পারে। এভাবে এটি ওজন, পেশি ও শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের বা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণত দিনে ১ থেকে ২ সার্ভিং খাবারের মাঝে, ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে খান। এটি সাধারণ খাবারের পাশাপাশি খাওয়া যায়; পুষ্টির প্রধান উৎস হিসেবে শুধু চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন। ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন এবং খোলা বোতল নির্দেশ অনুযায়ী ফ্রিজে রাখুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- একই সময়ে বেশি প্রোটিন খেলে লেভোডোপার শোষণ কমে যেতে পারে; পার্কিনসন্স রোগীরা সময় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- ভিটামিন K যুক্ত পণ্য ওয়ারফারিনের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে; নিয়মিত একই পরিমাণে খান এবং চিকিৎসককে জানান।
- ওমেগা-৩ যুক্ত পণ্য বেশি পরিমাণে খেলে রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব সামান্য বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- দুধের প্রোটিন, সয়া, মাছ বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে (লেবেল দেখুন)।
- যেসব অবস্থায় প্রোটিন সীমিত রাখতে হয়, যেমন উন্নত পর্যায়ের কিডনি বা লিভারের রোগ, চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া।
- গ্যালাকটোসেমিয়া বা নির্দিষ্ট উপাদান এড়িয়ে চলতে হয় এমন অন্য অবস্থায়।
- বিশেষভাবে তৈরি না হলে শিশু ও ছোট বাচ্চাদের একমাত্র পুষ্টির উৎস হিসেবে উপযুক্ত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। বিশেষ করে শুরুতে কারও পেট ফাঁপা, বমি ভাব, পেট ভরা ভাব, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। ধীরে চুমুক দিয়ে ও ঠাণ্ডা করে খেলে উপকার হতে পারে। ডায়াবেটিস আক্রান্তদের রক্তে শর্করা বাড়তে পারে।
মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়াসহ র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, অথবা তীব্র বমি বা পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবার কম খেলে বা অন্য কারণে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি ব্যবহার করা যায়। পণ্যের ভিটামিনের পরিমাণ (যেমন ভিটামিন A) উপযুক্ত কি না দেখে নিন।
সতর্কতা
- নিয়মিত চিকিৎসা পুষ্টির জন্য চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন।
- ডায়াবেটিস আক্রান্তরা রক্তের শর্করা পরীক্ষা করবেন।
- কিডনির রোগ থাকলে উচ্চ প্রোটিন পণ্য ব্যবহারের আগে পরামর্শ নিন।
- এটি প্রেসক্রাইব করা চিকিৎসার বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের গোলমাল, ডায়রিয়া বা অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি হতে পারে; কিডনির রোগীদের অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির উপর চাপ ফেলতে পারে। অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চিকিৎসা পুষ্টি (মুখে খাওয়ার উচ্চ প্রোটিন পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট)।
সংরক্ষণ
না খোলা অবস্থায় ৩০°C এর নিচে ঠাণ্ডা, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন; জমাবেন না। খোলার পর ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন এবং প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে শেষ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।