ব্যবহার
হিউম্যান অ্যান্টি-ডি ইমিউনোগ্লোবিউলিন ভবিষ্যতের গর্ভাবস্থায় Rh রোগ (গর্ভস্থ শিশু ও নবজাতকের হিমোলাইটিক রোগ) প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। Rh-নেগেটিভ মায়ের গর্ভে Rh-পজিটিভ শিশু থাকলে বা জন্ম দিলে, অথবা গর্ভপাত, গর্ভপাত ঘটানো, এক্টোপিক গর্ভধারণ, অ্যামনিওসেন্টেসিস, গর্ভাবস্থায় রক্তপাত বা পেটে আঘাতের মতো ঘটনার পর যখন শিশুর রক্ত মায়ের রক্তে আসতে পারে, তখন এটি দেওয়া হয়। অনেক কর্মসূচিতে গর্ভাবস্থায় নিয়মিতভাবে এবং Rh-নেগেটিভ মানুষকে Rh-পজিটিভ রক্ত দেওয়ার পরও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যান্টি-ডি ইমিউনোগ্লোবিউলিন দাতার প্লাজমা থেকে সংগ্রহ করা অ্যান্টিবডির একটি প্রস্তুতি। দেওয়ার পর এই অ্যান্টিবডি মায়ের রক্তে আসা শিশুর Rh-পজিটিভ (D-পজিটিভ) লোহিত কণিকার সাথে দ্রুত যুক্ত হয়ে মায়ের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা টের পাওয়ার আগেই সেগুলো সরিয়ে দেয়। ফলে মা নিজের স্থায়ী অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি তৈরি করেন না, যা পরের Rh-পজিটিভ শিশুর লোহিত কণিকা ধ্বংস করতে পারত।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক, ধাত্রী বা নার্স পেশিতে (কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শিরায়) ইনজেকশন হিসেবে এটি দেন। মাত্রা ও সময় পরিস্থিতির উপর (গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ডোজ, প্রসবের পর বা সংবেদনশীলকারী ঘটনার পর) এবং মায়ের রক্তে কতটা শিশুর রক্ত এসেছে তা মাপার রক্ত পরীক্ষার উপর নির্ভর করে, তাই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দেওয়া হয়। প্রসব বা সংবেদনশীলকারী ঘটনার পর যত দ্রুত সম্ভব, আদর্শভাবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া উচিত।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যান্টি-ডি দেওয়ার পর প্রায় ৩ মাসের মধ্যে হাম, মামস ও রুবেলা (MMR) এবং জলবসন্তের মতো জীবিত টিকা দিলে কম কাজ করতে পারে; চিকিৎসক পরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষা করতে পারেন। প্রসবের পরপরই MMR দেওয়া হলেও অ্যান্টি-ডি দেওয়া যায়, তবে পরে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হতে পারে। অ্যান্টি-ডি কয়েক সপ্তাহ কিছু রক্ত পরীক্ষার ফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
হিউম্যান ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে দেওয়া যাবে না। এই উদ্দেশ্যে Rh-পজিটিভ মানুষকে বা আগেই সংবেদনশীল হয়ে অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি আছে এমন Rh-নেগেটিভ নারীকে এটি দেওয়া হয় না। গুরুতর প্লেটলেট কমতি বা রক্তক্ষরণজনিত রোগে পেশিতে দেওয়ার পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়; সেক্ষেত্রে শিরায় দেওয়ার পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা, হালকা জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও বমি বমি ভাব। কদাচিৎ গুরুতরসহ অ্যালার্জি হতে পারে, বিশেষ করে IgA ঘাটতি থাকলে। শিরায় দিলে কিছু ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা ভেঙে যেতে পারে।
ইনজেকশনের পর শ্বাসকষ্ট, শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ, মুখ বা গলা ফোলা, সারা শরীরে র্যাশ, অজ্ঞান হওয়া, বুকে চাপ, গাঢ় প্রস্রাব, ত্বক হলুদ হওয়া বা পিঠে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অ্যান্টি-ডি ইমিউনোগ্লোবিউলিন বিশেষভাবে গর্ভাবস্থা ও প্রসবের পরে ব্যবহারের জন্যই তৈরি এবং মা ও শিশুর জন্য নিরাপদ বলে মনে করা হয়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এটি দেওয়া যায়।
সতর্কতা
- ব্যবহারের আগে রক্তের গ্রুপ ও অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়।
- মানুষের প্লাজমা থেকে তৈরি বলে সংক্রমণ ছড়ানোর খুব কম তাত্ত্বিক ঝুঁকি আছে, তবে দাতা বাছাই ও তৈরির পদ্ধতিতে এটি অত্যন্ত অসম্ভাব্য।
- অ্যালার্জির জন্য ইনজেকশনের পর অন্তত ২০ মিনিট রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
- ডোজ ও তারিখের রেকর্ড রাখুন; ভবিষ্যতের গর্ভাবস্থায় দরকার হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
Rh-নেগেটিভ নারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি ডোজে ইনজেকশনের জায়গায় বেশি অস্বস্তি ছাড়া কোনো ক্ষতি জানা নেই। Rh-পজিটিভ মানুষে বা শিরায় বেশি মাত্রায় দিলে লোহিত কণিকা ভাঙতে পারে, যার চিকিৎসা হাসপাতালে করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Rho(D) ইমিউন গ্লোবিউলিন, হিউম্যান)
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না এবং আলো থেকে দূরে রাখুন। স্বাস্থ্যকর্মীরা এটি দেন; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।