ব্যবহার
হিউম্যান মেনোপজাল গোনাডোট্রফিন (hMG, মেনোট্রফিন) একটি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার হরমোন, যা ব্যবহৃত হয়:
- পিটুইটারি গ্রন্থি কম হরমোন তৈরি করায় যেসব নারীর ডিম্বস্ফোটন হয় না, তাদের ফলিকল (ডিম্বথলি) বাড়াতে
- IVF বা ICSI এর মতো সহায়ক প্রজনন চিকিৎসায় একসাথে কয়েকটি ফলিকল বাড়াতে
- পিটুইটারি থেকে কম হরমোন তৈরির কারণে (হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম) পুরুষদের শুক্রাণু তৈরিতে, hCG এর সাথে
কীভাবে কাজ করে
hMG হলো দুটি প্রাকৃতিক হরমোন, ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) ও লুটিনাইজিং হরমোন (LH) এর বিশোধিত মিশ্রণ, যা মূলত মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের প্রস্রাব থেকে পাওয়া যায়। নারীদের ক্ষেত্রে এটি ডিম্বাশয়ে ফলিকল বাড়ায় ও পরিপক্ব করে এবং ইস্ট্রোজেন তৈরি করে। পুরুষদের ক্ষেত্রে FSH অণ্ডকোষকে শুক্রাণু তৈরিতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
hMG চামড়ার নিচে বা মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়, চিকিৎসক, নার্স বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোগী নিজে। মাত্রা ও কত দিন দিতে হবে তা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে ঠিক করেন এবং আলট্রাসনোগ্রাম ও রক্তের হরমোন পরীক্ষা দেখে পরিবর্তন করেন। ডিম্বের চূড়ান্ত পরিপক্বতার জন্য সাধারণত আলাদা hCG ইনজেকশন দেওয়া হয়। শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি সাধারণত hCG, ক্লোমিফেন বা GnRH অ্যানালগের মতো অন্য বন্ধ্যাত্ব ঔষধের সাথে ব্যবহৃত হয়, যা প্রয়োজনীয় মাত্রা বদলাতে পারে। অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানা নেই, তবে সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা বিশেষজ্ঞকে জানান।
কারা খাবেন না
যেসব অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না:
- গর্ভাবস্থা
- পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম ছাড়া অন্য কারণে ডিম্বাশয় বড় হওয়া বা সিস্ট
- কারণ জানা নেই এমন যোনিপথে রক্তপাত
- ডিম্বাশয়, জরায়ু, স্তন, অণ্ডকোষ, পিটুইটারি বা হাইপোথ্যালামাসের টিউমার
- প্রাথমিক ডিম্বাশয় বা অণ্ডকোষ বিকলতা (যখন এগুলো সাড়া দিতে পারে না)
- প্রজনন অঙ্গের এমন গঠনগত ত্রুটি বা ফাইব্রয়েড যাতে গর্ভধারণ অসম্ভব
- অনিয়ন্ত্রিত থাইরয়েড বা অ্যাড্রিনালের রোগ, বা ঔষধে অ্যালার্জি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লালভাব বা কালশিটে দাগ
- মাথাব্যথা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি, বমি বমি ভাব
- ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (OHSS), যেখানে ডিম্বাশয় অতিরিক্ত সাড়া দেয়
- একাধিক সন্তান ধারণ (যমজ বা তার বেশি)
কম দেখা যায় এমন ঝুঁকির মধ্যে আছে এক্টোপিক গর্ভধারণ, গর্ভপাত, ডিম্বাশয় পেঁচিয়ে যাওয়া ও রক্ত জমাট বাঁধা। পুরুষদের স্তন বড় হওয়া ও ব্রণ হতে পারে।
তীব্র পেটব্যথা বা পেট ফুলে যাওয়া, দ্রুত ওজন বাড়া, প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বমি, পায়ে ব্যথা বা ফোলা, বুকে ব্যথা বা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন; এগুলো গুরুতর OHSS বা রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
hMG গর্ভধারণে সাহায্য করতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু গর্ভধারণের পর আর ব্যবহার করা যাবে না। স্তন্যদানকালে এটি ব্যবহার করা হয় না।
সতর্কতা
OHSS ও একাধিক সন্তান ধারণের ঝুঁকি কমাতে আলট্রাসনোগ্রাম ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ জরুরি। চিকিৎসার আগে থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল ও পিটুইটারির সমস্যা পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা উচিত। আপনার বা পরিবারের কারও রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে জানান। ডিম্বাশয় বড় হলে ভারী পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি hMG দিলে ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম হতে পারে। নির্ধারিত মাত্রার বেশি ইনজেকশন দেওয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ্যাত্ব ক্লিনিক বা চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
গোনাডোট্রফিন; বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার হরমোন।
সংরক্ষণ
প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন; অনেক পণ্য রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C বা ২৫°C এর নিচে আলো থেকে দূরে রাখা হয়। জমাবেন না। মিশিয়ে ফেলার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।