ব্যবহার
হায়ালুরোনিডেজ একটি এনজাইম ইনজেকশন, যা অন্য ইনজেকশন দেওয়া তরল বা ঔষধকে শরীরে দ্রুত ছড়াতে ও শোষিত হতে সাহায্য করে। শিরায় দেওয়া সম্ভব না হলে চামড়ার নিচে দেওয়া তরল (হাইপোডার্মোক্লাইসিস) দ্রুত শোষণ করাতে, লোকাল অ্যানেস্থেটিকের বিস্তার বাড়াতে (যেমন চোখের অপারেশনে), শিরা থেকে স্যালাইন বা ঔষধ বাইরে বেরিয়ে গেলে তা শোষণে সাহায্য করতে এবং কিছু কসমেটিক ক্লিনিকে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার গলাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড চামড়ার নিচের টিস্যুকে একসাথে ধরে রাখা একটি প্রাকৃতিক জেলের মতো পদার্থ। হায়ালুরোনিডেজ সাময়িকভাবে এই পদার্থ ভেঙে দেয়, ফলে টিস্যু আলগা হয় এবং ইনজেকশন দেওয়া তরল বা ঔষধ দ্রুত ছড়িয়ে শোষিত হয়। এক থেকে দুই দিনের মধ্যে টিস্যু আবার হায়ালুরোনিক অ্যাসিড তৈরি করে নেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হায়ালুরোনিডেজ চিকিৎসক বা নার্স চামড়ার নিচে বা টিস্যুতে ইনজেকশন হিসেবে দেন, সাধারণত অন্য ইনজেকশনের সাথে মিশিয়ে বা ঠিক আগে। মাত্রা ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন। এটি কখনো শিরায় দেওয়া যাবে না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি সাথে দেওয়া লোকাল অ্যানেস্থেটিক ও অন্যান্য ঔষধের বিস্তার ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। বেশি মাত্রার স্যালিসাইলেট (যেমন অ্যাসপিরিন), কর্টিকোস্টেরয়েড, অ্যান্টিহিস্টামিন ও ইস্ট্রোজেন এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। পণ্যের তথ্যে অনুমতি না থাকলে ডোপামিন, অ্যাড্রেনালিন বা এর সাথে অস্থিতিশীল অন্য ঔষধের সাথে মেশানো উচিত নয়।
কারা খাবেন না
হায়ালুরোনিডেজে অ্যালার্জি থাকলে (কিছু ধরন প্রাণী থেকে আসে বলে মৌমাছির হুলে অ্যালার্জিও গুরুত্বপূর্ণ), সংক্রমণ বা ক্যান্সারযুক্ত জায়গায়, শিরায়, অথবা কামড় বা হুলের বিষ ছড়ানো রোধে এটি ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনের জায়গায় লাল হওয়া, হালকা ব্যথা, ফোলা বা চুলকানি হতে পারে। অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক। চামড়ার নিচে বেশি পরিমাণ তরলের সাথে ব্যবহারে শরীরে তরল বেশি জমে যেতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব, অথবা ইনজেকশনের জায়গায় ছড়িয়ে পড়া লালভাব, গরম ভাব ও ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের তথ্য খুব কম। চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলে তবেই ব্যবহার করা উচিত।
সতর্কতা
অ্যালার্জি আছে কিনা দেখতে ব্যবহারের আগে চামড়ায় পরীক্ষা করা হতে পারে। অপরিণত নবজাতক, শিশু ও বয়স্কদের চামড়ার নিচে তরল দেওয়ার সময় পানি ও লবণের ভারসাম্য খেয়াল রাখতে হয়। কামড় বা হুলের ফোলা কমাতে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি হলে স্থানীয় প্রতিক্রিয়া, কাঁপুনি, বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা রক্তচাপ কমে যেতে পারে; উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
এনজাইম, টিস্যুর প্রবেশ্যতা পরিবর্তক।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়, জমাবেন না। হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।