ব্যবহার
হাইড্রোকর্টিসোন অ্যাসিটেট একটি মৃদু কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড)। এটি মূলত চামড়ায় লাগানো হয়, একজিমা, ডার্মাটাইটিস (সংস্পর্শজনিত ও এলার্জিজনিত সহ), পোকামাকড়ের কামড় এবং এ ধরনের প্রদাহজনিত চর্মরোগে লালচে ভাব, ফোলা, চুলকানি ও জ্বালা কমাতে। কিছু কানের, চোখের ও পায়ুপথের ঔষধে (যেমন পাইলসের জন্য) এটি প্রায়ই অন্য ঔষধের সাথে থাকে, এবং প্রদাহযুক্ত গিঁটে ইনজেকশন হিসেবে ডাক্তার এটি দেন।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে প্রদাহ ও এলার্জি সৃষ্টিকারী প্রাকৃতিক উপাদানের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এতে লালচে ভাব, ফোলা ও চুলকানি কমে। এটি সংক্রমণ সারায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- চামড়ার ক্রিম বা মলম (সাধারণত ১%): আক্রান্ত জায়গায় দিনে একবার বা দুবার (পরামর্শ থাকলে দিনে তিনবার পর্যন্ত) পাতলা করে লাগিয়ে আলতো করে ঘষে দিন। লাগানোর পর হাত ধুয়ে নিন। যত কম সময় প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করুন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাধারণত ৭ দিনের বেশি নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে, মুখে ও চামড়ার ভাঁজে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
- কান, চোখ ও পায়ুপথের ঔষধ: ডাক্তারের পরামর্শ বা প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী।
- গিঁটের ইনজেকশন: ডাক্তার দেন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
চামড়ায় লাগালে প্রতিক্রিয়া কম হয়। একই জায়গায় একসাথে অন্য স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করবেন না। ইনজেকশন নিলে বা বড় জায়গায় বেশি পরিমাণে লাগালে শরীরে যথেষ্ট স্টেরয়েড শোষিত হয়ে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই ডায়াবেটিস ও রক্ত পাতলা করার ঔষধসহ সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- হাইড্রোকর্টিসোন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস (যেমন ঠোঁটের ঘা, জলবসন্ত বা হার্পিস জোস্টার) বা ছত্রাকের (যেমন দাদ) সংক্রমণ চিকিৎসা ছাড়া থাকলে, যদি না সংক্রমণের ঔষধও ডাক্তারের পরামর্শে একসাথে ব্যবহার করা হয়।
- ব্রণ, রোজেশিয়া ও মুখের চারপাশের ফুসকুড়ি (পেরিওরাল ডার্মাটাইটিস)।
- চোখের ঔষধ: চোখে ভাইরাস, ছত্রাক বা চিকিৎসা না হওয়া ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকলে। কানের ঔষধ: কানের পর্দা ফাটা থাকলে, যদি না ডাক্তার অন্য পরামর্শ দেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত মৃদু, যেমন লাগানোর জায়গায় জ্বালা, হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি বা শুষ্কতা। দীর্ঘদিন ব্যবহারে, বিশেষ করে ব্যান্ডেজের নিচে বা বড় জায়গায়, চামড়া পাতলা হয়ে যেতে পারে, ফাটা দাগ, ছোট দৃশ্যমান রক্তনালী বা চামড়া ফ্যাকাশে হতে পারে, এবং সংক্রমণ চাপা পড়ে যেতে বা বেড়ে যেতে পারে।
তীব্র এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে, বা চামড়া খুব লাল, গরম, ফোলা, ব্যথাযুক্ত বা পুঁজভরা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। চোখের ঔষধ ব্যবহারে চোখে ব্যথা হলে বা দৃষ্টি খারাপ হতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রয়োজনে অল্প জায়গায় অল্প দিনের জন্য ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বড় জায়গায় বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তন বা বোঁটায় লাগাবেন না, অথবা খাওয়ানোর আগে ধুয়ে ফেলুন।
সতর্কতা
পরামর্শ ছাড়া লাগানো জায়গা টাইট ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকবেন না; শিশুর ডায়াপারও ব্যান্ডেজের মতো কাজ করতে পারে। চামড়ার ঔষধ চোখ থেকে দূরে রাখুন। পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না। বড় জায়গায় দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর বন্ধ করার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। ৭ দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে বা অবস্থা খারাপ হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
চামড়ায় বেশি লাগালে সাধারণত গুরুতর ক্ষতি হয় না, তবে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ব্যবহারে শরীরে শোষিত হয়ে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া ও শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড তৈরি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের। অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কেউ ঔষধ গিলে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (মৃদু শক্তির, মূলত চামড়ায় ব্যবহারের)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। ব্যবহারের পর টিউব বা কৌটার মুখ ভালোভাবে বন্ধ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।