ব্যবহার
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দ্রবণ একটি মৃদু জীবাণুনাশক ও পরিষ্কারক উপাদান। সাধারণ ৩% দ্রবণ (১০ ভলিউম নামেও পরিচিত) ছোট কাটা, ছড়ে যাওয়া ও ক্ষত পরিষ্কার করতে এবং শুকিয়ে যাওয়া রক্ত ও ময়লা আলগা করতে ব্যবহার হয়। পাতলা করে মুখের ঘা, মাড়ির প্রদাহ ও মুখের পরিচ্ছন্নতার জন্য কুলি বা গারগল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। কানের খৈল নরম করতে এবং কৃত্রিম দাঁত পরিষ্কারেও এটি কাজে লাগে।
কীভাবে কাজ করে
ত্বক, রক্ত বা টিস্যুর সংস্পর্শে এলে এটি পানি ও অক্সিজেনে ভেঙে যায় এবং ফেনা তৈরি করে। অক্সিজেন ও ফেনার কারণে কিছু জীবাণু মারা যায় এবং ময়লা, পুঁজ ও মৃত টিস্যু উঠে আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। গিলবেন না।
- ছোট ক্ষত: পরিষ্কার তুলা বা গজ দিয়ে ৩% দ্রবণ ক্ষতস্থানে লাগান, ফেনা হতে দিন, তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে ১ বা ২ বার, মাত্র কয়েক দিন।
- কুলি বা গারগল: ৩% দ্রবণের ১ ভাগের সাথে ১ ভাগ পানি মিশিয়ে (প্রায় ১.৫%) প্রায় ১ মিনিট কুলি বা গারগল করে ফেলে দিন। গিলবেন না। দন্তচিকিৎসক বা ডাক্তার না বললে দিনে ৩ বার পর্যন্ত, ১ সপ্তাহের বেশি নয়।
- কানের খৈল: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে, নির্দেশনা অনুযায়ী; ঠিকমতো পাতলা করা দ্রবণের কয়েক ফোঁটা কানে দিয়ে বুদবুদ হতে দিন, তারপর বের করে দিন।
বেশি ঘন দ্রবণ (৬% এর বেশি) ক্ষয়কারক এবং শরীরে ব্যবহারের আগে অবশ্যই ঠিকভাবে পাতলা করতে হবে। শিশুদের: শুধু বড়দের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন; ছোট শিশুদের কুলি হিসেবে দেওয়া উচিত নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। একই জায়গায় অন্য জীবাণুনাশক, আয়োডিনযুক্ত ঔষধ বা ঘরোয়া পরিষ্কারকের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করবেন না, এতে জ্বালা হতে পারে বা কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
- গভীর ক্ষত, বিঁধে যাওয়া ক্ষত, পশুর কামড়, গুরুতর পোড়া বা শরীরের বন্ধ গহ্বরে ক্ষত, যেখানে আটকে থাকা অক্সিজেন বিপজ্জনক হতে পারে।
- কানের পর্দা ফুটো বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অথবা কান দিয়ে পানি পড়লে বা ব্যথা থাকলে, ডাক্তার না বললে কানে দেবেন না।
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডে এলার্জি বা সংবেদনশীলতা থাকলে।
- চোখে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লাগানোর সময় জ্বালা, ত্বক সাময়িকভাবে সাদা হয়ে যাওয়া, লালচে ভাব বা অস্বস্তি। ক্ষতে বারবার ব্যবহার করলে সেরে ওঠা দেরি হতে পারে। কুলি হিসেবে মুখে জ্বালা এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে জিহ্বার উপরিতলে সাময়িক পরিবর্তন বা দাঁতে সিরসির ভাব হতে পারে। গিলে ফেললে (বিশেষ করে ঘন দ্রবণ) যদি বমি, বুক বা পেটে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হয়; চোখে লাগার পর ধোয়ার পরও ব্যথা বা ঝাপসা দেখা থাকলে; অথবা তীব্র ফোলাভাব, ফোসকা বা গুরুতর এলার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বকে ৩% দ্রবণ বা গিলে না ফেলে পাতলা কুলি হিসেবে ব্যবহার করলে গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ক্ষতির আশঙ্কা নেই। অন্য যেকোনো ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
ব্যবহারের আগে লেবেলে দ্রবণের ঘনত্ব দেখে নিন। চোখে যেন না লাগে; লাগলে অন্তত ১৫ মিনিট প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বড় জায়গায় বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না। এটি চুল ও কাপড়ের রঙ ফ্যাকাশে করে দিতে পারে। ক্ষত গভীর হলে, সারতে না চাইলে, বা সংক্রমণের লক্ষণ (ছড়িয়ে পড়া লালচে ভাব, গরম ভাব, ফোলাভাব বা পুঁজ) দেখা দিলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অল্প পরিমাণ ৩% দ্রবণ গিলে ফেললে মুখ ও গলায় জ্বালা, পেটের অস্বস্তি ও বমি হতে পারে। বেশি পরিমাণ বা ঘন দ্রবণ গিলে ফেলা বিপজ্জনক হতে পারে। জোর করে বমি করাবেন না; মুখ ধুয়ে সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
জীবাণুনাশক ও পরিশোধক (জারণকারক উপাদান)।
সংরক্ষণ
ঠান্ডা জায়গায়, সম্ভব হলে ২৫°C এর নিচে, মুখ শক্ত করে বন্ধ করা মূল পাত্রে, আলো ও তাপ থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। লাগালে ফেনা না হলে ব্যবহার করবেন না, কারণ এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।