ব্যবহার
হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (গেঁটে বাত), সিস্টেমিক লুপাস ইরিথেমাটোসাস (লুপাস), ডিসকয়েড লুপাস এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাজনিত আরও কিছু ত্বক ও গাঁটের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। ডাক্তারের পরামর্শে কিছু ধরনের ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়ও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
আর্থ্রাইটিস ও লুপাসে এটি অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করে, ফলে প্রদাহ, গাঁটের ব্যথা ও ত্বকের র্যাশ কমে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ে, তাই পুরো উপকার পেতে ২ থেকে ৩ মাস লাগতে পারে। ম্যালেরিয়ায় এটি লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে জীবাণুর বৃদ্ধি থামায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও লুপাস, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ২০০ থেকে ৪০০ mg, একবারে বা দুই ভাগে, তবে দিনে শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৫ mg এর বেশি নয়। রোগ নিয়ন্ত্রণে এলে ডাক্তার মাত্রা কমাতে পারেন। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসা: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। শিশুদের: ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের পরামর্শে। ট্যাবলেট না ভেঙে খাবার বা এক গ্লাস দুধের সাথে গিলে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড ও কেওলিন: শোষণ কমায়; অন্তত ৪ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- হৃদস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ (কিউটি প্রলম্বন), যেমন অ্যামিওডারোন, মক্সিফ্লক্সাসিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, হ্যালোপেরিডল ও কিছু বিষণ্নতার ঔষধ: অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ে।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট: রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে; মাত্রা বদলানোর দরকার হতে পারে।
- ডিগক্সিন ও সাইক্লোস্পোরিন: রক্তে মাত্রা বাড়তে পারে।
- মৃগীরোগের ঔষধ: হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- মেফ্লোকুইন ও অন্যান্য ম্যালেরিয়ার ঔষধ: পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বা একই ধরনের ঔষধে (যেমন ক্লোরোকুইন) এলার্জি থাকলে।
- চোখের রেটিনায় আগে থেকে ক্ষতি (ম্যাকুলোপ্যাথি) থাকলে।
- ছোট শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্দা, মাথাব্যথা, ফুসকুড়ি ও চুলকানি। কম দেখা যায়: মাথা ঘোরা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, চুল পাতলা হওয়া, ত্বক বা নখ কালচে হওয়া, মেজাজের পরিবর্তন। চোখে ঝাপসা দেখা, পড়তে অসুবিধা, আলোর চারপাশে বলয় দেখা বা দৃষ্টির কোনো অংশ ফাঁকা লাগা; দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া বা বুকে ব্যথা; রক্তে শর্করা কমার লক্ষণ (ঘাম, কাঁপুনি, বিভ্রান্তি); ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখে ঘা সহ গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া; মাংসপেশির দুর্বলতা; অথবা নিজের ক্ষতির চিন্তা বা মেজাজের বড় পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
লুপাস ও আরও কিছু রোগে ডাক্তাররা প্রায়ই গর্ভাবস্থায় এটি চালিয়ে যান, কারণ হঠাৎ বন্ধ করলে রোগ বেড়ে যেতে পারে। নিজে থেকে শুরু বা বন্ধ করবেন না; গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে বা গর্ভবতী হলেই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সাথে মানানসই ধরা হয়, তবে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
দীর্ঘদিন ব্যবহারে চোখের রেটিনার ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসার শুরুতে চোখ পরীক্ষা করান এবং পরে নিয়মিত পরীক্ষা করান (সাধারণত ৫ বছর ব্যবহারের পর থেকে প্রতি বছর, ঝুঁকি থাকলে আরও আগে)। হৃদরোগ বা হৃদস্পন্দনের সমস্যা, লিভার বা কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস, মৃগীরোগ, সোরিয়াসিস, পরফাইরিয়া, জি৬পিডি ঘাটতি বা রক্তের রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা ও ইসিজি করতে পারেন। ত্বক সংবেদনশীল হলে কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন খুবই বিপজ্জনক এবং দ্রুত হৃদস্পন্দনের সমস্যা, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট ও অচেতন হয়ে পড়ার কারণ হতে পারে। ছোট শিশুর জন্য কয়েকটি ট্যাবলেটও প্রাণঘাতী হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ম্যালেরিয়াবিরোধী ঔষধ; রোগ-পরিবর্তনকারী বাতের ঔষধ (ডিএমএআরডি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির সম্পূর্ণ বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।