ব্যবহার
হাইড্রক্সিপ্রোজেস্টেরন ক্যাপ্রোয়েট হলো প্রোজেস্টেরন হরমোনের কৃত্রিম রূপ। এই হরমোন গর্ভধারণ টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আগে সময়ের আগে সন্তান জন্ম হওয়ার ইতিহাস, গর্ভপাতের আশঙ্কা বা বারবার গর্ভপাত হলে কিছু নারীর গর্ভ রক্ষায় চিকিৎসক এটি দিতে পারেন। কিছু মাসিক ও জরায়ুর আস্তরণের সমস্যাতেও এটি ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় অকাল জন্ম প্রতিরোধে এর উপকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই এটি আপনার জন্য ঠিক কি না তা চিকিৎসক ঠিক করবেন।
কীভাবে কাজ করে
এটি প্রাকৃতিক প্রোজেস্টেরনের মতো কাজ করে। জরায়ুর আস্তরণ স্থির রাখে এবং জরায়ুর পেশি শিথিল রাখে, ফলে আগেভাগে সংকোচন কমতে পারে। ইনজেকশনের জায়গা থেকে ধীরে ধীরে ছড়ায়, তাই একটি ডোজ কয়েক দিন কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি তেলভিত্তিক ইনজেকশন, যা চিকিৎসক বা নার্স মাংসপেশিতে দেন। কত মাত্রায়, কত দিন পরপর এবং কত দিন চলবে তা চিকিৎসক ঠিক করবেন। প্রশিক্ষণ ও অনুমতি ছাড়া নিজে নিজে ইনজেকশন দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনি যেসব ঔষধ খান সব চিকিৎসককে জানান। রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটোইনের মতো ঔষধ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। এটি রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে, তাই ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট খেলে বেশি পরীক্ষা দরকার হতে পারে।
কারা খাবেন না
- হাইড্রক্সিপ্রোজেস্টেরন, ক্যাস্টর অয়েল বা অন্য উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- বর্তমানে বা আগে রক্ত জমাট বাঁধা বা স্ট্রোক হলে
- স্তন ক্যান্সার বা হরমোন-সংবেদনশীল ক্যান্সার থাকলে বা সন্দেহ হলে
- গুরুতর যকৃতের রোগ বা যকৃতের টিউমার থাকলে
- কারণ জানা নেই এমন যোনিপথে রক্তপাত হলে
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, ফোলা, চুলকানি বা গুটি, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে চুলকানি সাধারণ। কারও মেজাজ পরিবর্তন, মাথাব্যথা বা ক্লান্তি হতে পারে। রক্তে শর্করা সামান্য বাড়তে পারে।
রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ (পা ফুলে ব্যথা, বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট), তীব্র অ্যালার্জি (মুখ ফোলা, শ্বাস নিতে কষ্ট), চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, অথবা যোনিপথে বেশি রক্ত বা পানি বের হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এটি কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এবং চিকিৎসকের ঠিক করা সময়ে দেওয়া হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনির রোগ, মৃগী, মাইগ্রেন, হাঁপানি ও বিষণ্ণতায় সাবধানে ব্যবহার করতে হয়, কারণ শরীরে পানি জমা বা শর্করার পরিবর্তনে এগুলো বাড়তে পারে। গর্ভকালীন সব চেকআপে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মী দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি হলে বমি ভাব বা ক্লান্তি হতে পারে। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোজেস্টোজেন (স্ত্রী যৌন হরমোন)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে, শিশুদের নাগালের বাইরে অথবা প্যাকে লেখা নির্দেশ অনুযায়ী রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।