ব্যবহার
হাইড্রক্সিইউরিয়া (হাইড্রক্সিকার্বামাইড নামেও পরিচিত) কিছু রক্তের ক্যানসার ও রক্তের রোগে ব্যবহৃত হয়, যেমন ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া, পলিসাইথেমিয়া ভেরা ও এসেনশিয়াল থ্রম্বোসাইথেমিয়া (রক্তকণিকা অতিরিক্ত হওয়ার রোগ), এবং কখনো রেডিওথেরাপির সাথে কিছু টিউমারে। সিকেল সেল রোগে ব্যথার আক্রমণ ও রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন কমাতেও এটি ব্যবহৃত হয়। এটি বিশেষজ্ঞের ঔষধ।
কীভাবে কাজ করে
হাইড্রক্সিইউরিয়া রাইবোনিউক্লিওটাইড রিডাক্টেজ নামের এনজাইমকে বাধা দেয়, যা কোষের ডিএনএ তৈরিতে দরকার। এতে ক্যানসার কোষ ও অতিসক্রিয় অস্থিমজ্জার কোষের মতো দ্রুত বিভাজিত কোষের বৃদ্ধি ধীর হয়। সিকেল সেল রোগে এটি ভ্রূণীয় হিমোগ্লোবিন (HbF) বাড়ায়, ফলে লোহিত কণিকা কাস্তের মতো আকৃতি নিয়ে রক্তনালি আটকানোর সম্ভাবনা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঠিক সেভাবেই খান। মাত্রা শরীরের ওজন ও রোগের উপর নির্ভর করে এবং নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়। ক্যাপসুল সাধারণত দিনে একবার, প্রতিদিন একই সময়ে পানি দিয়ে পুরো গিলে খান; খুলবেন না। ক্যাপসুল ধরার সময় (পরিচর্যাকারীসহ) একবার ব্যবহারযোগ্য গ্লাভস পরুন অথবা স্পর্শের আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা (যেমন মুখে খাওয়ার পোলিও, ইয়েলো ফিভার, এমএমআর বা বিসিজি) এড়িয়ে চলুন। অস্থিমজ্জা দমিয়ে দেওয়া অন্য ঔষধ বা রেডিওথেরাপির সাথে নিলে রক্তকণিকা কমার ঝুঁকি বাড়ে। এইচআইভি রোগীদের ক্ষেত্রে ডিডানোসিন ও স্ট্যাভুডিনের সাথে নিলে অগ্ন্যাশয় ও লিভারের গুরুতর সমস্যা ও স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এটি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বদলাতে পারে, তাই গাউটের ঔষধের মাত্রা পরিবর্তন লাগতে পারে।
কারা খাবেন না
হাইড্রক্সিইউরিয়ায় অ্যালার্জি, অস্থিমজ্জার গুরুতর দমন (শ্বেত কণিকা, অণুচক্রিকা বা লোহিত কণিকা খুব কম) থাকলে বা বুকের দুধ খাওয়ালে এটি ব্যবহার করবেন না। বিশেষজ্ঞ অপরিহার্য মনে না করলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে রক্তকণিকা কমা (সংক্রমণ, রক্তপাত ও রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ায়), বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, মুখে ঘা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক কালো বা শুষ্ক হওয়া, নখের পরিবর্তন ও চুল পাতলা হওয়া। দীর্ঘ ব্যবহারে পায়ে ব্যথাযুক্ত ঘা ও ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ফুসফুসে প্রদাহ, লিভার ও কিডনির পরিবর্তন এবং প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়াও হতে পারে।
জ্বর, কাঁপুনি বা অন্য সংক্রমণের লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, তীব্র ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট, পায়ে ব্যথাযুক্ত ঘা, নতুন কাশি, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
হাইড্রক্সিইউরিয়া গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসার সময় ও বন্ধের পর বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো কয়েক মাস (সাধারণত নারীদের অন্তত ৬ মাস ও পুরুষদের ১ বছর) নারী ও পুরুষ উভয়ের কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ নেওয়া উচিত। পুরুষরা শুরুর আগে শুক্রাণু সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এটি বুকের দুধে যায়, তাই চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে না।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অপরিহার্য। সম্ভব হলে সংক্রমিত ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন। রোদ থেকে ত্বক রক্ষা করুন ও নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করুন। প্রচুর পানি পান করুন। কিডনি বা লিভারের রোগ এবং যারা রেডিওথেরাপি নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। ক্যাপসুল অন্য কাউকে দেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে মুখে তীব্র ঘা, হাত ও পায়ে ব্যথাযুক্ত লাল ফোলা, ত্বকের পরিবর্তন ও রক্তকণিকা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যানসারবিরোধী ঔষধ, অ্যান্টিমেটাবোলাইট (রাইবোনিউক্লিওটাইড রিডাক্টেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ক্যাপসুল মূল পাত্রে রাখুন এবং অব্যবহৃত ক্যাপসুল ফার্মেসিতে ফেরত দিন; ঘরের বর্জ্যে ফেলবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।