বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Iguratimod

  • 2 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 2 টি কোম্পানি

ব্যবহার

ইগুরাটিমড একটি রোগ-পরিবর্তনকারী বাতরোগের ঔষধ (DMARD), অর্থাৎ এটি শুধু ব্যথা কমায় না, রোগের অগ্রগতিও ধীর করে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। এই দীর্ঘমেয়াদি রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে গিঁটে আক্রমণ করে, ফলে ব্যথা, ফোলা ও জড়তা হয়। এটি একা অথবা মেথোট্রেক্সেটের সাথে দেওয়া হতে পারে।

কীভাবে কাজ করে

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে। ইগুরাটিমড প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক বার্তাবাহক (সাইটোকাইন) তৈরি কমায়, বি-কোষের অ্যান্টিবডি তৈরি কমায় এবং প্রদাহ চালু করার একটি সংকেতপথ (NF-kB) বন্ধ রাখে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সেবনে গিঁটের ফোলা, ব্যথা ও ক্ষতি কমে আসে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

চিকিৎসকের (সাধারণত বাতরোগ বিশেষজ্ঞ) নির্দেশ ঠিকঠাক মেনে সেবন করুন। সাধারণত প্রথম ৪ সপ্তাহ দিনে ১ বার ২৫ mg খাবারের পরে দেওয়া হয়, এরপর সহ্য হলে দিনে ২ বার ২৫ mg (সকালের ও রাতের খাবারের পরে) করা হয়। পানি দিয়ে ট্যাবলেট গিলে খান। উপকার ধীরে ধীরে কয়েক সপ্তাহে বোঝা যায়। চিকিৎসার সময় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বদলাবেন না বা বন্ধ করবেন না।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • ওয়ারফারিন: রক্ত পাতলা হওয়ার প্রভাব অনেক বেড়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হতে পারে; দুটি একসাথে ব্যবহার করা যাবে না।
  • ডাইক্লোফেনাক বা আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক (NSAID): পাকস্থলীর ঘা ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
  • মেথোট্রেক্সেট বা লেফ্লুনোমাইডের মতো যকৃৎ বা রক্তকণিকায় প্রভাব ফেলা ঔষধ: আরও ঘন ঘন পরীক্ষা দরকার।
  • সিমেটিডিন ও ফেনোবারবিটাল ইগুরাটিমডের মাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারে।

যেসব ঔষধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজ ব্যবহার করছেন সবই চিকিৎসককে জানান।

কারা খাবেন না

  • ইগুরাটিমড বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
  • গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে।
  • যকৃতের গুরুতর রোগ থাকলে।
  • পাকস্থলী বা ডিওডেনামে সক্রিয় ঘা থাকলে।
  • যারা ওয়ারফারিন খাচ্ছেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে রক্ত পরীক্ষায় যকৃতের এনজাইম বেড়ে যাওয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, মুখে ঘা, র‍্যাশ, চুলকানি ও মাথাব্যথা। কম ক্ষেত্রে শ্বেতকণিকা বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়া, পাকস্থলীতে ঘা বা কিডনির কার্যক্ষমতায় প্রভাব দেখা দিতে পারে।

ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত, না সারা জ্বর বা গলাব্যথা, তীব্র র‍্যাশ বা ফোসকা, অথবা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

প্রাণীর ওপর গবেষণায় গর্ভের শিশুর ক্ষতি দেখা গেছে, তাই গর্ভাবস্থায় ইগুরাটিমড একেবারেই সেবন করা যাবে না। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, তাই সেবনকালে বুকের দুধ খাওয়ানো এড়িয়ে চলুন। পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

সতর্কতা

  • শুরুর আগে এবং চিকিৎসা চলাকালীন, বিশেষ করে প্রথম কয়েক মাসে, নিয়মিত যকৃতের কার্যক্ষমতা ও রক্তকণিকা পরীক্ষা করা উচিত।
  • আগে পাকস্থলীর ঘা, কিডনির সমস্যা, রক্তকণিকা কম বা যকৃতের রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।
  • সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে পারে; জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জানান।
  • বয়স্কদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হতে পারে।
  • মদ্যপান এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে যকৃতের ওপর চাপ বাড়ে।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি সেবন করলে পেটের সমস্যা, যকৃতের ক্ষতি বা রক্তক্ষরণের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। মাত্রাতিরিক্ত সেবনের সন্দেহ হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

রোগ-পরিবর্তনকারী বাতরোগের ঔষধ (DMARD), ইমিউনোমডুলেটর।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Iguratimod এর ব্র্যান্ড

2 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।