ব্যবহার
ইলোপেরিডন একটি অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এই মানসিক রোগে হ্যালুসিনেশন (যা নেই তা শোনা বা দেখা), দৃঢ় ভুল বিশ্বাস, এলোমেলো চিন্তা ও নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া দেখা দিতে পারে। কিছু দেশে বাইপোলার I রোগের ম্যানিক বা মিশ্র পর্বেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইলোপেরিডন একটি এটিপিক্যাল (দ্বিতীয় প্রজন্মের) অ্যান্টিসাইকোটিক। এটি মস্তিষ্কে ডোপামিন D2 ও সেরোটোনিন 5-HT2A রিসেপ্টর বন্ধ করে, যা এই রাসায়নিক বার্তাবাহকের ভারসাম্য ফিরিয়ে সাইকোটিক উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। এটি আলফা-১ রিসেপ্টরও বন্ধ করে, তাই রক্তচাপ কমানোর প্রবণতা থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হওয়া কমাতে ইলোপেরিডন অবশ্যই কম মাত্রায় শুরু করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসকের সূচি অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাড়াতে হয়। চিকিৎসকের নির্দেশমতো দিনে দুবার, খাবারের সাথে বা ছাড়া খাওয়া হয়। ৩ দিনের বেশি ডোজ বাদ পড়লে আগের মাত্রায় আবার শুরু করবেন না; চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন, কারণ মাত্রা আবার ধাপে ধাপে বাড়াতে হতে পারে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
- উপসর্গের উন্নতি স্পষ্ট হতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
শক্তিশালী CYP2D6 বাধাদানকারী (যেমন ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন) ও শক্তিশালী CYP3A4 বাধাদানকারী (যেমন কিটোকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন) এর মাত্রা বাড়ায়, সাধারণত ডোজ অর্ধেক করতে হয়। কিউটি ইন্টারভাল বাড়ায় এমন অন্য ঔষধ, যেমন কিছু অ্যান্টিঅ্যারিদমিক (অ্যামিওডারোন, সোটালল), হ্যালোপেরিডল, সিটালোপ্রাম, মেথাডন ও কিছু অ্যান্টিবায়োটিক বিপজ্জনক হৃদছন্দের ঝুঁকি বাড়ায়। রক্তচাপের ঔষধ মাথা ঘোরা বাড়াতে পারে। অ্যালকোহল ও ঘুমের ঔষধ তন্দ্রাভাব বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- ইলোপেরিডন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- লং কিউটি সিনড্রোম, সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক, অনিয়ন্ত্রিত হার্ট ফেইলিওর বা গুরুতর হৃদছন্দের সমস্যায় সাবধানে ব্যবহার করুন বা এড়িয়ে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথা ঘোরা (বিশেষ করে দাঁড়ালে), তন্দ্রাভাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, নাক বন্ধ হওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন, ওজন বাড়া, ক্লান্তি ও বমিভাব। বীর্যপাতের সমস্যা এবং কদাচিৎ ব্যথাযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী লিঙ্গ উত্থান (প্রায়াপিজম) হতে পারে। রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও প্রোলাকটিন বাড়া এবং নড়াচড়ার সমস্যা হতে পারে।
অজ্ঞান হয়ে গেলে, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, পেশি শক্ত হওয়া, ঘাম ও বিভ্রান্তিসহ উচ্চ জ্বর (নিউরোলেপটিক ম্যালিগন্যান্ট সিনড্রোম), মুখ বা শরীরের অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া, ৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী লিঙ্গ উত্থান, খিঁচুনি, অথবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, কেবল তখনই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করুন; শেষ ত্রৈমাসিকে সংস্পর্শে আসা শিশুর জন্মের পর নড়াচড়ার সমস্যা বা উইথড্রয়াল লক্ষণ হতে পারে। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে চিকিৎসা বন্ধ করবেন না; চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
ডিমেনশিয়াজনিত সাইকোসিসে আক্রান্ত বয়স্কদের অ্যান্টিসাইকোটিক দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে, এবং এই কাজের জন্য এই ঔষধ অনুমোদিত নয়। হৃদরোগ, নিম্ন রক্তচাপ, পানিশূন্যতা, ডায়াবেটিস, খিঁচুনি, লিভারের রোগ এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। নিয়মিত ওজন, রক্তে শর্করা ও চর্বি পরীক্ষা করা উচিত। ঔষধটি আপনার ওপর কী প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না, এবং অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে তীব্র তন্দ্রাভাব, নিম্ন রক্তচাপ, দ্রুত হৃদস্পন্দন, কিউটি দীর্ঘ হওয়া ও অস্বাভাবিক হৃদছন্দ এবং নড়াচড়ার সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন; হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ ও সহায়ক চিকিৎসা দরকার।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
এটিপিক্যাল (দ্বিতীয় প্রজন্মের) অ্যান্টিসাইকোটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।