ব্যবহার
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (মেরুদণ্ডের প্রদাহজনিত বাত), গেঁটে বাতের তীব্র আক্রমণ এবং পেশি, টেন্ডন ও জোড়ার ব্যথা যেমন বার্সাইটিস ও টেন্ডিনাইটিসে ব্যথা, ফোলা ও শক্তভাব কমাতে ইন্ডোমেথাসিন ব্যবহার হয়। মাসিকের ব্যথাতেও এটি দেওয়া হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
ইন্ডোমেথাসিন একটি ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ (NSAID)। এটি COX-1 ও COX-2 নামের এনজাইম আটকে দেয়, যারা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ব্যথা, ফোলা ও জ্বরের জন্য দায়ী।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, ক্যাপসুল: সাধারণত ২৫ mg দিনে ২ বা ৩ বার; প্রয়োজনে ডাক্তার মাত্রা বাড়াতে পারেন। মোট মাত্রা সাধারণত দিনে ৫০ থেকে ১৫০ mg, এবং দিনে ২০০ mg এর বেশি নয়।
- দীর্ঘক্ষণ কাজ করা ৭৫ mg ক্যাপসুল: দিনে ১ বা ২ বার ১টি করে।
- গেঁটে বাতের তীব্র আক্রমণ: সাধারণত দিনে ১৫০ থেকে ২০০ mg ভাগ করে, আক্রমণ কমা পর্যন্ত, তারপর ডাক্তারের পরামর্শে কমানো হয়।
- সাপোজিটরি ১০০ mg: রাতে ১টি, প্রয়োজনে সকালে আরও ১টি। ক্যাপসুল ও সাপোজিটরি মিলিয়ে দিনে ২০০ mg এর বেশি নয়।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
ক্যাপসুল ভাঙবেন না, খাবার বা দুধের সাথে অথবা খাবারের পরে আস্ত গিলে খান। যত কম মাত্রায় কাজ হয় এবং যত কম দিন সম্ভব, ততটুকুই খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো অন্য NSAID এর সাথে খাবেন না। ওয়ারফারিন ও অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ, ক্লোপিডোগ্রেল, প্রেডনিসোলনের মতো স্টেরয়েড এবং সারট্রালিন বা ফ্লুওক্সেটিনের মতো বিষণ্ণতার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এটি উচ্চ রক্তচাপের ঔষধের (ACE ইনহিবিটর, অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার, ডাইইউরেটিক) কাজ কমাতে পারে এবং একসাথে খেলে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট ও ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। প্রোবেনেসিড ইন্ডোমেথাসিনের মাত্রা বাড়ায়। ট্রায়ামটেরিনের সাথে খাবেন না।
কারা খাবেন না
- ইন্ডোমেথাসিনে এলার্জি থাকলে, অথবা অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID খেলে হাঁপানি, চুলকানিযুক্ত চাকা বা নাক দিয়ে পানি পড়ে এমন হলে
- পাকস্থলী বা ডিওডেনামে সক্রিয় আলসার, অথবা পেট বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণ, এখন বা আগে
- গুরুতর হার্ট ফেইলিওর, কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ
- হার্টের বাইপাস অপারেশনের ঠিক পরে ব্যথা কমাতে
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাস
- সাপোজিটরি: মলদ্বারে প্রদাহ বা সম্প্রতি মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা, মাথাব্যথা (প্রায়ই সকালে বেশি), মাথা ঘোরা ও ঘুম ঘুম ভাব। এছাড়া পায়ের গোড়ালি ফোলা, রক্তচাপ বাড়া, কানে শব্দ হওয়া, ঝাপসা দেখা, মন খারাপ বা বিভ্রান্তি হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের।
কালো বা আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি বা কফির দানার মতো বমি, তীব্র পেটব্যথা, বুকে ব্যথা, শরীরের একপাশ হঠাৎ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফোলা, তীব্র র্যাশ বা ফোসকা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা প্রস্রাব অনেক কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার অত্যাবশ্যক মনে না করলে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন। শেষ ৩ মাসে একেবারেই খাবেন না, কারণ এটি শিশুর হৃদপিণ্ড ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং প্রসব দেরি করাতে পারে; ২০ সপ্তাহ থেকে শুধু ডাক্তারের সুনির্দিষ্ট পরামর্শে খাবেন। এটি বুকের দুধে যায়, তাই দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়া উচিত নয়; নিরাপদ বিকল্পের জন্য ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- বেশি মাত্রায় ও দীর্ঘদিন খেলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ বা এর ঝুঁকি আছে।
- বয়স্ক হলে, আগে পেটে আলসার হয়ে থাকলে, অথবা উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা লিভারের রোগ, হাঁপানি, মৃগী, পারকিনসন রোগ বা মানসিক সমস্যা থাকলে বাড়তি সতর্ক থাকুন।
- মাথা ঘোরা ও ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে; এমন হলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- দীর্ঘদিন খেলে রক্ত পরীক্ষা ও চোখ পরীক্ষা লাগতে পারে।
- মদ্যপান এড়িয়ে চলুন, এতে পেটের জ্বালা বাড়ে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বমি বমি ভাব, বমি, তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, ঝিমুনি, পেটব্যথা বা রক্তক্ষরণ এবং কদাচিৎ খিঁচুনি হতে পারে। কোনো লক্ষণ না থাকলেও সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ (NSAID)।
সংরক্ষণ
ক্যাপসুল ৩০°C এর নিচে এবং সাপোজিটরি ২৫°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।