ব্যবহার
ইন্টারফেরন আলফা-২এ একটি ইনজেকশনযোগ্য ঔষধ, যা কিছু দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাস সংক্রমণ ও কিছু ক্যান্সারে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে আছে দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি ও সি (এখন সাধারণত নতুন ট্যাবলেট ব্যবহৃত হয়), হেয়ারি সেল লিউকেমিয়া, ক্রোনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া, কিছু লিমফোমা, কাপোসিস সারকোমা, অগ্রসর কিডনি ক্যান্সার ও ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা।
কীভাবে কাজ করে
ইন্টারফেরন হলো এমন প্রোটিন যা শরীর স্বাভাবিকভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৈরি করে। ইন্টারফেরন আলফা-২এ এর ল্যাবরেটরিতে তৈরি রূপ। এটি শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে, কোষে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি কমায়, কিছু ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ধীর করে এবং আক্রান্ত বা অস্বাভাবিক কোষ আক্রমণকারী রোগ প্রতিরোধ কোষকে শক্তিশালী করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ইন্টারফেরন আলফা-২এ চামড়ার নিচে বা মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। মাত্রা, কত ঘন ঘন এবং কতদিন চলবে তা রোগ অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঠিক করেন; ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ব্যবহার করুন। প্রথম ইনজেকশনগুলো চিকিৎসক বা নার্স দেন বা তত্ত্বাবধান করেন। পরে কিছু রোগীকে বাড়িতে নিজে ইনজেকশন নিতে শেখানো হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি থিওফাইলিন ও লিভারে ভাঙা কিছু ঔষধের রক্তের মাত্রা বাড়াতে পারে। অস্থিমজ্জা দমিয়ে দেয় এমন ঔষধের (যেমন জিডোভুডিন বা ক্যান্সারের ঔষধ) সাথে ব্যবহারে রক্তকণিকা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। স্নায়ু ক্ষতির ঝুঁকির কারণে টেলবিভুডিনের সাথে ব্যবহার করা উচিত নয়। ঘুমের ঔষধ ও শক্তিশালী ব্যথানাশকসহ মস্তিষ্কে কাজ করে এমন ঔষধ ঘুমঘুম ভাব বা মেজাজের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
ইন্টারফেরন আলফায় অ্যালার্জি, গুরুতর হৃদরোগ, গুরুতর লিভার বা কিডনির রোগ, জটিল সিরোসিস, অটোইমিউন হেপাটাইটিস, গুরুতর বিষণ্ণতা বা আত্মহত্যার চিন্তার ইতিহাস, অনিয়ন্ত্রিত মৃগী, অথবা অনিয়ন্ত্রিত থাইরয়েড রোগ থাকলে এটি ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ফ্লুর মতো লক্ষণ (জ্বর, কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি) খুব সাধারণ, বিশেষ করে শুরুতে। এছাড়া ক্ষুধামন্দা, ওজন কমা, বমি ভাব, ডায়রিয়া, চুল পাতলা হওয়া, রক্তকণিকা কমা, থাইরয়েডের পরিবর্তন, মন খারাপ, খিটখিটে মেজাজ ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা বা গুরুতর বিষণ্ণতা, বুকে ব্যথা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন, উচ্চ জ্বরসহ সংক্রমণের লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা কালশিটে দাগ, পেটে তীব্র ব্যথা, অথবা ত্বক বা চোখ হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
বিশেষজ্ঞ অত্যাবশ্যক মনে না করলে গর্ভাবস্থায় এটি সাধারণত এড়ানো হয়। রিবাভিরিনের সাথে ব্যবহার করলে চিকিৎসার সময় ও পরের কয়েক মাস নারী রোগী এবং পুরুষ রোগীর সঙ্গিনী উভয়ের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ কঠোরভাবে এড়াতে হবে, কারণ রিবাভিরিন গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করে। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো পরামর্শ করা হয় না।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, লিভার ও থাইরয়েডের পরীক্ষা এবং চোখ পরীক্ষা দরকার। রোগী, পরিবার ও চিকিৎসককে মেজাজের পরিবর্তন খেয়াল রাখতে হবে। প্রচুর পানি পান করুন। পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ফ্লুর মতো লক্ষণ কমাতে পারে। ক্লান্তি গাড়ি চালানোতে প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ বন্ধ বা মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে তীব্র ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব ও অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন; উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিউনোমডিউলেটর, অ্যান্টিভাইরাল ও ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ (ইন্টারফেরন)।
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না। আলো থেকে রক্ষার জন্য আসল প্যাকে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।