ব্যবহার
ইনসুলিন ডেগলুডেক একটি দীর্ঘস্থায়ী (বেসাল) ইনসুলিন, যা ডায়াবেটিস মেলিটাসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক, কিশোর এবং ১ বছর বয়স থেকে শিশুদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। দ্রুত কার্যকর ইনসুলিন অ্যাসপার্টের সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশ্রিত আকারেও এটি পাওয়া যায়, যা সারাদিনের মৌলিক চাহিদা ও প্রধান খাবারের পর শর্করা বাড়া দুটোই সামলায়।
কীভাবে কাজ করে
ইনসুলিন রক্ত থেকে শর্করাকে শরীরের কোষে ঢুকতে সাহায্য করে, যেখানে তা শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং লিভারকে অতিরিক্ত শর্করা ছাড়তে বাধা দেয়। চামড়ার নিচে ইনজেকশনের পর ইনসুলিন ডেগলুডেক একটি মজুত তৈরি করে, যেখান থেকে ধীরে ও স্থিরভাবে নিঃসৃত হয়। ফলে এর প্রভাব ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় সমানভাবে থাকে এবং রাতে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি কম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সাধারণত দিনে একবার উরু, বাহুর উপরের অংশ বা পেটের চামড়ার নিচে ইনজেকশন দিতে হয়। মাত্রা প্রত্যেকের জন্য আলাদা এবং রক্তের শর্করা দেখে ডাক্তার ঠিক করেন। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে নেওয়া ভালো; প্রয়োজনে সময় বদলানো যায়, তবে দুই ডোজের মধ্যে অন্তত ৮ ঘণ্টা ব্যবধান রাখতে হবে। ইনসুলিন অ্যাসপার্টের সাথে মিশ্রিত রূপটি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দিনে ১ বা ২ বার প্রধান খাবারের সাথে নিতে হয়। প্রতিবার ইনজেকশনের জায়গা বদলান। কখনো শিরায় বা মাংসপেশিতে দেবেন না বা ইনসুলিন পাম্পে ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ডায়াবেটিসের অন্য ঔষধ, এসিই ইনহিবিটর ও কিছু অ্যান্টিবায়োটিক শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কর্টিকোস্টেরয়েড, থায়াজাইড ডাইইউরেটিক, থাইরয়েড হরমোন ও কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। প্রোপ্রানোললের মতো বিটা ব্লকার শর্করা কমার সতর্ক সংকেত ঢেকে দিতে পারে। ইনসুলিনের সাথে পিওগ্লিটাজোন হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অ্যালকোহল অপ্রত্যাশিতভাবে শর্করা কমিয়ে দিতে পারে।
কারা খাবেন না
ইনসুলিন ডেগলুডেক বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) অবস্থায় এটি ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তে শর্করা কমে যাওয়া, যার লক্ষণ ঘাম, কাঁপুনি, বুক ধড়ফড়, ক্ষুধা, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা বা বিভ্রান্তি। অন্যান্য:
- ইনজেকশনের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলা বা চুলকানি
- একই জায়গায় বারবার দিলে চামড়ার নিচে দলা বা চামড়া মোটা হয়ে যাওয়া
- গোড়ালি ফোলা বা ওজন বেড়ে যাওয়া
বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো গুরুতর শর্করা কমে যাওয়া, অথবা সারা গায়ে র্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের জন্য ইনসুলিনই পছন্দের চিকিৎসা, এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ইনসুলিন ডেগলুডেক ব্যবহার করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পর ইনসুলিনের চাহিদা বদলায়, তাই ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ দরকার। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি ব্যবহার করা যায়।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে মাত্রা, খাবার বা ব্যায়াম বদলালে এবং অসুস্থতার সময়। শর্করা কমে গেলে খাওয়ার জন্য সবসময় চিনি বা মিষ্টি সাথে রাখুন। ভুল এড়াতে প্রতিটি ইনজেকশনের আগে ইনসুলিনের নাম ও শক্তি মিলিয়ে নিন, এবং কখনো পেন বা সুঁই অন্যের সাথে ভাগ করবেন না। শর্করা কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ইনসুলিনে রক্তে শর্করা কমে যায়। হালকা লক্ষণে ১৫ থেকে ২০ g দ্রুত কার্যকর শর্করা (যেমন গ্লুকোজ ট্যাবলেট, জুস বা পানিতে চিনি) খান এবং পরে হালকা খাবার খান। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর শর্করা কমে যাওয়া জরুরি অবস্থা; তখন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্লুকাগন বা শিরায় গ্লুকোজ দিতে হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসরোধী ঔষধ (দীর্ঘস্থায়ী বেসাল ইনসুলিন অ্যানালগ)।
সংরক্ষণ
প্রথম ব্যবহারের আগে রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন। জমাবেন না এবং ফ্রিজারের অংশ থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহার শুরুর পর পেনটি লিফলেটে লেখা সময় পর্যন্ত ৩০°C এর নিচে ঘরের তাপমাত্রায় রাখা যায়। আলো থেকে রক্ষা করতে ক্যাপ লাগিয়ে রাখুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।