ব্যবহার
ইনসুলিন ডিটেমির একটি দীর্ঘক্ষণ কার্যকর (বেসাল) ইনসুলিন, যা প্রাপ্তবয়স্ক, কিশোর এবং ১ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ডায়াবেটিসে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে খাবারের সময়ের ইনসুলিনের সাথে, এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসে এককভাবে বা মেটফরমিনের মতো ট্যাবলেট বা খাবারের সময়ের ইনসুলিনের সাথে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইনসুলিন ডিটেমির মানব ইনসুলিনের একটি পরিবর্তিত রূপ। চামড়ার নিচে ইনজেকশনের পর এর অণুগুলো একসাথে লেগে থাকে এবং অ্যালবুমিনের (রক্তের একটি প্রোটিন) সাথে যুক্ত হয়, তাই অনেক ঘণ্টা ধরে ধীরে ও স্থিরভাবে মুক্ত হয়। এতে একটি পটভূমি মাত্রার ইনসুলিন থাকে, যা রক্ত থেকে শর্করা কোষে নিতে সাহায্য করে এবং খাবারের মাঝখানে ও রাতে লিভারকে বেশি শর্করা ছাড়তে বাধা দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা ব্যক্তিভেদে আলাদা এবং রক্তের শর্করার মাপ, ওজন, খাদ্যাভ্যাস ও কাজকর্ম দেখে ডাক্তার ঠিক করেন। সাধারণত উরু, পেট বা বাহুর উপরের অংশে চামড়ার নিচে দিনে এক বা দুইবার, প্রতিদিন একই সময়ে ইনজেকশন দেওয়া হয়। চামড়ার নিচে গিঁট এড়াতে প্রতিবার ইনজেকশনের জায়গা বদলান। কখনো শিরা বা মাংসপেশিতে দেবেন না, একই সিরিঞ্জে অন্য ইনসুলিনের সাথে মেশাবেন না, এবং নতুন সুই লাগিয়েও কখনো কারও সাথে পেন ভাগ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধ, এনালাপ্রিলের মতো এসিই ইনহিবিটর, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, স্যালিসিলেট ও অ্যালকোহল রক্তের শর্করা আরও কমাতে পারে।
- প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েড, থায়াজাইড ডাইউরেটিক, থাইরয়েড হরমোন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক রক্তের শর্করা বাড়াতে পারে।
- প্রোপ্রানোললের মতো বিটা ব্লকার রক্তে শর্করা কমার সতর্ক সংকেত লুকিয়ে দিতে পারে।
- ইনসুলিনের সাথে পায়োগ্লিটাজোন শরীরে পানি জমা ও হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- ইনসুলিন ডিটেমির বা ইনজেকশনের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- রক্তে শর্করা কম থাকার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) সময় এটি ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রক্তে শর্করা কমে যাওয়া, যাতে কাঁপুনি, ঘাম, ক্ষুধা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি বা খিটখিটে ভাব হয়। এছাড়া ইনজেকশনের জায়গায় লালভাব, ফোলা বা চুলকানি, একই জায়গায় বারবার ইনজেকশনে চামড়া মোটা বা ডেবে যাওয়া, শুরুতে হালকা ওজন বাড়া ও গোড়ালি ফোলা হতে পারে। বিরল: সারা শরীরে অ্যালার্জি, দৃষ্টিতে সাময়িক পরিবর্তন।
রক্তে শর্করা খুব কমে গিয়ে বিভ্রান্তি, ঘুম ঘুম ভাব, গিলতে না পারা, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হলে (গিলতে না পারলে মুখে খাবার বা পানীয় দেবেন না), অথবা মুখ বা গলা ফুলে গেলে বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ইনসুলিন ডিটেমির ব্যবহার করা যায়। শিশুর জন্য রক্তের শর্করা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি, এবং গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পর ইনসুলিনের চাহিদা সাধারণত বদলায়, তাই ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও ডাক্তারের মাধ্যমে মাত্রা পরিবর্তন দরকার।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে মাত্রা বদলালে, অসুখের সময়, বাড়তি ব্যায়ামে, রমজানের মতো রোজার সময় বা ভিন্ন টাইম জোনে ভ্রমণে। সবসময় গ্লুকোজ বা মিষ্টি সাথে রাখুন। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন বন্ধ করবেন না, এতে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হতে পারে। শর্করা কমার ঝুঁকি থাকলে গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন। কিডনি বা লিভারের রোগে ইনসুলিনের চাহিদা কমতে পারে। ইনসুলিন গুলিয়ে ফেলা এড়াতে প্রতিবার লেবেল দেখে নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত ইনসুলিনে রক্তে শর্করা কমে যায়। হালকা লক্ষণে গ্লুকোজ ট্যাবলেট, চিনি, জুস বা মিষ্টি খান, তারপর হালকা খাবার খান। তীব্র ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে গ্লুকাগন ইনজেকশন বা শিরায় গ্লুকোজের মতো জরুরি চিকিৎসা দরকার।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসের ঔষধ, দীর্ঘক্ষণ কার্যকর ইনসুলিন অ্যানালগ
সংরক্ষণ
অব্যবহৃত পেন বা ভায়াল ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন; জমাবেন না এবং ফ্রিজারের কাছ থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহার শুরু করলে ৩০°C এর নিচে রাখুন এবং প্যাকে লেখা সময়ের (সাধারণত ৬ সপ্তাহ) মধ্যে শেষ করুন। তাপ ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।