ব্যবহার
ইনসুলিন গ্লুলিসিন একটি দ্রুত কার্যকর ইনসুলিন, যা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু যাদের ইনসুলিন দরকার, তাদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত খাবারের পর রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি (বেসাল) ইনসুলিনের সাথে ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইনসুলিন গ্লুলিসিন হলো মানুষের ইনসুলিনের একটি কৃত্রিম রূপ, যাতে সামান্য পরিবর্তনের ফলে ইনজেকশনের পর দ্রুত শোষিত হয়। এটি প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করে, প্রায় ১ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ কার্যকর হয় এবং কয়েক ঘণ্টা থাকে। প্রাকৃতিক ইনসুলিনের মতোই এটি পেশি ও চর্বি কোষকে রক্ত থেকে গ্লুকোজ নিতে সাহায্য করে এবং যকৃৎ থেকে গ্লুকোজ নিঃসরণ কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা চিকিৎসক ঠিক করে দেবেন এবং রক্তের শর্করার মাপ, খাবার ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী বদলাবেন। এটি পেট, ঊরু বা বাহুর উপরের অংশে ত্বকের নিচে দেওয়া হয়, সাধারণত খাবারের ০ থেকে ১৫ মিনিট আগে অথবা খাওয়া শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যে। ত্বকের নিচে দলা হওয়া এড়াতে প্রতিবার জায়গা বদলান। হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স এটি শিরাপথেও দিতে পারেন। সুই বদলালেও কখনো অন্যের সাথে পেন বা সুই ভাগাভাগি করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অনেক ঔষধ ইনসুলিনের প্রয়োজন বদলে দেয়। অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধ, এসিই ইনহিবিটর, ফ্লুওক্সেটিন, এমএও ইনহিবিটর, স্যালিসাইলেট ও কিছু অ্যান্টিবায়োটিকে শর্করা আরও কমতে পারে। কর্টিকোস্টেরয়েড, থায়াজাইড মূত্রবর্ধক, থাইরয়েড হরমোন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ওলানজাপিন, ক্লোজাপিন ও কিছু এইচআইভির ঔষধে শর্করা বাড়তে পারে। প্রোপ্রানোললের মতো বিটা ব্লকার শর্করা কমে যাওয়ার সতর্ক লক্ষণ লুকিয়ে ফেলতে পারে। মদ্যপানে শর্করা কমে যেতে পারে। ইনসুলিনের সাথে পায়োগ্লিটাজোন নিলে শরীরে পানি জমে হার্ট ফেইলিওর হতে পারে। যে সব ঔষধ খান, চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) সময় অথবা ইনসুলিন গ্লুলিসিন বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তে শর্করা কমে যাওয়া, যাতে ঘাম, কাঁপুনি, বুক ধড়ফড়, ক্ষুধা, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা বা বিভ্রান্তি হয়। এছাড়া ইনজেকশনের জায়গায় লাল হওয়া, ফোলা বা চুলকানি, একই জায়গায় বারবার দিলে ত্বক মোটা বা বসে যাওয়া, ওজন বাড়া এবং কদাচিৎ পটাশিয়াম কমে যেতে পারে।
শর্করা মারাত্মক কমে গেলে (বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া বা গিলতে না পারা) অথবা সারা শরীরে র্যাশ, মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। শর্করা কমে গেলে রোগী জেগে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে চিনি, গ্লুকোজ বা মিষ্টি পানীয় খাওয়ান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় রক্তের শর্করা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি। চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ইনসুলিন ব্যবহার করা যায়, তবে গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পর ইনসুলিনের প্রয়োজন বদলায়, তাই চিকিৎসককে দিয়ে মাত্রা পুনর্বিবেচনা করাতে হবে।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তের শর্করা মাপুন, বিশেষ করে মাত্রা, খাবার, ব্যায়াম বদলালে বা অসুস্থ থাকলে।
- ইনজেকশনের পর অবশ্যই কিছুক্ষণের মধ্যে খাবার খান।
- সব সময় সাথে চিনি বা মিষ্টি কিছু রাখুন।
- কিডনি বা যকৃতের রোগ, সংক্রমণ, মানসিক চাপ ও খাবার বাদ দিলে ইনসুলিনের প্রয়োজন বদলাতে পারে।
- শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলে গাড়ি চালানো বা যন্ত্র চালানোয় সাবধান থাকুন।
- ভুল এড়াতে প্রতিবার ইনজেকশনের আগে ইনসুলিনের ধরন ও শক্তি মিলিয়ে নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ইনসুলিনে রক্তের শর্করা কমে যায়। হালকা হলে চিনি বা মিষ্টি পানীয় খেয়ে পরে হালকা খাবার খান। অজ্ঞান হওয়া বা খিঁচুনির মতো গুরুতর অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে গ্লুকাগন ইনজেকশন বা শিরাপথে গ্লুকোজ দিতে হয় এবং পরে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়, কারণ শর্করা আবার কমে যেতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
দ্রুত কার্যকর ইনসুলিন অ্যানালগ (ডায়াবেটিসরোধী)
সংরক্ষণ
না খোলা পেন ও ভায়াল ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না, এবং আলো থেকে দূরে মোড়কের ভেতরে রাখুন। ব্যবহার শুরু করা পেন বা ভায়াল ২৫°C এর নিচে সর্বোচ্চ ২৮ দিন রাখা যায়; প্যাকে নিষেধ থাকলে চালু পেন আবার ফ্রিজে রাখবেন না। জমে যাওয়া, ঘোলা বা কণাযুক্ত ইনসুলিন ব্যবহার করবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।