ব্যবহার
ইনসুলিন (হিউম্যান) ৩০/৭০ একটি আগে থেকে মেশানো ইনসুলিন, যা ইনসুলিন প্রয়োজন এমন টাইপ ১ বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তশর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়। এতে ৩০% স্বল্পমেয়াদী (সলিউবল) ইনসুলিন ও ৭০% মধ্যমেয়াদী (আইসোফেন বা NPH) ইনসুলিন থাকে।
কীভাবে কাজ করে
ইনসুলিন শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন, যা কোষকে রক্ত থেকে চিনি নিয়ে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে এবং লিভারকে বেশি চিনি ছাড়তে বাধা দেয়। সলিউবল অংশটি প্রায় ৩০ মিনিটে কাজ শুরু করে এবং ইনজেকশনের পরের খাবারের চিনি সামলায়; আইসোফেন অংশটি ধীরে কাজ করে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পটভূমিতে নিয়ন্ত্রণ দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
রক্তশর্করার মান, খাদ্যাভ্যাস ও পরিশ্রম দেখে চিকিৎসক প্রত্যেকের জন্য আলাদা মাত্রা ঠিক করেন। সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার, খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে পেট, উরু, নিতম্ব বা বাহুর উপরের অংশে চামড়ার নিচে ইনজেকশন দিতে হয়। প্রতিবার ইনজেকশনের আগে ভায়াল বা পেন আলতো করে গড়িয়ে ও উল্টে ইনসুলিন সমানভাবে ঘোলাটে করে নিন; জোরে ঝাঁকাবেন না। একই এলাকার মধ্যে ইনজেকশনের জায়গা পরিবর্তন করুন। কখনো শিরায় দেবেন না এবং পেন বা সুই কারও সাথে ভাগ করবেন না। চিকিৎসক বা নার্স ইনজেকশন দেওয়া শিখিয়ে দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রক্তশর্করা আরও কমাতে পারে: অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধ (যেমন মেটফরমিন, গ্লিক্লাজাইড), ACE ইনহিবিটর, উচ্চ মাত্রার অ্যাসপিরিন, কিছু বিষণ্নতার ঔষধ ও অ্যালকোহল।
- রক্তশর্করা বাড়াতে পারে: কর্টিকোস্টেরয়েড (যেমন প্রেডনিসোলোন), থায়াজাইড মূত্রবর্ধক, থাইরয়েড হরমোন, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক (যেমন ওলানজাপিন) ও সালবিউটামল।
- বিটা ব্লকার (যেমন প্রোপ্রানোলল) রক্তশর্করা কমে যাওয়ার সতর্ক লক্ষণ লুকিয়ে ফেলতে পারে।
- ইনসুলিনের সাথে পাইওগ্লিটাজোন শরীরে পানি জমা ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- মাত্রা নেওয়ার সময় রক্তশর্করা কম থাকলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)।
- হিউম্যান ইনসুলিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ হলো রক্তশর্করা কমে যাওয়া: কাঁপুনি, ঘাম, ক্ষুধা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা বা বিভ্রান্তি। এছাড়া ইনজেকশনের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলা বা চুলকানি, একই জায়গায় বারবার দিলে চামড়ায় দলা বা গর্ত, সামান্য ওজন বাড়া ও গোড়ালি ফোলা হতে পারে।
চিনি খাওয়ার পরেও রক্তশর্করা না বাড়লে, অথবা রোগী ঝিমিয়ে পড়লে, বিভ্রান্ত হলে, খিঁচুনি হলে বা অজ্ঞান হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন; সারা শরীরে র্যাশ, মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণেও।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের জন্য হিউম্যান ইনসুলিন পছন্দসই চিকিৎসা এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পর ইনসুলিনের চাহিদা প্রায়ই বদলায়, তাই নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসকের মাধ্যমে মাত্রা সমন্বয় দরকার।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্তশর্করা পরীক্ষা করুন এবং সবসময় সাথে মিষ্টি খাবার রাখুন। ইনজেকশনের পর খাবার বাদ দেবেন না। অসুখ, বমি, ব্যায়াম, অ্যালকোহল ও অন্য ইনসুলিনে বদলালে চাহিদা পরিবর্তন হতে পারে। ঘন ঘন রক্তশর্করা কমলে গাড়ি চালানোর আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। মেশানোর পর দলা দলা, বরফের মতো বা রঙ বদলানো ইনসুলিন ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ইনসুলিনে রক্তশর্করা কমে যায়। রোগী জেগে থাকলে গ্লুকোজ, চিনি, জুস বা মিষ্টি দিন, তারপর খাবার। অজ্ঞান হলে মুখে কিছু দেবেন না; জরুরি চিকিৎসা নিন, সেখানে ইনজেকশনে গ্লুকোজ বা গ্লুকাগন দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসরোধী, প্রিমিক্সড হিউম্যান ইনসুলিন (স্বল্পমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদী)।
সংরক্ষণ
অখোলা ভায়াল ও পেন রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন; জমাবেন না। ব্যবহাররত ভায়াল বা পেন ২৫ থেকে ৩০°C এর নিচে, তাপ ও আলো থেকে দূরে, প্যাকেটে লেখা সময় পর্যন্ত (সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ) রাখা যায়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।