ব্যবহার
ইনসুলিন (হিউম্যান) ৫০/৫০ একটি আগে থেকে মেশানো ইনসুলিন, যাতে ৫০% স্বল্পক্ষণ কার্যকর (সলিউবল বা রেগুলার) এবং ৫০% মাঝারি সময় কার্যকর (আইসোফেন বা এনপিএইচ) হিউম্যান ইনসুলিন থাকে। ইনসুলিন দরকার এমন ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে যাদের খাওয়ার পর শর্করা অনেক বেড়ে যায় এবং যারা দিনে ২ বার ইনজেকশন নিতে চান।
কীভাবে কাজ করে
ইনসুলিন হলো সেই হরমোন যা রক্ত থেকে শর্করা শরীরের কোষে নিয়ে যায়। স্বল্পক্ষণ কার্যকর অংশ প্রায় ৩০ মিনিটে কাজ শুরু করে এবং ইনজেকশনের পরের খাবারের শর্করা সামলায়। মাঝারি সময় কার্যকর অংশ ধীরে কাজ করে ও দীর্ঘক্ষণ থাকে, কয়েক ঘণ্টা পটভূমি ইনসুলিন দেয়। দুটি মিলে দিনের বেশিরভাগ সময় রক্তে শর্করা কমিয়ে রাখে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা ব্যক্তিগত এবং রক্তে শর্করার মাপ অনুযায়ী চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে ঠিক করে দেন। সাধারণত সকালের নাস্তা ও রাতের খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে পেট, উরু বা বাহুর ত্বকের নিচে ইনজেকশন দেওয়া হয়। প্রতিবার ইনজেকশনের আগে ভায়াল বা পেন আলতোভাবে গড়িয়ে ও উল্টে তরল সমানভাবে ঘোলাটে করুন; জোরে ঝাঁকাবেন না। প্রতিবার জায়গা বদলান। কখনো শিরায় দেবেন না। পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বদলাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অনেক ঔষধ রক্তে শর্করার উপর প্রভাব ফেলে। অন্যান্য ডায়াবেটিসের ঔষধ, এনালাপ্রিলের মতো এসিই ইনহিবিটর, উচ্চমাত্রার অ্যাসপিরিন, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ও অ্যালকোহল শর্করা আরও কমাতে পারে। প্রেডনিসোলোনের মতো কর্টিকোস্টেরয়েড, থায়াজাইড মূত্রবর্ধক, থাইরয়েড হরমোন ও কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক শর্করা বাড়াতে পারে। প্রোপ্রানোললের মতো বিটা ব্লকার শর্করা কমার সতর্কসংকেত লুকিয়ে ফেলতে পারে। ইনসুলিনের সাথে পায়োগ্লিটাজোন খেলে শরীরে পানি জমা ও হার্ট ফেইলিউর হতে পারে।
কারা খাবেন না
সে সময় রক্তে শর্করা কম থাকলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া), অথবা হিউম্যান ইনসুলিন বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ইনজেকশন দেবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া): কাঁপুনি, ঘাম, বুক ধড়ফড়, ক্ষুধা, বিভ্রান্তি, খিটখিটে মেজাজ
- ইনজেকশনের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলা বা চুলকানি
- একই জায়গায় বারবার দিলে ত্বকের নিচে দলা বা গর্ত
- ওজন বৃদ্ধি
- শুরুতে সাময়িক ঝাপসা দেখা বা গোড়ালি ফোলা
শর্করা কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে চিনি, গ্লুকোজ ট্যাবলেট বা মিষ্টি পানীয় খান, তারপর হালকা খাবার খান। রোগী ঝিমিয়ে পড়লে, বিভ্রান্ত হলে, গিলতে না পারলে বা অজ্ঞান হলে, খিঁচুনি হলে, অথবা বমি, গভীর দ্রুত শ্বাস বা নিঃশ্বাসে ফলের মতো গন্ধসহ খুব বেশি শর্করা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণেও দ্রুত সাহায্য নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের জন্য হিউম্যান ইনসুলিন পছন্দসই চিকিৎসা এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পর ইনসুলিনের প্রয়োজন বদলায়, তাই ঘন ঘন শর্করা পরীক্ষা করে চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করবেন।
সতর্কতা
নিয়মিত শর্করা পরীক্ষা করুন, শর্করা কমার লক্ষণ চিনুন এবং সবসময় সাথে চিনি রাখুন। ইনজেকশনের পর খাবার বাদ দেবেন না। অসুখ, ব্যায়াম, অ্যালকোহল ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে ইনসুলিনের প্রয়োজন বদলাতে পারে। কখনো পেন বা সুই অন্যের সাথে ভাগ করবেন না। ইনসুলিনের শক্তি (যেমন ১০০ IU/ml) দেখে মিলিয়ে সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন। গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ইনসুলিনে রক্তে শর্করা কমে যায়, যা চিকিৎসা না হলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া এমনকি মৃত্যু ঘটাতে পারে। জাগ্রত থাকলে মুখে চিনি দিন; অজ্ঞান হলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসবিরোধী; আগে থেকে মেশানো হিউম্যান ইনসুলিন (স্বল্পক্ষণ ও মাঝারি সময় কার্যকর)।
সংরক্ষণ
খোলা হয়নি এমন: ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন; জমাবেন না। ব্যবহাররত অবস্থায়: প্যাকে লেখা সময় পর্যন্ত (সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ) ২৫ থেকে ৩০°C এর নিচে, তাপ ও আলো থেকে দূরে রাখা যায়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমে গেলে বা মেশানোর পরও দলা থাকলে ব্যবহার করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।