ব্যবহার
ইনসুলিন (হিউম্যান) এন, যাকে এনপিএইচ বা আইসোফেন ইনসুলিনও বলা হয়, একটি মাঝারি সময় কার্যকর ইনসুলিন। টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে যখন ইনসুলিন দরকার হয়, তখন রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহৃত হয়। প্রায়ই এটি স্বল্প সময় কার্যকর (রেগুলার) ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ট্যাবলেটের সাথে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইনসুলিন এমন একটি হরমোন যা রক্ত থেকে শর্করা (গ্লুকোজ) শরীরের কোষে নিয়ে যায় শক্তি তৈরির জন্য এবং লিভার থেকে অতিরিক্ত শর্করা বের হওয়া থামায়। এনপিএইচ ইনসুলিনে হিউম্যান ইনসুলিনের সাথে প্রোটামিন নামের প্রোটিন মেশানো থাকে, ফলে এটি ধীরে শোষিত হয়। সাধারণত ১ থেকে ২ ঘণ্টায় কাজ শুরু করে, প্রায় ৪ থেকে ১২ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখায় এবং প্রায় ১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
আপনার জন্য মাত্রা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন এবং রক্তের শর্করা, খাবার ও কাজের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তন করবেন; ঠিক নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। পেট, ঊরু, বাহুর উপরের অংশ বা নিতম্বের চামড়ার নিচে সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার ইনজেকশন দেওয়া হয়। ব্যবহারের আগে ভায়াল বা পেন আস্তে আস্তে ১০ থেকে ২০ বার গড়িয়ে ও উল্টে নিন যতক্ষণ না তরল সমানভাবে ঘোলা হয়; জোরে ঝাঁকাবেন না। প্রতিবার ইনজেকশনের জায়গা বদলান। কখনোই শিরায় দেবেন না। নার্স বা চিকিৎসক আপনাকে ইনজেকশন দেওয়া ও শর্করা মাপা শিখিয়ে দেবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অনেক ঔষধ রক্তের শর্করা বদলে দেয়। অন্যান্য ডায়াবেটিসের ঔষধ, অ্যালকোহল, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ও এসিই ইনহিবিটর শর্করা আরও কমাতে পারে। প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েড, থায়াজাইড ডাইইউরেটিক, থাইরয়েড হরমোন, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি শর্করা বাড়াতে পারে, ফলে বেশি ইনসুলিন লাগতে পারে। প্রোপ্রানোললের মতো বিটা ব্লকার শর্করা কমে যাওয়ার সতর্ক লক্ষণ লুকিয়ে ফেলতে পারে। পিওগ্লিটাজোন ইনসুলিনের সাথে নিলে শরীরে পানি জমা বাড়তে পারে। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
রক্তের শর্করা কম থাকলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) অথবা হিউম্যান ইনসুলিন বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ইনসুলিন দেবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তের শর্করা কমে যাওয়া, যাতে ঘাম, কাঁপুনি, ক্ষুধা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি বা খিটখিটে ভাব হয়। এছাড়া ইনজেকশনের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলা বা চুলকানি, একই জায়গায় বারবার দেওয়ায় চামড়ার নিচে দলা বা গর্ত, ওজন বৃদ্ধি ও গোড়ালি সামান্য ফোলা হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে পটাশিয়াম কমে যেতে পারে।
শর্করা মারাত্মকভাবে কমে গেলে (বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, অচেতন হওয়া) অথবা সারা শরীরে র্যাশ, মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। শর্করা কমার লক্ষণ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিনি, গ্লুকোজ ট্যাবলেট বা মিষ্টি পানীয় খান, তারপর কিছু হালকা খাবার খান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হিউম্যান ইনসুলিন একটি পছন্দের চিকিৎসা এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পরে ইনসুলিনের প্রয়োজন সাধারণত বদলায়, তাই চিকিৎসকের সাথে নিয়মিত শর্করা পরীক্ষা করুন।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্তের শর্করা মাপুন। খাবার বাদ দেওয়া, অতিরিক্ত ব্যায়াম, অ্যালকোহল, অসুস্থতা, বমি এবং কিডনি ও লিভারের সমস্যা ইনসুলিনের প্রয়োজন বদলে দিতে পারে। সবসময় সাথে চিনি বা গ্লুকোজ রাখুন। ইনসুলিন পেন বা সুই কখনো অন্যের সাথে ভাগ করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনসুলিনের ধরন বা ব্র্যান্ড বদলাবেন না। শর্করা কমার প্রবণতা থাকলে গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ইনসুলিন দিলে রক্তের শর্করা কমে যায়, যা মারাত্মক হয়ে খিঁচুনি বা অচেতনতা ঘটাতে পারে। হালকা লক্ষণে সঙ্গে সঙ্গে চিনি খান। রোগী অচেতন হলে মুখে কিছু খাওয়াবেন না; জরুরি চিকিৎসা নিন, সেখানে গ্লুকোজ ইনজেকশন বা গ্লুকাগন দেওয়া হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসবিরোধী ঔষধ, মাঝারি সময় কার্যকর হিউম্যান ইনসুলিন (এনপিএইচ)।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল, কার্তুজ ও পেন ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন; জমাবেন না। ব্যবহৃত ভায়াল বা পেন প্যাকে উল্লেখিত সময় (সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ) পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০°C এর নিচে, তাপ ও সরাসরি আলো থেকে দূরে রাখা যায়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।