ব্যবহার
- ইনহেলার ও নেবুলাইজার: সিওপিডি (ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ও এমফাইসেমাসহ ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ) তে শ্বাসনালি খুলে দিতে এবং হাঁপানিতে শ্বাসের সাঁ সাঁ শব্দ কমাতে, প্রায়ই সালবিউটামলের সাথে।
- নাকের স্প্রে: এলার্জি বা সর্দিতে নাক দিয়ে পানি পড়া কমাতে, ডাক্তারের পরামর্শে।
কীভাবে কাজ করে
ইপ্রাট্রোপিয়াম একটি অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ। শ্বাসনালির চারপাশের মাংসপেশি শক্ত করে এবং কফ বাড়ায় এমন স্নায়ুসংকেতকে এটি বাধা দেয়। ফলে শ্বাসনালি ঢিলা হয় ও শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। নাকে এটি পানি পড়া কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- মিটারড-ডোজ ইনহেলার (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত ১ বা ২ পাফ (২০ থেকে ৪০ mcg), দিনে ৩ বা ৪ বার।
- নেবুলাইজার সলিউশন (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত ২৫০ থেকে ৫০০ mcg, দিনে ৩ বা ৪ বার, নেবুলাইজার মেশিনে। তীব্র শ্বাসকষ্টে ডাক্তার আরও ঘন ঘন দিতে পারেন।
- ইনহেলেশন ক্যাপসুল: সাথে দেওয়া ডিভাইস দিয়ে টেনে নিতে হয়, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। ক্যাপসুল গিলবেন না।
- নাকের স্প্রে এবং শিশুদের সব মাত্রা: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
নেবুলাইজারে মাউথপিস বা ঠিকমতো লাগানো মাস্ক ব্যবহার করুন, যাতে ধোঁয়া চোখে না যায়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
টিওট্রোপিয়াম, গ্লাইকোপাইরোনিয়াম বা ইউমেক্লিডিনিয়ামের মতো অন্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ইনহেলার এর কাজ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়; সাধারণত একসাথে দেওয়া হয় না। অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাব আছে এমন ঔষধ (কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, বিষণ্ণতার ঔষধ ও মূত্রথলির ঔষধ) মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাবে কষ্ট বাড়াতে পারে। সালবিউটামলের সাথে এটি নিরাপদে ও প্রায়ই ব্যবহার হয়।
কারা খাবেন না
ইপ্রাট্রোপিয়াম, অ্যাট্রোপিন বা এ ধরনের ঔষধে, অথবা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, গলা খুসখুস, কাশি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও কোষ্ঠকাঠিন্য। কম দেখা যায়: বুক ধড়ফড়, ঝাপসা দেখা ও প্রস্রাবে কষ্ট।
ব্যবহারের পরপরই শ্বাসকষ্ট বা সাঁ সাঁ শব্দ বেড়ে গেলে, চোখ লাল হয়ে ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা আলোর চারপাশে রঙিন বৃত্ত দেখা দিলে, প্রস্রাব একেবারে আটকে গেলে, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যায়, কারণ শ্বাসকষ্ট ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা মা ও শিশু দুজনের জন্যই জরুরি। বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে ডাক্তারের পরামর্শেই ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
গ্লুকোমা (চোখের চাপ বেশি), প্রোস্টেট বড় হওয়া বা প্রস্রাবে কষ্ট থাকলে সাবধান থাকুন। স্প্রে ও ধোঁয়া চোখ থেকে দূরে রাখুন। হঠাৎ হাঁপানির টানে শুধু এটি দিয়ে দ্রুত আরাম পাওয়ার জন্য এটি প্রথম পছন্দ নয়; ডাক্তার যে রিলিভার দিয়েছেন সেটি ব্যবহার করুন। শ্বাসকষ্ট না কমলে বা আগের চেয়ে বেশি বার লাগলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
গুরুতর সমস্যার সম্ভাবনা কম। বেশি নিলে মুখ শুকানো, ঝাপসা দেখা ও বুক ধড়ফড় হতে পারে। কষ্ট বেশি হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ব্রঙ্কোডাইলেটর (অ্যান্টিকোলিনার্জিক, স্বল্পমেয়াদি মাসকারিনিক অ্যান্টাগনিস্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। ইনহেলারের ক্যানিস্টার ফুটো করবেন না বা গরম করবেন না। নেবুলাইজারের ভায়াল প্যাকেটের ভেতরে রাখুন এবং খোলা ভায়ালে বেঁচে যাওয়া সলিউশন ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।