ব্যবহার
ইপ্রাট্রোপিয়াম ইনহেলার (ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড) একটি ব্রঙ্কোডাইলেটর, অর্থাৎ শ্বাসনালী খুলে দেয় এমন ঔষধ। ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), যেমন ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ও এমফাইসিমায় শ্বাসকষ্ট, শোঁ শোঁ শব্দ ও বুকে চাপ কমাতে ও প্রতিরোধ করতে এটি ব্যবহৃত হয়। কখনো হাঁপানিতে সালবিউটামলের সাথে দেওয়া হয় এবং প্রায়ই সালবিউটামলের সাথে একত্রে একই ইনহেলারে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
ইপ্রাট্রোপিয়াম একটি অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাসকারিনিক) ঔষধ। এটি অ্যাসিটাইলকোলিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহকের কাজ আটকায়, যা শ্বাসনালীর চারপাশের পেশি সংকুচিত করে ও কফ বাড়ায়। এতে শ্বাসনালীর পেশি শিথিল হয়ে পথ চওড়া হয় এবং শ্বাস নিতে সহজ হয়। এটি প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করে এবং প্রায় ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের মিটার্ড ডোজ ইনহেলারে সাধারণ মাত্রা ১ থেকে ২ পাফ (২০ থেকে ৪০ মাইক্রোগ্রাম) দিনে তিন বা চারবার, বা ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী; ডাক্তারের বলা দৈনিক পরিমাণের বেশি নেবেন না। ইনহেলার ঝাঁকিয়ে নিন, পুরো শ্বাস ছাড়ুন, মাউথপিস মুখে নিয়ে ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় একবার চাপ দিন, তারপর প্রায় ১০ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন। স্পেসার ব্যবহার করলে সহজ হয়। হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্টের জন্য এটি রেসকিউ ইনহেলার নয়; দ্রুত কার্যকর ইনহেলার ব্যবহার করুন এবং পরামর্শমতো সাহায্য নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- টিওট্রোপিয়াম, কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্নতার ঔষধ ও অতিসক্রিয় মূত্রথলির ঔষধের মতো অন্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- সালবিউটামলের মতো বিটা এগোনিস্ট ও থিওফাইলিন শ্বাসনালী খোলার প্রভাব বাড়াতে পারে, যা প্রায়ই উদ্দেশ্যমূলক।
কারা খাবেন না
- ইপ্রাট্রোপিয়াম, অ্যাট্রোপিন বা একই ধরনের ঔষধ, অথবা ইনহেলারের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, গলায় খুসখুসে ভাব, কাশি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও মুখে খারাপ স্বাদ। কম ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে অসুবিধা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন বা ঝাপসা দেখা হতে পারে। স্প্রে চোখে গেলে চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা গ্লুকোমা বেড়ে যেতে পারে।
ইনহেলার ব্যবহারের পরপরই শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে গেলে বা শোঁ শোঁ শব্দ শুরু হলে, চোখে ব্যথাসহ ঝাপসা দেখা ও আলোর চারপাশে বলয় দেখলে, প্রস্রাব না হলে, অথবা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত; ডাক্তার উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই ব্যবহার করুন। খুব অল্প পরিমাণ রক্তে পৌঁছায়, তাই বুকের দুধ খাওয়া শিশুর ওপর প্রভাবের সম্ভাবনা কম, তবে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- চোখে স্প্রে যাওয়া এড়ান, বিশেষ করে ন্যারো অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে বা ঝুঁকি থাকলে।
- প্রোস্টেট বড় হলে বা প্রস্রাবে অসুবিধা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- স্বাভাবিক মাত্রায় কম কাজ করলে বা ঘন ঘন দরকার হলে ডাক্তারকে জানান, কারণ এটি রোগ বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
- মুখ শুকনো লাগলে ব্যবহারের পর কুলি করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ইনহেলারে বেশি নিলে গুরুতর সমস্যার সম্ভাবনা কম। মুখ শুকানো, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, ঝাপসা দেখা বা প্রস্রাবে অসুবিধা হতে পারে। উপসর্গ কষ্টকর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ব্রঙ্কোডাইলেটর; স্বল্পমেয়াদি ইনহেলড অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাসকারিনিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, সরাসরি সূর্যালোক থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না। ক্যানিস্টারটি চাপযুক্ত: খালি হলেও ফুটো করবেন না বা পোড়াবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।