ব্যবহার
ইপ্রাট্রোপিয়াম ইনহেলেশন সলিউশন নেবুলাইজারের মাধ্যমে নেওয়া একটি ব্রঙ্কোডাইলেটর (শ্বাসনালি প্রসারিত করার ঔষধ)। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), যার মধ্যে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ও এমফাইসিমা রয়েছে, তাতে শ্বাসনালি সরু হয়ে শাঁ শাঁ শব্দ ও শ্বাসকষ্ট কমাতে ও প্রতিরোধে এটি ব্যবহার হয়। হাঁপানির হঠাৎ আক্রমণে সালবিউটামলের মতো দ্রুত কাজ করা ঔষধের সাথেও এটি দেওয়া হয়। এটি শুধু প্রেসক্রিপশনে বিক্রি হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইপ্রাট্রোপিয়াম একটি অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাসকারিনিক) ঔষধ। এটি অ্যাসিটাইলকোলিন নামের প্রাকৃতিক রাসায়নিকের কাজ আটকে দেয়, যা শ্বাসনালির চারপাশের পেশি সংকুচিত করে ও শ্লেষ্মা বাড়ায়। এতে পেশি শিথিল হয়, শ্বাসনালি প্রশস্ত হয় এবং বাতাস সহজে চলাচল করে। প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টা থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের পরামর্শমতো ব্যবহার করুন। দ্রবণটি নেবুলাইজারের পাত্রে দিয়ে, নির্দেশ থাকলে জীবাণুমুক্ত নরমাল স্যালাইনে পাতলা করে, মাউথপিস বা মাস্ক দিয়ে কুয়াশা শেষ না হওয়া পর্যন্ত, সাধারণত ৫ থেকে ১৫ মিনিট, শ্বাসের সাথে নিতে হয়। সিওপিডিতে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দিনে তিন বা চারবার ব্যবহার করা হয়। হাঁপানির আক্রমণে চিকিৎসক যেভাবে ঠিক করেন সেভাবে দেওয়া হয়। গ্লুকোমার ঝুঁকি থাকলে চোখে কুয়াশা না লাগাতে মাস্কের চেয়ে মাউথপিস ভালো। প্রতিটি ভায়াল একবার ব্যবহার করে বাকি অংশ ফেলে দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
টিওট্রোপিয়াম, কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্ণতারোধী ও অতিসক্রিয় মূত্রথলির ঔষধের মতো অন্যান্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। সালবিউটামলের সাথে এটি প্রায়ই নিরাপদে ব্যবহৃত হয়; তবে কুয়াশা চোখে গেলে একসাথে তীব্র গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- ইপ্রাট্রোপিয়াম, অ্যাট্রোপিন বা একই ধরনের ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মুখ শুকানো, গলায় জ্বালা, কাশি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও তেতো স্বাদ। কম দেখা যায় কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে কষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, ঝাপসা দেখা এবং কুয়াশা চোখে গেলে চোখে ব্যথা।
ব্যবহারের পরপরই শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে গেলে (প্যারাডক্সিক্যাল ব্রঙ্কোস্পাজম), ঝাপসা দেখা, আলোর চারপাশে বৃত্ত ও লাল চোখসহ চোখে ব্যথা (সম্ভাব্য তীব্র গ্লুকোমা), প্রস্রাব একেবারে না হলে, অথবা মুখ বা গলা ফোলাসহ অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
শ্বাসের সাথে নেওয়ার পর শরীরে খুব অল্প শোষিত হয়; তবু চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলেই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করুন। এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; চিকিৎসক দিলে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়।
সতর্কতা
- কুয়াশা থেকে চোখ রক্ষা করুন, বিশেষ করে ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে।
- প্রোস্টেট বড় হলে বা প্রস্রাবের পথে বাধা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- হঠাৎ হাঁপানির আক্রমণে এটি একা প্রথম পছন্দের ঔষধ নয়; আপনার অ্যাকশন প্ল্যান মেনে চলুন।
- সংক্রমণ এড়াতে নির্দেশনা অনুযায়ী নেবুলাইজার পরিষ্কার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ব্যবহার করলে মুখ শুকানো, ঝাপসা দেখা, দ্রুত হৃদস্পন্দন ও প্রস্রাবে কষ্ট হতে পারে। বেশি নেওয়া হলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
শ্বাসের মাধ্যমে নেওয়া ব্রঙ্কোডাইলেটর; স্বল্পমেয়াদি অ্যান্টিমাসকারিনিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে আসল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না। ভায়াল খোলার পর দ্রুত ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।