ব্যবহার
ইরিনোটেকান একটি ক্যান্সারের ঔষধ, মূলত বৃহদন্ত্র (কোলন) বা মলাশয়ের (রেকটাম) অগ্রসর বা ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সারে ব্যবহার হয়, ফ্লুরোইউরাসিল ও ফোলিনিক এসিডের সাথে অথবা অন্য চিকিৎসার পরে এককভাবে। এর বিশেষ লাইপোসোমাল রূপ কিছু অগ্রসর অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে ব্যবহার হয়, এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শে অন্য কিছু ক্যান্সারেও দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইরিনোটেকান টোপোআইসোমারেজ ১ নামের একটি এনজাইম বন্ধ করে, যা ক্যান্সার কোষের ডিএনএ খুলে কপি করতে লাগে। এনজাইমটি বন্ধ থাকায় ডিএনএ ভেঙে যায় এবং ক্যান্সার কোষ মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ইরিনোটেকান হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে দেন, সাধারণত ৩০ থেকে ৯০ মিনিট ধরে, নির্দিষ্ট বিরতিতে বারবার (সাইকেল)। মাত্রা শরীরের আকার, লিভারের অবস্থা, রক্তের কণিকা ও অন্যান্য ঔষধের উপর নির্ভর করে এবং ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়। সাধারণত বমি ও ডায়রিয়া প্রতিরোধের ঔষধও দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট এর কাজ কমাতে পারে, এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
- কিটোকোনাজল ও এটাজানাভিরের মতো কিছু এইচআইভি ঔষধ এর মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- অন্যান্য কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি অস্থিমজ্জার উপর প্রভাব বাড়ায়।
- চিকিৎসার সময় জীবিত জীবাণুর টিকা (লাইভ ভ্যাকসিন) নেওয়া যাবে না।
কারা খাবেন না
- অন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ বা অন্ত্র আটকে থাকলে।
- অস্থিমজ্জা মারাত্মকভাবে অকার্যকর হলে।
- বিলিরুবিন স্বাভাবিকের উপরের সীমার ৩ গুণের বেশি হলে বা লিভারের গুরুতর সমস্যায়।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- ইরিনোটেকানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ:
- স্যালাইন চলার সময় বা পরপরই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া: ঘাম, পেটে কামড়ানো ব্যথা, চোখে পানি, মুখে বেশি লালা ও ডায়রিয়া। এটি প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় প্রায়ই এট্রোপিন ইনজেকশন দেওয়া হয়।
- দেরিতে ডায়রিয়া, ডোজের ২৪ ঘণ্টা পরে শুরু হয়, যা গুরুতর হতে পারে। লোপেরামাইড কীভাবে খাবেন ও কখন যোগাযোগ করবেন তা চিকিৎসক দল বুঝিয়ে দেবেন।
- রক্তের কণিকা কমে যাওয়া, ফলে সংক্রমণ, রক্তপাত ও রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি।
- বমি বমি ভাব, বমি, ক্লান্তি, অরুচি ও চুল পড়া।
ডায়রিয়ার চিকিৎসা শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না কমলে, জ্বরের সাথে যেকোনো ডায়রিয়া হলে, তাপমাত্রা ৩৮°C বা বেশি হলে, মাথা ঘোরা বা প্রস্রাব খুব কম হলে (পানিশূন্যতা), কালো পায়খানা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ইরিনোটেকান গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না। চিকিৎসার সময় এবং পরে ডাক্তার যতদিন বলেন, নারী ও পুরুষ উভয়কেই নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- UGT1A1*28 নামের জিনগত বৈচিত্র্য থাকলে শরীরে ইরিনোটেকান ধীরে ভাঙে, তাই কম মাত্রা লাগতে পারে।
- নিয়মিত রক্তের কণিকা ও লিভারের পরীক্ষা দরকার।
- ডায়রিয়া শুরু হলে প্রচুর পানি ও তরল পান করুন।
- স্যালাইনের পর এক দিন মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখা হতে পারে; গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়া বিরল। বেশি হলে তীব্র ডায়রিয়া ও রক্তের কণিকা খুব কমে যায়; হাসপাতালের দল তরল, সংক্রমণের চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সামলান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
এন্টিনিওপ্লাস্টিক (ক্যান্সারবিরোধী), টোপোআইসোমারেজ ১ বাধাদানকারী।
সংরক্ষণ
হাসপাতাল বা ফার্মেসি প্যাকেটের নির্দেশ অনুযায়ী রাখে, সাধারণত ২৫°C এর নিচে ও আলো থেকে দূরে; জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।