ব্যবহার
আয়রন পলিমালটোজ কমপ্লেক্স (ফেরিক হাইড্রক্সাইড পলিমালটোজ) একটি আয়রন সাপ্লিমেন্ট। আয়রনের ঘাটতি ও আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়। গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে, শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় এবং রক্তক্ষরণের পরে যখন শরীরে বেশি আয়রন দরকার হয়, তখন ঘাটতি প্রতিরোধেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি স্থিতিশীল অবস্থায় আয়রন সরবরাহ করে, যা অন্ত্রে ধীরে ধীরে মুক্ত হয় এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী শোষিত হয়। শরীর আয়রন দিয়ে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, যা লোহিত রক্তকণিকার মাধ্যমে সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা: সাধারণত দিনে ১০০ থেকে ২০০ mg আয়রন, একবারে বা ভাগ করে। প্রতিরোধ ও গর্ভাবস্থায়: সাধারণত দিনে ১০০ mg আয়রন, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। খাবারের সময় বা খাওয়ার ঠিক পরে খান। চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট চিবিয়ে বা আস্ত গিলে খাওয়া যায়; সিরাপ ও ড্রপ ফলের রসের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। শিশুদের: বয়স ও ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের পরামর্শে। শরীরের আয়রনের মজুত পূরণের জন্য হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক হওয়ার পরও সাধারণত কয়েক মাস চালিয়ে যেতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সাধারণ আয়রন লবণের তুলনায় এর প্রতিক্রিয়া কম। তবুও অ্যান্টাসিড, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট, টেট্রাসাইক্লিন বা ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক এবং লেভোথাইরক্সিন থেকে আলাদা সময়ে খাওয়া ভালো। পরামর্শ ছাড়া অন্য আয়রন ঔষধ একসাথে খাবেন না, এবং আয়রন ইনজেকশনের সাথে মুখে খাওয়ার আয়রন নেবেন না।
কারা খাবেন না
- আয়রনের অভাব ছাড়া অন্য কারণে রক্তস্বল্পতা থাকলে, যেমন ভিটামিন বি১২ বা ফলিক অ্যাসিডের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা, বা আয়রনের ঘাটতি ছাড়া থ্যালাসেমিয়া।
- শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমা থাকলে (হিমোক্রোমাটোসিস, হিমোসিডেরোসিস)।
- শরীর আয়রন ঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে, যেমন সাইডেরোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া।
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হতে পারে। পায়খানা প্রায়ই কালচে বা কালো হয়ে যায়; এটি ক্ষতিকর নয়। এলার্জির লক্ষণ (ফুসকুড়ি, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে, রক্তবমি হলে, অথবা পেটব্যথা বা দুর্বলতার সাথে আলকাতরার মতো কালো পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আয়রনের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ডাক্তারের পরামর্শকৃত মাত্রায় এটি সাধারণত ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা
দীর্ঘদিন খাওয়ার আগে রক্তস্বল্পতার কারণ ডাক্তারকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন। বারবার রক্ত নেওয়ার ইতিহাস, লিভারের রোগ বা কোনো সংক্রমণ থাকলে ডাক্তারকে জানান। তরল ঔষধে দাঁতে হালকা দাগ পড়তে পারে; খাওয়ার পরে দাঁত ব্রাশ করলে উপকার হয়। কিছু সিরাপে চিনি থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিবেচনার বিষয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
সাধারণ আয়রন লবণের চেয়ে এটি কম বিষাক্ত, তবুও বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশুরা খেলে, দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়রন প্রিপারেশন (রক্ত তৈরিতে সহায়ক ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তরল ঔষধ ফ্রিজের বরফ অংশে রাখবেন না; খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।