ব্যবহার
আয়রন সুক্রোজ ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া আয়রন। আয়রন ট্যাবলেটে কাজ না হলে, সহ্য না হলে, বা দ্রুত আয়রন পূরণ দরকার হলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে (ডায়ালাইসিস রোগীসহ) এটি বেশি ব্যবহার হয়, এবং ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকেও দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন লাগে, যা লোহিত কণিকার অক্সিজেন বহনকারী অংশ। আয়রন সুক্রোজ সরাসরি রক্তে আয়রন পৌঁছে দেয়; শরীর তা জমা রাখে এবং নতুন লোহিত কণিকা তৈরিতে ব্যবহার করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি শুধু ডাক্তার বা নার্স হাসপাতাল বা ক্লিনিকে দেন, শিরায় ধীরে ইনজেকশন বা স্যালাইনের মাধ্যমে। মোট কতটুকু লাগবে তা শরীরের ওজন ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দেখে হিসাব করা হয়, এবং সাধারণত কয়েক দিন বা সপ্তাহে কয়েক ভাগে দেওয়া হয়, ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী। প্রতিটি ডোজের পর অন্তত ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একই সময়ে আয়রন ট্যাবলেট বা সিরাপ খাবেন না, কারণ ইনজেকশনের আয়রন সেগুলোর শোষণ কমায়। ডাক্তার পরামর্শ দিলে সাধারণত শেষ ইনজেকশনের অন্তত ৫ দিন পর মুখে খাওয়ার আয়রন শুরু করা হয়।
কারা খাবেন না
- আয়রন সুক্রোজ বা অন্য কোনো ইনজেকশনের আয়রনে এলার্জি থাকলে।
- রক্তস্বল্পতা আয়রনের ঘাটতির কারণে না হলে।
- শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমা (যেমন হিমোক্রোমাটোসিস) বা আয়রন ব্যবহারে সমস্যা থাকলে।
- গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মুখে ধাতব বা বদলে যাওয়া স্বাদ, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, রক্তচাপের পরিবর্তন, এবং ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা জ্বালা। ইনজেকশন চামড়ার নিচে বেরিয়ে গেলে বাদামি দাগ হতে পারে, যা দীর্ঘদিন থাকতে পারে।
নিচের যেকোনোটি হলে সাথে সাথে চিকিৎসা নিন বা নার্সকে জানান:
- শ্বাসকষ্ট, শাঁ শাঁ শব্দ, বুকে চাপ, বা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া।
- অজ্ঞান অজ্ঞান লাগা, হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া বা খুব দ্রুত হৃৎস্পন্দন।
- ইনজেকশনের সময় বা পরে সারা গায়ে চুলকানিযুক্ত র্যাশ বা চাকা চাকা দাগ।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ব্যবহার হয় না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে শুধু ডাক্তার উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলে দেওয়া হয়। খুব সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়, এবং বুকের দুধ খাওয়া শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা কম।
সতর্কতা
- শুধু এমন জায়গায় দেওয়া হয় যেখানে এলার্জি প্রতিক্রিয়ার চিকিৎসার লোকবল ও সরঞ্জাম আছে।
- হাঁপানি, একজিমা বা অন্য এলার্জি থাকলে প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি; ডাক্তারকে জানান।
- লিভারের রোগ বা বর্তমানে কোনো সংক্রমণ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- অতিরিক্ত আয়রন যেন না দেওয়া হয়, সেজন্য আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত আয়রন শরীরে জমে যেতে পারে (আয়রন ওভারলোড)। ডাক্তার এটি সামলান এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত আয়রন বের করার চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্যারেন্টেরাল (ইনজেকশনযোগ্য) আয়রন প্রস্তুতি।
সংরক্ষণ
২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন; জমাবেন না। সাধারণত হাসপাতাল বা ক্লিনিক এটি সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।