জেনেরিক ঔষধ

Isophane Insulin Human

  • 11 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 10 টি কোম্পানি

ব্যবহার

আইসোফেন হিউম্যান ইনসুলিন (এনপিএইচ ইনসুলিন নামেও পরিচিত) একটি মাঝারি মেয়াদি ইনসুলিন, যা টাইপ ১ ডায়াবেটিস এবং ইনসুলিন প্রয়োজন এমন টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এটি দুই খাবারের মাঝে ও রাতে পটভূমির (বেসাল) ইনসুলিন জোগায়। খাবার ও পটভূমির দুই চাহিদা মেটাতে এটি প্রায়ই রেগুলার হিউম্যান ইনসুলিনের সাথে মেশানো অবস্থায় (যেমন ৩০/৭০) পাওয়া যায়।

কীভাবে কাজ করে

ইনসুলিন কোষকে রক্ত থেকে শর্করা নিতে সাহায্য করে এবং লিভার থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ নিঃসরণ বন্ধ করে। আইসোফেন ইনসুলিনে হিউম্যান ইনসুলিনের সাথে প্রোটামিন নামের একটি প্রোটিন মেশানো থাকে, যা এটিকে ঘোলাটে করে এবং চামড়ার নিচ থেকে ধীরে মুক্ত করে। এটি প্রায় ১ থেকে ২ ঘণ্টায় কাজ শুরু করে, প্রায় ৪ থেকে ১২ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রভাব দেখায় এবং প্রায় ১৬ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মাত্রা ডাক্তার আলাদাভাবে ঠিক করেন এবং সাধারণত দিনে এক বা দুইবার দেওয়া হয়, তাই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ীই নিন। প্রতিটি ইনজেকশনের আগে ভায়াল বা পেন হাতের তালুতে আলতো করে গড়িয়ে এবং প্রায় ১০ বার উপর নিচ করে সমানভাবে ঘোলাটে করুন; জোরে ঝাঁকাবেন না। পেট, উরু, নিতম্ব বা বাহুর উপরের অংশে চামড়ার নিচে ইনজেকশন দিন এবং একই এলাকার মধ্যে প্রতিবার জায়গা বদলান। আইসোফেন ইনসুলিন কখনো শিরায় দেওয়া যাবে না। ইনসুলিন পেন বা সুই কখনো অন্যের সাথে ভাগ করবেন না।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধ, মদ, এসিই ইনহিবিটর, কিছু বিষণ্নতার ঔষধ ও স্যালিসাইলেট শর্করা কমানোর প্রভাব বাড়াতে পারে।
  • স্টেরয়েড, থাইরয়েড হরমোন, কিছু প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক রক্তে শর্করা বাড়িয়ে ইনসুলিনের চাহিদা বাড়াতে পারে।
  • বিটা ব্লকার শর্করা কমে যাওয়ার সতর্ক লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে।
  • ইনসুলিনের সাথে পায়োগ্লিটাজোন হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কারা খাবেন না

  • ইনজেকশনের সময় রক্তে শর্করা কম থাকলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)।
  • হিউম্যান ইনসুলিন, প্রোটামিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
  • শিরায় ব্যবহার।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রক্তে শর্করা কমে যাওয়া, যা ইনজেকশনের কয়েক ঘণ্টা পরে, এমনকি রাতেও হতে পারে। লক্ষণের মধ্যে আছে ঘাম, কাঁপুনি, ক্ষুধা, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, দুঃস্বপ্ন, বিভ্রান্তি বা খিটখিটে ভাব। ইনজেকশনের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলা বা চুলকানি এবং একই জায়গায় বারবার দিলে গিঁট হতে পারে। শুরুতে ওজন বাড়া, সাময়িক ঝাপসা দেখা বা গোড়ালি ফোলা হতে পারে।

শর্করা কমার লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে গ্লুকোজ, চিনি বা মিষ্টি পানীয় খান, তারপর হালকা খাবার খান। রোগী বিভ্রান্ত হলে, গিলতে না পারলে, খিঁচুনি হলে বা অজ্ঞান হয়ে গেলে (মুখে কিছু দেবেন না; গ্লুকাগন ইনজেকশন বা হাসপাতালে চিকিৎসা দরকার), অথবা গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

আইসোফেনসহ হিউম্যান ইনসুলিন গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের আদর্শ চিকিৎসা এবং শিশুর জন্য নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পর ইনসুলিনের চাহিদা বদলায়, তাই রক্তে শর্করা ঘনিষ্ঠভাবে পরীক্ষা করতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এটি নিরাপদ; মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে।

সতর্কতা

  • রাতে শোবার আগেসহ নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে মাত্রা, খাবার বা কাজকর্ম বদলালে বা অসুস্থ হলে।
  • সবসময় গ্লুকোজের উৎস ও ডায়াবেটিস পরিচয়পত্র সাথে রাখুন।
  • শর্করা কম থাকলে গাড়ি চালাবেন না; চালানোর আগে পরীক্ষা করুন।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ইনসুলিনের ধরন, ব্র্যান্ড বা শক্তি বদলাবেন না।
  • মেশানোর পরও ইনসুলিনে দলা বা কণা থাকলে ব্যবহার করবেন না।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি ইনসুলিন নিলে রক্তে শর্করা কমে যায়, যা এই দীর্ঘক্ষণ কার্যকর ইনসুলিনে দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারে এবং খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া ও মস্তিষ্কের ক্ষতি ঘটাতে পারে। হালকা ক্ষেত্রে মুখে গ্লুকোজ বা চিনি ও পরে খাবার দিন; গুরুতর ক্ষেত্রে গ্লুকাগন বা শিরায় গ্লুকোজ ও পর্যবেক্ষণসহ জরুরি চিকিৎসা দরকার।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ডায়াবেটিসের ঔষধ; মাঝারি মেয়াদি হিউম্যান ইনসুলিন (এনপিএইচ)।

সংরক্ষণ

খোলা হয়নি এমন ইনসুলিন ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন; জমাবেন না। ব্যবহাররত ভায়াল বা পেন প্যাকে লেখা সময় পর্যন্ত (সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ) ২৫ থেকে ৩০°C এর নিচে, তাপ ও আলো থেকে দূরে রাখা যায়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Isophane Insulin Human এর ব্র্যান্ড

1 টি ব্র্যান্ড

Isophane Insulin Human যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

10 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।