ব্যবহার
ইসপগুল বীজ প্ল্যান্টাগো ওভাটা গাছ থেকে আসে, যা সিলিয়াম বা ইসবগুল নামেও পরিচিত। এর বীজ ও বাইরের খোসা দ্রবণীয় আঁশে সমৃদ্ধ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, অর্শ বা মলদ্বারে ফাটল (এনাল ফিসার) থাকলে পায়খানা নরম করতে, কিছু ধরনের পাতলা পায়খানা ঘন করতে, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) এবং কোলেস্টেরল সামান্য কমাতে আঁশের সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইসপগুল একটি বাল্ক-ফর্মিং ল্যাকসেটিভ (পায়খানার পরিমাণ বাড়িয়ে কাজ করে)। এর আঁশ অন্ত্রে পানি শুষে নরম জেলের মতো ফুলে ওঠে। এতে পায়খানার পরিমাণ ও আর্দ্রতা বাড়ে, ফলে পায়খানা নরম ও সহজে বের হয় এবং অন্ত্রের নড়াচড়া নিয়মিত হয়। জেলটি কিছু পিত্তরসের অ্যাসিডকে আটকে রাখে, যা কোলেস্টেরল সামান্য কমাতে পারে। সাধারণত ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবন করুন। প্রতিটি মাত্রা অবশ্যই এক গ্লাস ভর্তি (প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ml) পানি বা জুসে মিশিয়ে, নেড়ে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলুন, তারপর আরও এক গ্লাস তরল পান করুন। শুকনো অবস্থায় খাবেন না, এবং শোয়ার বা ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে খাবেন না। সারাদিন প্রচুর তরল পান করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ইসপগুল অন্য ঔষধের শোষণ কমাতে বা দেরি করাতে পারে, তাই অন্য ঔষধ এটির অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে খান। ডিগোক্সিন, লিথিয়াম, কারবামাজেপিন, লেভোথাইরক্সিন, আয়রন ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে জরুরি। ইনসুলিন বা ট্যাবলেট খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের মাত্রা পরীক্ষা করানো দরকার হতে পারে, কারণ আঁশ খাওয়ার পর রক্তে শর্করা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- অন্ত্রে বাধা বা সংকীর্ণতা, অথবা পায়খানা শক্ত হয়ে আটকে থাকলে।
- গিলতে কষ্ট বা খাদ্যনালি সরু হয়ে যাওয়া।
- ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী পায়খানার অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলে, ডাক্তার দেখানোর আগে পর্যন্ত।
- ইসপগুল বা সিলিয়ামে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শুরুতে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও পেট ভরা ভাব সচরাচর হয়, যা সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায়। অ্যালার্জি কম হলেও হতে পারে, বিশেষ করে যারা প্রায়ই গুঁড়া নাড়াচাড়া করেন তাদের।
সেবনের পর বুকে ব্যথা, গলায় আটকে যাওয়া, গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট, পেটে তীব্র ব্যথা বা ফুলে যাওয়া, বমি, ব্যথা বাড়ার সাথে পায়খানা না হওয়া, অথবা মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ইসপগুল শরীরে শোষিত হয় না, তাই গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় প্রচুর তরলসহ এটিকে সবচেয়ে নিরাপদ ল্যাকসেটিভগুলোর একটি বলে ধরা হয়।
সতর্কতা
যথেষ্ট পানি ছাড়া খেলে এটি ফুলে গলা বা অন্ত্র আটকে দিতে পারে। বয়স্ক, শয়্যাশায়ী এবং অন্ত্র সরু হওয়া রোগীরা কেবল ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করবেন। চিকিৎসা সত্ত্বেও কোষ্ঠকাঠিন্য ১ সপ্তাহের বেশি থাকলে ডাক্তার দেখান। শিশুদের কেবল ডাক্তারের পরামর্শ বা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী দিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে, বিশেষ করে যথেষ্ট পানি ছাড়া, পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা ও অন্ত্রে বাধা হতে পারে। প্রচুর পানি পান করুন এবং তীব্র ব্যথা, বমি বা পায়খানা না হলে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বাল্ক-ফর্মিং ল্যাকসেটিভ (খাদ্যআঁশ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। আর্দ্রতা থেকে রক্ষার জন্য পাত্রের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।