ব্যবহার
প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদরোগের দুটি অবস্থায় আইভাব্রাডিন ব্যবহার হয়:
- দীর্ঘমেয়াদি (স্থিতিশীল) এনজাইনা, অর্থাৎ পরিশ্রমে বুকে ব্যথা, যখন হৃদস্পন্দনের ছন্দ স্বাভাবিক কিন্তু গতি বেশি থাকে। বিটা-ব্লকার খাওয়া না গেলে বা বিটা-ব্লকারের সাথে বাড়তি ঔষধ হিসেবে এটি দেওয়া হয়।
- দীর্ঘমেয়াদি হার্ট ফেইলিওর, যখন হৃৎপিণ্ডের পাম্প দুর্বল এবং প্রচলিত চিকিৎসার পরও বিশ্রামে হৃদস্পন্দন মিনিটে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ বা তার বেশি থাকে।
কীভাবে কাজ করে
আইভাব্রাডিন হৃৎপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকারে (সাইনাস নোড) কাজ করে হৃদস্পন্দন ধীর করে। ধীর হৃৎপিণ্ডের অক্সিজেন কম লাগে এবং রক্তে ভরার সময় বেশি পায়, ফলে এনজাইনা কমে ও দুর্বল হৃৎপিণ্ডের উপকার হয়। অনেক হৃদরোগের ঔষধের মতো এটি রক্তচাপ কমায় না বা পাম্প করার শক্তি কমায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৫ mg দিনে ২ বার, সকাল ও রাতের খাবারের সাথে। ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর বিশ্রামের হৃদস্পন্দন দেখে ডাক্তার মাত্রা বাড়িয়ে ৭.৫ mg দিনে ২ বার বা কমিয়ে ২.৫ mg দিনে ২ বার করতে পারেন। ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ২.৫ mg দিনে ২ বার দিয়ে শুরু হতে পারে। সবসময় নির্ধারিত মাত্রা মেনে চলুন, নিজে বদলাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, মুখে খাওয়ার ইরিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভির ও নেলফিনাভিরের মতো শক্তিশালী এনজাইম-বাধাদানকারী ঔষধের সাথে খাওয়া যাবে না, এগুলো আইভাব্রাডিনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
- ডিলটিয়াজেম বা ভেরাপামিলের সাথে খাবেন না, এগুলোও হৃদস্পন্দন ধীর করে।
- জাম্বুরা (গ্রেপফ্রুট) এর রস এড়িয়ে চলুন।
- হৃদছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ (কিছু এন্টিঅ্যারিদমিক, এন্টিসাইকোটিক ও এন্টিবায়োটিক) এবং পটাশিয়াম কমায় এমন প্রস্রাবের ঔষধের সাথে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
- সেন্ট জনস ওয়ার্ট এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- শুরুর আগে বিশ্রামে হৃদস্পন্দন মিনিটে ৭০ এর কম হলে, বা হৃদস্পন্দন খুব ধীর হলে।
- সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক, অস্থিতিশীল এনজাইনা, কার্ডিওজেনিক শক বা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া হার্ট ফেইলিওর থাকলে।
- রক্তচাপ খুব কম, সিক সাইনাস সিনড্রোম, নির্দিষ্ট কিছু হার্ট ব্লক বা পেসমেকারের উপর নির্ভরশীল হলে।
- লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
- গর্ভাবস্থা, বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, এবং গর্ভধারণ সম্ভব এমন নারী নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ না করলে।
- উপরের শক্তিশালী এনজাইম-বাধাদানকারী ঔষধ, ডিলটিয়াজেম বা ভেরাপামিলের সাথে, অথবা আইভাব্রাডিনে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ:
- দৃষ্টির কোনো অংশে ক্ষণিকের উজ্জ্বল আলো বা ঝলক দেখা, সাধারণত প্রথম ২ মাসে, যা সময়ের সাথে প্রায়ই কমে যায়।
- হৃদস্পন্দন ধীর হওয়া, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও ঝাপসা দেখা।
- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন)।
নাড়ি খুব ধীর হয়ে অজ্ঞান ভাব বা তীব্র মাথা ঘোরা, দ্রুত বা অনিয়মিত বুক ধড়ফড়, নতুন বা বেড়ে যাওয়া বুকে ব্যথা, বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
আইভাব্রাডিন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবে না। গর্ভধারণ সম্ভব এমন নারীদের নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই ঔষধ খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- ডাক্তার নিয়মিত হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করবেন; নাড়ি খুব ধীর বা অনিয়মিত মনে হলে জানান।
- আলোর ঝলক হঠাৎ আসতে পারে, তাই নিজের প্রতিক্রিয়া না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন, বিশেষ করে রাতে।
- এটি অনিয়মিত হৃদছন্দের চিকিৎসা করে না এবং হঠাৎ বুকে ব্যথার সময় তাৎক্ষণিক ঔষধ নয়।
- লিভার বা কিডনির সমস্যা এবং চোখের রেটিনার কোনো রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে দীর্ঘ সময় ধরে হৃদস্পন্দন খুব ধীর হতে পারে এবং রক্তচাপ কমে যেতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
এনজাইনা ও হার্ট ফেইলিওরের ঔষধ (সাইনাস নোডের If কারেন্ট বাধাদানকারী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।