ব্যবহার
আইভোসিডেনিব একটি লক্ষ্যভিত্তিক ক্যান্সারের ঔষধ, যা IDH1 নামের একটি জিনে পরিবর্তন (মিউটেশন) থাকা নির্দিষ্ট ক্যান্সারে ব্যবহৃত হয়; এই পরিবর্তন ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত করতে হয়। এর মধ্যে আছে অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (AML), একটি দ্রুত বাড়া রক্তের ক্যান্সার, যখন রোগ নতুন ধরা পড়েছে কিন্তু রোগী তীব্র কেমোথেরাপি নিতে পারবেন না, অথবা রোগ ফিরে এসেছে বা চিকিৎসায় সাড়া দেয়নি। এছাড়া কোলানজিওকার্সিনোমা (পিত্তনালির ক্যান্সার) ও মায়েলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমের মতো অন্য কিছু IDH1 পরিবর্তিত ক্যান্সারেও ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ত্রুটিপূর্ণ IDH1 এনজাইম ২-হাইড্রক্সিগ্লুটারেট নামের একটি পদার্থ তৈরি করে, যা অপরিণত ক্যান্সার কোষকে স্বাভাবিক কোষে পরিণত হতে বাধা দেয়। আইভোসিডেনিব এই ত্রুটিপূর্ণ এনজাইমকে আটকে দেয়। ফলে পদার্থটির মাত্রা কমে এবং অস্বাভাবিক কোষ পরিণত হতে পারে বা বৃদ্ধি থেমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের (অনকোলজিস্ট বা হেমাটোলজিস্ট) ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঠিকমতো সেবন করুন। ট্যাবলেট মুখে দিনে একবার প্রায় একই সময়ে খেতে হয়, খাবারের সাথে বা ছাড়া, তবে বেশি চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে নয়, কারণ এতে শোষণ বেড়ে যায়। পুরো গিলে ফেলুন; ভাঙবেন, গুঁড়া করবেন বা চিবাবেন না। উপকার পাওয়া গেলে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানো গেলে সাধারণত কয়েক মাস ধরে চিকিৎসা চলে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ও রিটোনাভিরের মতো শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটর আইভোসিডেনিবের মাত্রা বাড়ায়; রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো ইনডিউসার মাত্রা কমায়। চিকিৎসকের সম্মতি ছাড়া QT ইন্টারভাল (হৃৎছন্দের একটি পরিমাপ) বাড়ায় এমন অন্য ঔষধ, যেমন কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, ছত্রাকনাশক ও বমিরোধী ঔষধ, এড়িয়ে চলুন। আইভোসিডেনিব কিছু হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধের কার্যকারিতা কমাতে পারে। জাম্বুরা (গ্রেপফ্রুট) ও এর রস এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
আইভোসিডেনিব বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা শক্তিশালী CYP3A4 ইনডিউসারের সাথে সেবন করবেন না। সংশোধন করা হয়নি এমন লং QT সিনড্রোমে এটি এড়ানো হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ক্লান্তি, গিঁটে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ভাব, পা ফোলা, কাশি, র্যাশ, ক্ষুধামন্দা এবং রক্ত পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তন।
ডিফারেনশিয়েশন সিনড্রোমের লক্ষণ, যা AML এ হতে পারা একটি গুরুতর প্রতিক্রিয়া, যেমন জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকে ব্যথা, দ্রুত ওজন বাড়া বা ফোলা, মাথা ঘোরা বা প্রস্রাব কমে যাওয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। অজ্ঞান হওয়া বা দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, এবং হাত বা পায়ে ছড়িয়ে পড়া অবশ ভাব, ঝিনঝিন বা দুর্বলতা অথবা শ্বাসকষ্ট (গুইলেন-বারি সিনড্রোম হতে পারে) হলেও সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
আইভোসিডেনিব গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ১ মাস চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কার্যকর অহরমোনাল বা অতিরিক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর ১ মাস বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালে ইসিজি (হৃদযন্ত্রের রেখাচিত্র), রক্তের কণিকা, রক্তের লবণ (পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম) ও লিভারের পরীক্ষা করা হয়। নতুন কোনো ঔষধ শুরু করলে বিশেষজ্ঞকে জানান। হৃদরোগ এবং গুরুতর লিভার বা কিডনির রোগে সতর্কতা দরকার। নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ বা মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিশেষ করে হৃৎছন্দের সমস্যা, বাড়তে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসা নিন; হৃদযন্ত্র পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী, লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা (IDH1 ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আসল পাত্রে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।