ব্যবহার
জওয়ারিশ বিসবাসা একটি ইউনানি জওয়ারিশ, অর্থাৎ মিষ্টি, আধা ঘন হজমি ভেষজ মিশ্রণ। এর প্রধান উপাদান বিসবাসা, অর্থাৎ জায়ফলের বীজের ওপরের জালির মতো শুকনো আবরণ, যা জয়ত্রী নামে পরিচিত। এর সাথে আরও কিছু উষ্ণ মশলা চিনি বা মধুর ভিত্তিতে মেশানো থাকে। প্রচলিতভাবে বদহজম, দুর্বল বা ধীর পাকস্থলী, ক্ষুধামন্দা, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও হালকা পেট কামড়ানিতে এটি ব্যবহার করা হয়। এসব ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
জয়ত্রী ও অন্যান্য মশলায় সুগন্ধি তেল থাকে, যা পাকস্থলীর রস নিঃসরণ বাড়ায়, অন্ত্রের পেশি শিথিল করে এবং আটকে থাকা গ্যাস বের করতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়। ইউনানি তত্ত্ব অনুযায়ী এটি পাকস্থলীকে উষ্ণ ও শক্তিশালী করে। মানুষের শরীরে এটি কতটা কার্যকর তা যথাযথভাবে গবেষণা করা হয়নি।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা নিবন্ধিত ইউনানি চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেবন করুন, সাধারণত খাবারের পরে। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি খাবেন না। জয়ত্রীতে মায়রিস্টিসিন থাকে, যা বেশি পরিমাণে ক্ষতিকর, তাই লেবেলের মাত্রা মেনে চলুন। দুই সপ্তাহের বেশি বদহজম থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিক্রিয়া ভালোভাবে জানা নেই। বেশি পরিমাণ জায়ফল বা জয়ত্রী ঘুমের ঔষধ ও মস্তিষ্কে কাজ করা ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে। এতে চিনি থাকায় ডায়াবেটিসের ঔষধ খান এমন মানুষের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব পড়তে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য ব্যবহার করেন, সব চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- জয়ত্রী, জায়ফল বা প্যাকেটে লেখা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে, চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে
- গর্ভাবস্থায়, চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লেবেলের মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। কারও কারও বুক জ্বালা, গরম ভাব, বমিভাব বা অ্যালার্জি হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন (যা নেই তা দেখা বা শোনা), রক্তবমি, কালো পায়খানা অথবা পেটে তীব্র ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় বেশি পরিমাণে জয়ত্রী ও জায়ফল এড়িয়ে চলা উচিত। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করবেন না। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাবারের মতো অল্প পরিমাণ সাধারণত গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়, তবে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
দীর্ঘদিনের বদহজম, গিলতে কষ্ট, ওজন কমে যাওয়া, বমি বা কালো পায়খানা হলে চিকিৎসককে দেখান। ডায়াবেটিস থাকলে চিনির পরিমাণ মাথায় রাখুন। মিষ্টি হওয়ায় শিশুরা খেয়ে ফেলতে পারে, তাই তাদের নাগালের বাইরে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি জয়ত্রী খেলে মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বমিভাব, বিভ্রান্তি ও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। কেউ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি খেয়ে ফেললে বা কোনো শিশু খেয়ে ফেললে প্যাকেটসহ নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইউনানি ভেষজ প্রস্তুতি (হজমি ও পাকস্থলীর টনিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং পরিষ্কার শুকনো চামচ ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।