ব্যবহার
কিটোকোনাজল একটি ছত্রাকনাশক ঔষধ। এটি মূলত ত্বক ও মাথার ত্বকে ব্যবহার হয়:
- ক্রিম: শরীর, কুঁচকি ও পায়ের দাদ (টিনিয়া), ক্যান্ডিডাজনিত ত্বকের সংক্রমণ, ছুলি (ত্বকে হালকা বা গাঢ় দাগ) এবং সেবোরিক ডার্মাটাইটিস (মুখ ও বুকে লালচে, আঁশের মতো উঠে যাওয়া ত্বক)।
- শ্যাম্পু: খুশকি, মাথার ত্বকের সেবোরিক ডার্মাটাইটিস ও ছুলি।
- ট্যাবলেট: শুধু গুরুতর ছত্রাক সংক্রমণে যখন অন্য ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যায় না, কঠোর ডাক্তারি তত্ত্বাবধানে, কারণ এতে লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি আছে।
কীভাবে কাজ করে
কিটোকোনাজল ছত্রাককে আরগোস্টেরল তৈরি করতে দেয় না, যা ছত্রাকের কোষপ্রাচীরের একটি অপরিহার্য অংশ। এটি ছাড়া ছত্রাক কোষ নষ্ট হয়ে বাড়া বন্ধ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ক্রিম: আক্রান্ত ত্বক ও আশেপাশে দিনে ১ বা ২ বার লাগান। ত্বক ভালো হওয়ার পরও কয়েক দিন চালিয়ে যান, সব মিলিয়ে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ।
- খুশকির জন্য শ্যাম্পু: চুল ভিজিয়ে ফেনা করুন, ৩ থেকে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন; ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সপ্তাহে ২ বার, তারপর ফিরে আসা ঠেকাতে প্রতি ১ বা ২ সপ্তাহে ১ বার।
- ছুলির জন্য শ্যাম্পু: আক্রান্ত ত্বকে লাগিয়ে ৩ থেকে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন, দিনে ১ বার সর্বোচ্চ ৫ দিন।
- ট্যাবলেট: শুধু ডাক্তারের নির্দেশে, চিকিৎসার আগে ও চলাকালে লিভারের রক্ত পরীক্ষাসহ।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ক্রিম ও শ্যাম্পু: উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ট্যাবলেটের অনেক গুরুতর প্রতিক্রিয়া আছে, যেমন সিমভাস্টাটিন, ডমপেরিডন, কলচিসিন, মুখে খাওয়া মিডাজোলাম ও কিছু হৃৎস্পন্দনের ছন্দের ঔষধের সাথে; ওয়ারফারিনের সাথে; এবং এন্টাসিড ও ওমিপ্রাজলের মতো এসিড কমানোর ঔষধের সাথে, যা এর শোষণ কমায়। আপনি যত ঔষধ খান সবগুলোর কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- কিটোকোনাজল বা অন্য অ্যাজোল জাতীয় ছত্রাকনাশকে এলার্জি থাকলে।
- ট্যাবলেট: লিভারের রোগ থাকলে, এবং যেসব ঔষধের সাথে এটি মেশানো নিষিদ্ধ সেগুলো খেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ক্রিম ও শ্যাম্পু: লাগানোর জায়গায় জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব বা অস্বস্তি; শ্যাম্পুতে চুল তৈলাক্ত বা শুকনো হতে পারে বা চুলের ধরন বদলাতে পারে।
ট্যাবলেট: বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, মাথাব্যথা এবং কদাচিৎ লিভারের গুরুতর ক্ষতি। ত্বক বা চোখ হলুদ হলে, প্রস্রাব গাঢ় হলে, মল ফ্যাকাসে হলে, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ক্ষুধা না থাকলে, অথবা যেকোনো রূপে মুখ বা গলা ফুলে গেলে, ফোসকাযুক্ত র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ক্রিম ও শ্যাম্পু খুব কম শোষিত হয় বলে ক্ষতির আশঙ্কা কম, তবে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শে ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে লাগাবেন না। গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়।
সতর্কতা
- চোখ থেকে দূরে রাখুন; চোখে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- একই জায়গায় স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করে থাকলে ডাক্তার সেটি ধীরে ধীরে বন্ধ করতে বলতে পারেন।
- ২ থেকে ৪ সপ্তাহে সংক্রমণ না কমলে ডাক্তার দেখান।
- ছোটখাটো ত্বক বা নখের সংক্রমণে ট্যাবলেট ব্যবহার করা যাবে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ভুলবশত ক্রিম বা শ্যাম্পু গিলে ফেললে পেটের গোলমাল হতে পারে; ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ট্যাবলেট বেশি খেলে জরুরি চিকিৎসা দরকার।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিডাজোল জাতীয় ছত্রাকনাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।