ব্যবহার
কিটোপ্রোফেন ব্যথা ও প্রদাহ (ফোলা, গরম ভাব ও শক্ত হয়ে যাওয়া) কমায়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (মেরুদণ্ডের প্রদাহজনিত বাত), গেঁটে বাতের হঠাৎ ব্যথা, মাংসপেশি ও গিঁটের ব্যথা, মচকানো, কোমরব্যথা, মাসিকের ব্যথা এবং দাঁতের চিকিৎসা বা অপারেশনের পরের ব্যথায় এটি ব্যবহার হয়। জেল ত্বকে লাগানো হয় মচকানো, টান লাগা এবং গিঁট বা মাংসপেশির স্থানীয় ব্যথায়।
কীভাবে কাজ করে
কিটোপ্রোফেন একটি এনএসএআইডি (নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ)। এটি কক্স এনজাইমকে আটকে দেয়, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন শরীরের এমন রাসায়নিক যা ব্যথা, ফোলা ও জ্বর ঘটায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৫০ mg দিনে ২ বা ৩ বার, অথবা ১০০ mg দিনে ২ বার।
- দীর্ঘক্ষণ কাজ করা (SR) ধরন: সাধারণত দিনে একবার ১০০ থেকে ২০০ mg। পুরোটা গিলে খান; গুঁড়া করবেন না বা চিবাবেন না।
- দিনে ২০০ mg এর বেশি খাবেন না।
- জেল: ব্যথার জায়গায় দিনে ২ বা ৩ বার পাতলা করে লাগিয়ে আলতো করে ঘষুন, ডাক্তার অন্যভাবে না বললে সাধারণত ৭ দিনের বেশি নয়।
- ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স দেন।
ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। যত কম মাত্রায় কাজ হয়, তত কম সময় ধরে খান। শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিনসহ অন্য কোনো এনএসএআইডির সাথে খাবেন না। ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ, প্রেডনিসোলনের মতো স্টেরয়েড এবং এসএসআরআই বিষণ্ণতার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। কিটোপ্রোফেন রক্তচাপের ঔষধ ও প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধের (ডাইইউরেটিক) কাজ কমাতে পারে এবং এগুলোর সাথে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এটি লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- কিটোপ্রোফেনে এলার্জি, অথবা অ্যাসপিরিন বা অন্য এনএসএআইডি খেলে হাঁপানি, চাকা চাকা র্যাশ বা নাক দিয়ে পানি পড়া হলে।
- বর্তমানে বা আগে পাকস্থলীর আলসার বা রক্তপাত থাকলে।
- গুরুতর হার্ট ফেইলিওর, অথবা লিভার বা কিডনির গুরুতর রোগ থাকলে।
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে।
- জেল: ত্বক কাটা-ছেঁড়া বা সংক্রমিত হলে, সেখানে একজিমা থাকলে, বা আগে কিটোপ্রোফেন বা এ ধরনের পণ্য ব্যবহারের পর রোদে ত্বকে প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, বমিভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। জেল: লাগানোর জায়গা লাল হওয়া, চুলকানি এবং রোদে ত্বকের সংবেদনশীলতা।
এসব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- কালো, আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি বা পেটে তীব্র ব্যথা।
- শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, বা ফোসকাসহ গুরুতর র্যাশ।
- বুকে ব্যথা, শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।
- স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম প্রস্রাব হওয়া বা পা ফুলে যাওয়া।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার না বললে গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে ২০ সপ্তাহের পর থেকে, এড়িয়ে চলুন; শেষ ৩ মাসে একদম খাওয়া যাবে না। ডাক্তার না বললে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এড়িয়ে চলুন; উপযুক্ত বিকল্পের বিষয়ে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
বয়স্ক হলে, অথবা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, আগে স্ট্রোক, হাঁপানি, কিডনি বা লিভারের রোগ, বা পেটের সমস্যার ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান। দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় খেলে পাকস্থলীতে রক্তপাত, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। জেল: লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন, চোখে যেন না লাগে, এবং ব্যবহারের সময় ও বন্ধের পর ২ সপ্তাহ পর্যন্ত লাগানো জায়গা রোদ (এবং সানবেড) থেকে ঢেকে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব ও মাথাব্যথা হতে পারে, কখনও কখনও পাকস্থলীতে রক্তপাত, কিডনির সমস্যা বা খিঁচুনি। দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (এনএসএআইডি), প্রোপিওনিক অ্যাসিড গ্রুপ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।