ব্যবহার
এল-অ্যাসপারাজিনেজ একটি এনজাইম জাতীয় ঔষধ, যা অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (ALL) নামের দ্রুত বেড়ে ওঠা রক্তের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, প্রধানত শিশু ও তরুণদের ক্ষেত্রে। এটি সাধারণত অন্যান্য ক্যান্সারের ঔষধের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়। কিছু লিম্ফোমাতেও কখনো ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ALL এর ক্যান্সার কোষ নিজে যথেষ্ট অ্যাসপারাজিন (প্রোটিন তৈরির একটি উপাদান) তৈরি করতে পারে না, তাই রক্তের অ্যাসপারাজিনের উপর নির্ভর করে। এল-অ্যাসপারাজিনেজ রক্তের এই অ্যাসপারাজিন ভেঙে ফেলে। ফলে ক্যান্সার কোষ প্রোটিন তৈরি করতে না পেরে মারা যায়, অথচ বেশিরভাগ স্বাভাবিক কোষ নিজেরাই অ্যাসপারাজিন বানাতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি শুধু হাসপাতালে ব্যবহৃত ঔষধ, যা বিশেষায়িত ক্যান্সার ইউনিটে ডাক্তার বা নার্স মাংসপেশি বা শিরায় ইনজেকশন হিসেবে দেন। শরীরের আকার ও চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ মাত্রা ও সময়সূচি ঠিক করেন; ডাক্তারের নির্দেশমতো দেওয়া হয়। কখনো পরীক্ষামূলক মাত্রা দেওয়া হয় এবং প্রতিবার দেওয়ার পর অ্যালার্জি হচ্ছে কি না তা কাছ থেকে দেখা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কাছাকাছি সময়ে দিলে ভিনক্রিস্টিন ও মেথোট্রেক্সেটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে, তাই বিশেষজ্ঞ সময় ঠিক করেন। এটি রক্ত জমাট বাঁধা ও লিভারের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে, যা ওয়ারফারিন, হেপারিনসহ রক্ত পাতলা করার ঔষধ এবং প্রেডনিসোলনের মতো কর্টিকোস্টেরয়েডের সাথে গুরুত্বপূর্ণ (রক্তে শর্করা বাড়া ও রক্ত জমাটের ঝুঁকি)। আপনি যত ঔষধ খান সব চিকিৎসক দলকে জানান।
কারা খাবেন না
- আগে অ্যাসপারাজিনেজে গুরুতর অ্যালার্জি হয়ে থাকলে।
- আগে প্যানক্রিয়াটাইটিস (অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ) হয়ে থাকলে, বিশেষত এই ঔষধের কারণে।
- আগে অ্যাসপারাজিনেজে গুরুতর রক্ত জমাট বা রক্তক্ষরণ হয়ে থাকলে।
- গুরুতর লিভারের রোগ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: অ্যালার্জি (র্যাশ, চুলকানি, জ্বর), বমি বমি ভাব, বমি, ক্লান্তি, লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া ও রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া। গুরুতর: প্যানক্রিয়াটাইটিস, রক্ত জমাট (মস্তিষ্কেও), রক্তক্ষরণ, তীব্র অ্যালার্জি ও লিভারের ক্ষতি।
পিঠের দিকে ছড়ানো তীব্র পেটব্যথা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া বা অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসার সময় এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো পরের কয়েক মাস নারীদের গর্ভধারণ এড়াতে নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত নয়।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় রক্তে শর্করা, রক্ত জমাট, লিভার ও অগ্ন্যাশয় দেখা হয়।
- ডায়াবেটিস থাকলে শর্করা আরও কড়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে।
- অ্যালার্জির যেকোনো লক্ষণ, হালকা হলেও, সাথে সাথে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। হলে চিকিৎসক দল সহায়ক চিকিৎসা দেন ও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সার প্রতিরোধী (অ্যান্টিনিওপ্লাস্টিক) এনজাইম।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়, জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।