ব্যবহার
এল-লাইসিন একটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড, অর্থাৎ প্রোটিনের একটি উপাদান যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না, খাবার থেকে পেতে হয়। সাপ্লিমেন্ট হিসেবে, সাধারণত ভিটামিনের সাথে সিরাপ বা ট্যাবলেটে, এটি অপুষ্টি বা অসুখ থেকে সেরে ওঠা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের খিদে, বৃদ্ধি ও সাধারণ পুষ্টিতে সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়। ঠোঁটের জ্বরঠোঁটা (হারপিস সিমপ্লেক্স) কম হওয়ার জন্যও কখনো কখনো এটি ব্যবহার করা হয়, যদিও এর প্রমাণ মিশ্র। কিছু জেলে এটি ত্বক বা মাড়ির যত্নে অন্য উপাদানের সাথে থাকে।
কীভাবে কাজ করে
শরীরের প্রোটিন, পেশি, এনজাইম, হরমোন ও অ্যান্টিবডি তৈরিতে, ত্বক, হাড় ও সংযোগকারী টিস্যুর কোলাজেন তৈরিতে এবং অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে লাইসিন প্রয়োজন। এটি আর্জিনিন নামের আরেকটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে, যা জ্বরঠোঁটার ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিতে দরকার হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। লাইসিনযুক্ত ভিটামিন সিরাপ বা ট্যাবলেট সাধারণত দিনে এক বা দুইবার খাবারের সাথে বা পরে খেতে হয়, পরিমাণ বয়স অনুযায়ী। জ্বরঠোঁটা প্রতিরোধে প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত দিনে প্রায় ১ g খান; লেবেলের মাত্রার বেশি খাবেন না। জেল প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী লাগান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লাইসিন ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়াতে পারে; উচ্চ মাত্রার ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের সাথে সাবধান থাকুন। জেন্টামাইসিনের মতো অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে প্রতিক্রিয়া করে কিডনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত অন্য ঔষধ খেলে উচ্চ মাত্রার লাইসিনের আগে ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
কারা খাবেন না
কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। লাইসিন বিপাকের বিরল বংশগত রোগ (যেমন লাইসিনুরিক প্রোটিন ইনটোলারেন্স) থাকলে লাইসিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। কিডনির রোগ থাকলে উচ্চ মাত্রা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খাবেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় এটি ভালোভাবে সহ্য হয়। উচ্চ মাত্রায় পেটব্যথা, বমিভাব বা ডায়রিয়া হতে পারে। কদাচিৎ দীর্ঘদিন খুব উচ্চ মাত্রার সাথে কিডনির সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ, অথবা পা ফোলাসহ প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবার থেকে পাওয়া লাইসিন গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ। স্বাভাবিক খাদ্যের চেয়ে বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট ভালোভাবে গবেষণা করা হয়নি; ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
সাপ্লিমেন্ট সুষম খাদ্যের বিকল্প নয়। শিশুর দীর্ঘদিন খিদে কম বা বৃদ্ধি কম হলে মূল কারণ খুঁজতে ডাক্তার দেখান। ডায়াবেটিস থাকলে লেবেলে চিনির পরিমাণ এবং মিশ্র পণ্যে অন্য ভিটামিন দেখে নিন, যাতে একই উপাদান দুবার না হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের অস্বস্তি ও ডায়রিয়া হতে পারে। বেশি পরিমাণ গিলে ফেললে, বিশেষ করে শিশু, ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যামিনো অ্যাসিড পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সিরাপ খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে শেষ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।