ব্যবহার
ল্যাকোসামাইড একটি মৃগীরোগের (এপিলেপসি) ঔষধ। মস্তিষ্কের একটি অংশ থেকে শুরু হওয়া খিঁচুনি (ফোকাল সিজার), যা পরে পুরো মস্তিষ্কে ছড়াতে পারে বা না-ও পারে, তা নিয়ন্ত্রণে প্রাপ্তবয়স্ক ও বড় শিশুদের এটি দেওয়া হয়। এটি একাই বা অন্য খিঁচুনির ঔষধের সাথে যোগ করে ব্যবহার করা যায়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সারা শরীরের খিঁচুনিতেও অতিরিক্ত ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ সোডিয়াম চ্যানেল নামের ছোট পথ দিয়ে সংকেত পাঠায়। খিঁচুনির সময় এই কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বারবার সংকেত দেয়। ল্যাকোসামাইড এই চ্যানেলগুলোকে ধীরে খুলতে দেয়, ফলে অতিসক্রিয় স্নায়ুকোষ শান্ত হয় এবং স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত না করেই খিঁচুনি কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন। সাধারণত কম মাত্রায়, প্রায়ই দিনে দুইবার ৫০ mg দিয়ে শুরু করা হয় এবং খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত চিকিৎসক প্রতি সপ্তাহে ধাপে ধাপে মাত্রা বাড়ান। প্রতিদিন একই সময়ে খাবারের সাথে বা ছাড়া পানি দিয়ে পুরো ট্যাবলেট গিলে খান। হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে। কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগে কম মাত্রা লাগে। হাসপাতালে প্রয়োজনে চিকিৎসক বা নার্স শিরায় এটি দিতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ, যেমন কার্বামাজেপিন, ল্যামোট্রিজিন, প্রিগাবালিন, বিটা ব্লকার, একসাথে খেলে হৃদযন্ত্রে প্রভাব বাড়তে পারে।
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভির রক্তে এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
- রিফাম্পিসিন, ফেনিটয়েন ও কার্বামাজেপিন এর মাত্রা কমাতে পারে।
- অ্যালকোহল ও ঘুমের ঔষধ মাথা ঘোরা ও ঝিমুনি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- ল্যাকোসামাইড বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক পরিবহনে দ্বিতীয় বা তৃতীয় মাত্রার ব্লক (হার্ট ব্লক) থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, একটি জিনিস দুটি দেখা, বমিভাব, বমি, ক্লান্তি, হাঁটায় ভারসাম্যহীনতা, কাঁপুনি ও ঝাপসা দেখা। কম দেখা যায়: ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, স্মৃতির সমস্যা, মেজাজ পরিবর্তন ও চুলকানি।
অজ্ঞান হয়ে গেলে, হৃৎস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হলে, বুকে ব্যথা, জ্বরসহ ফোসকাপড়া গুরুতর র্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে গেলে, অথবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনি মা ও শিশু দুজনেরই ক্ষতি করতে পারে; দ্রুত চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। ঔষধটি বুকের দুধে যায়, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- অন্যান্য খিঁচুনির ঔষধের মতো এটি কদাচিৎ মন খারাপ বা আত্মহত্যার চিন্তা আনতে পারে; পরিবারের সদস্যরা আচরণের পরিবর্তন খেয়াল রাখুন।
- মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখা হতে পারে, তাই প্রভাব না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার আগে ও চলাকালে ইসিজি করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে তীব্র মাথা ঘোরা, বমিভাব, খিঁচুনি, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা ও অজ্ঞান হওয়া হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে সহায়ক চিকিৎসা ও হৃদযন্ত্র পর্যবেক্ষণ করা হয়; ডায়ালাইসিসে কিছু ঔষধ বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মৃগীরোগ প্রতিরোধী (অ্যান্টিকনভালস্যান্ট) ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।