ব্যবহার
ল্যাকটিটল একটি জোলাপ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের কোষ্ঠকাঠিন্য চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমে যে বিভ্রান্তি হয় (হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি), তা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়ও ডাক্তারের নির্দেশে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
ল্যাকটিটল এক ধরনের সুগার অ্যালকোহল, যা ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয় না। বৃহদন্ত্রে স্বাভাবিক জীবাণু একে ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে। এগুলো অন্ত্রে পানি টেনে আনে, ফলে মল নরম হয় ও সহজে বের হয়। এই অম্লতা অন্ত্র থেকে অ্যামোনিয়া (লিভারজনিত বিভ্রান্তির সাথে যুক্ত বিষাক্ত পদার্থ) শোষণও কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের কোষ্ঠকাঠিন্যে সাধারণত শুরুতে দিনে ১ বার ২০ g, তারপর দিনে একবার নরম মল হওয়া পর্যন্ত ১০ g থেকে ২০ g এ সমন্বয় করা হয়, অথবা লেবেলের নির্দেশমতো। দানা বা পাউডার এক গ্লাস পানি, জুস বা দুধে গুলে বা খাবারের সাথে মিশিয়ে খাবারের সময়, সাধারণত সকালে বা সন্ধ্যায় খান। দিনে ১ থেকে ২ লিটার তরল পান করুন। কাজ শুরু হতে ১ থেকে ২ দিন লাগতে পারে। হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথিতে ডাক্তারের নির্দেশমতো খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যান্টাসিড ও নিওমাইসিনের মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। ডায়রিয়া হলে ডাইউরেটিক বা স্টেরয়েডের সাথে খেলে পটাশিয়াম কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ল্যাকটিটল ও অন্য ঔষধের মধ্যে প্রায় ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন, কারণ দ্রুত মলত্যাগে অন্য ঔষধের শোষণ কমতে পারে।
কারা খাবেন না
- অন্ত্রে বাধা, অন্ত্র ফুটো হওয়া বা এগুলোর ঝুঁকি থাকলে।
- কারণ অজানা পেটব্যথা বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলে।
- গ্যালাকটোসেমিয়া (বংশগত শর্করা বিপাকের রোগ) থাকলে।
- ল্যাকটিটলে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শুরুতে পেটে গ্যাস, ফাঁপা ভাব, পেট ডাকা, অস্বস্তি ও পাতলা পায়খানা সাধারণ, যা কয়েক দিনে বা মাত্রা কমালে কমে যায়। মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি হতে পারে।
তীব্র পেটব্যথা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা মাংসপেশিতে টান সহ একটানা ডায়রিয়া (শরীর থেকে বেশি পানি ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষণ) অথবা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ল্যাকটিটল খুব সামান্য শোষিত হয়, তাই শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা কম। ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শে গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যায়।
সতর্কতা
কোষ্ঠকাঠিন্য ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে, মলত্যাগের অভ্যাস বদলালে, ওজন কমলে বা মলে রক্ত গেলে ডাক্তার দেখান। দীর্ঘদিন প্রতিদিন ব্যবহার ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে করা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীরা মনে রাখবেন এতে অল্প পরিমাণ শর্করা থাকে। দীর্ঘ ডায়রিয়া হলে বয়স্ক বা দুর্বল ব্যক্তির রক্তের লবণ পরীক্ষা করা উচিত। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাধারণত শিশুদের দেওয়া হয় না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ডায়রিয়া ও পেটব্যথা হতে পারে। ঔষধ বন্ধ করে প্রচুর তরল পান করুন; ডায়রিয়া তীব্র হলে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অসমোটিক জোলাপ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে স্যাশে বা পাত্র বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।