ব্যবহার
ল্যান্থানাম কার্বনেট দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে, বিশেষ করে ডায়ালাইসিসে থাকা রোগীদের, রক্তে বেশি ফসফেট (হাইপারফসফেটিমিয়া) কমাতে ব্যবহৃত হয়। বেশি ফসফেট হাড় দুর্বল করতে পারে এবং রক্তনালি ও হৃদপিণ্ডে ক্যালসিয়াম জমা করতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
ল্যান্থানাম একটি ফসফেট বাইন্ডার। পাকস্থলী ও অন্ত্রে এটি খাবারের ফসফেটের সাথে যুক্ত হয়ে এমন একটি যৌগ তৈরি করে যা শোষিত হয় না। এই যৌগ মলের সাথে বের হয়ে যায়, ফলে কম ফসফেট রক্তে পৌঁছায়। ল্যান্থানাম নিজে খুব সামান্যই শোষিত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কিডনি বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সেবন করুন। রক্তের ফসফেটের ফলাফল অনুযায়ী কয়েক সপ্তাহ পরপর মাত্রা সমন্বয় করা হয়। ট্যাবলেট গিলে ফেলার আগে অবশ্যই পুরোপুরি চিবিয়ে (বা গুঁড়া করে) খেতে হবে, কখনো আস্ত গিলবেন না, এবং খাবারের সাথে বা খাওয়ার ঠিক পরে খেতে হবে; দৈনিক মাত্রা খাবারগুলোর মধ্যে ভাগ করে নিন। কোনো বেলার খাবার না খেলে সেই ডোজও বাদ দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ল্যান্থানাম কিছু ঔষধের শোষণ কমাতে পারে। সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অন্যান্য কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, লেভোথাইরক্সিন, টেট্রাসাইক্লিন ও ডক্সিসাইক্লিন ল্যান্থানামের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ ঘণ্টা পরে খান, অথবা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী। অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিডও সময়ের ব্যবধানে খাওয়া উচিত।
কারা খাবেন না
রক্তে ফসফেট কম থাকলে, অন্ত্রে বাধা (ব্লক) থাকলে, অথবা ল্যান্থানাম কার্বনেট বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা, পেটে গ্যাস ও মাথাব্যথা। রক্তে ক্যালসিয়াম কমে যেতে পারে।
পেটে তীব্র ব্যথা, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফুলে যাওয়া, থামছে না এমন বমি, অথবা কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন; এগুলো অন্ত্রে বাধা বা ছিদ্রের লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে ট্যাবলেট ঠিকমতো না চিবিয়ে খেলে। অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় তথ্য সীমিত, তাই চিকিৎসক প্রয়োজনীয় মনে না করলে ল্যান্থানাম পরামর্শ করা হয় না।
সতর্কতা
ট্যাবলেট পুরোপুরি চিবিয়ে খান। অন্ত্রের অপারেশন, অন্ত্রে বাধা, ধীর অন্ত্রগতি, পাকস্থলীর ঘা বা ক্রোনস রোগের ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। রক্তের ফসফেট ও ক্যালসিয়াম নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। পেটের এক্স-রেতে ল্যান্থানাম দেখা যেতে পারে এবং কন্ট্রাস্ট এজেন্টের মতো মনে হতে পারে। ডায়ালাইসিস দলের দেওয়া কম ফসফেটযুক্ত খাবারের নিয়ম মেনে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমি ভাব, মাথাব্যথা ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফসফেট বাইন্ডার (ল্যান্থানাম লবণ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।