ব্যবহার
ল্যাটেক্স কনডম হলো একটি পাতলা আবরণ, যা সহবাসের সময় উত্থিত লিঙ্গে পরা হয়। এটি গর্ভধারণ প্রতিরোধ করতে এবং এইচআইভি, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া ও সিফিলিসসহ যৌনবাহিত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত হয়। এই পণ্য পরিসরে সুগন্ধি বা স্বাদযুক্ত, খাঁজকাটা এবং বাড়তি লুব্রিকেন্টযুক্ত বিভিন্ন ধরন আছে, যেগুলোর অনুভূতি আলাদা হলেও কাজের ধরন একই।
কীভাবে কাজ করে
প্রাকৃতিক রাবার ল্যাটেক্স দিয়ে তৈরি কনডম একটি বাধা তৈরি করে। এটি বীর্য ধরে রাখে, ফলে শুক্রাণু যোনিতে পৌঁছাতে পারে না, এবং সংক্রমণ বহনকারী শরীরের তরল ও ত্বকের সংস্পর্শ কমায়। এতে কোনো হরমোন নেই এবং ব্যবহার বন্ধ করলে প্রজনন ক্ষমতায় কোনো প্রভাব থাকে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রতিবার সহবাসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নতুন কনডম ব্যবহার করুন।
- মেয়াদ শেষের তারিখ দেখুন এবং প্যাকেট ছেঁড়া বা ভেতরে শুকনো কি না তা যাচাই করুন।
- দাঁত, কাঁচি বা ধারালো নখ নয়, আঙুল দিয়ে সাবধানে প্যাকেট খুলুন।
- মাথার অংশ চেপে বাতাস বের করে দিন এবং যেকোনো যৌনাঙ্গ সংস্পর্শের আগেই উত্থিত লিঙ্গের গোড়া পর্যন্ত কনডম গুটিয়ে নামিয়ে দিন।
- বীর্যপাতের পর লিঙ্গ উত্থিত থাকা অবস্থাতেই কনডমের কিনারা ধরে বের করে আনুন।
- ব্যবহৃত কনডম টিস্যুতে মুড়ে ডাস্টবিনে ফেলুন, টয়লেটে নয়।
স্বাদযুক্ত কনডম মুখমৈথুনের জন্য তৈরি; যোনিপথে সহবাসে অস্বস্তি এড়াতে সাধারণ কনডম বেশি উপযোগী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
তেলজাতীয় পণ্য ল্যাটেক্সকে দুর্বল করে কনডম ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। পেট্রোলিয়াম জেলি, বেবি অয়েল, নারকেল তেল, সরিষার তেল, বডি লোশন বা মাখন লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহার করবেন না। কিছু যোনিপথ বা মলদ্বারের ক্রিম ও পেসারি, যেমন কিছু মাইকোনাজল বা ক্লোট্রিমাজল পণ্য, ল্যাটেক্সের ক্ষতি করতে পারে; লিফলেট দেখে নিন। শুধু পানিভিত্তিক বা সিলিকনভিত্তিক লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন।
কারা খাবেন না
আপনার বা সঙ্গীর ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি থাকলে ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করবেন না। পলিইউরেথেন বা পলিআইসোপ্রিন দিয়ে তৈরি ল্যাটেক্সমুক্ত কনডম বিকল্প হতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ মানুষের কোনো সমস্যা হয় না। কারও কারও হতে পারে:
- লিঙ্গ বা যোনিতে হালকা চুলকানি, লালচে ভাব বা অস্বস্তি
- লুব্রিকেন্ট, স্বাদ বা সুগন্ধে সংবেদনশীলতা
সংস্পর্শের পর কোনো সঙ্গীর চাকা চাকা র্যাশ, ঠোঁট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসে শাঁ শাঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ এটি গুরুতর ল্যাটেক্স অ্যালার্জি হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কনডম নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এসব সংক্রমণ শিশুর ক্ষতি করতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি একটি ভালো হরমোনমুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।
সতর্কতা
একসাথে দুটি কনডম পরবেন না বা একটি কনডম আবার ব্যবহার করবেন না, কারণ ঘর্ষণে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কনডম ফেটে গেলে বা খুলে গেলে যত দ্রুত সম্ভব, ভালো হয় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, জরুরি গর্ভনিরোধক নেওয়া যায় এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের পরীক্ষা করানোর কথা ভাবুন। কনডম গর্ভধারণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমায়, তবে হারপিস ও যৌনাঙ্গের আঁচিলের মতো ত্বকের সংস্পর্শে ছড়ানো সংক্রমণের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
প্রযোজ্য নয়। কোনো শিশু কনডম মুখে দিলে শ্বাসরোধ এড়াতে তা বের করে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বাধাদানকারী জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ (পুরুষের ল্যাটেক্স কনডম)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, সরাসরি সূর্যালোক, তাপ ও ধারালো জিনিস থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। দীর্ঘ সময় মানিব্যাগে বা গাড়িতে কনডম রাখবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।