ব্যবহার
লেফামুলিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা প্রাপ্তবয়স্কদের কমিউনিটি-অ্যাকুয়ার্ড ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া (হাসপাতালের বাইরে হওয়া ফুসফুসের সংক্রমণ) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। স্ট্রেপ্টোককাস নিউমোনি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং মাইকোপ্লাজমা, ক্লামাইডোফিলা ও লিজিওনেলার মতো অ্যাটিপিক্যাল জীবাণুসহ নিউমোনিয়ার সাধারণ জীবাণুর বিরুদ্ধে এটি কাজ করে।
কীভাবে কাজ করে
এটি প্লুরোমিউটিলিন গোষ্ঠীর ঔষধ। এটি ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন তৈরির অংশ (রাইবোজোম) এর সাথে যুক্ত হয়ে বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি বন্ধ করে দেয়। এটি একটি অনন্য জায়গায় কাজ করে বলে অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে প্রতিরোধী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত ৬০০ mg প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর ৫ দিন, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। খালি পেটে, খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে, এক গ্লাস পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান। হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স শিরায় ইনফিউশন হিসেবেও এটি দেন। ভালো বোধ করলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লেফামুলিন লিভারের CYP3A4 এনজাইমে প্রক্রিয়াজাত হয়। কিটোকোনাজোল, ক্লারিথ্রোমাইসিন বা রিটোনাভিরের মতো শক্তিশালী ইনহিবিটর এবং রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন বা ফেনিটয়েনের মতো শক্তিশালী ইনডিউসার ট্যাবলেটের সাথে খাওয়া উচিত নয়। এটি মিডাজোলামের মতো ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে। QT ব্যবধান বাড়ায় এমন ঔষধ (কিছু অ্যান্টিঅ্যারিদমিক, ইরিথ্রোমাইসিন, হ্যালোপেরিডল, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট) এড়িয়ে চলুন। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
লেফামুলিন বা অন্য প্লুরোমিউটিলিনে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা QT বাড়ায় এমন CYP3A4 নির্ভর ঔষধ (যেমন পিমোজাইড) খেলে এটি খাবেন না। গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ট্যাবলেটে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব ও বমি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া পেটব্যথা, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, পটাশিয়াম কমা ও লিভার এনজাইম বাড়া হতে পারে। ইনফিউশনে ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা হতে পারে। এটি হার্টের তরঙ্গে QT ব্যবধান বাড়াতে পারে। অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের মতো গুরুতর অন্ত্রের সংক্রমণ (ক্লোস্ট্রিডিওয়েডিস ডিফিসিল) হতে পারে।
দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
লেফামুলিন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে এমন নারীদের গর্ভধারণ নেই নিশ্চিত করতে হবে এবং চিকিৎসাকালে ও শেষ মাত্রার পর ২ দিন কার্যকর জন্মনিরোধক ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসাকালে ও শেষ মাত্রার পর ২ দিন বুকের দুধ খাওয়াবেন না; এই সময় দুধ বের করে ফেলে দিতে পারেন।
সতর্কতা
হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, কম পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম, বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান। QT বাড়ার ঝুঁকি থাকলে ইসিজি লাগতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ব্যবহার করুন। কয়েক দিনে উন্নতি না হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অভিজ্ঞতা সীমিত। বেশি খেলে পেটের সমস্যা ও হৃৎস্পন্দনের গোলমাল বাড়তে পারে। চিকিৎসা নিন; হার্ট পর্যবেক্ষণসহ উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
জীবাণুনাশক, প্লুরোমিউটিলিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
ট্যাবলেট ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।