ব্যবহার
লেফ্লুনোমাইড একটি রোগের গতি পরিবর্তনকারী ঔষধ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের সক্রিয় রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে এবং কখনো কখনো সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসে ব্যবহার করা হয়। এটি গিঁটের ব্যথা, ফোলা ও শক্ত ভাব কমায় এবং সময়ের সাথে গিঁটের ক্ষতি ধীর করে।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে গিয়ে লেফ্লুনোমাইড একটি সক্রিয় উপাদানে পরিণত হয়, যা ডাইহাইড্রোওরোটেট ডিহাইড্রোজিনেজ নামের এনজাইমকে বাধা দেয়। দ্রুত বিভাজিত রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোর বংশবৃদ্ধির জন্য এই এনজাইম দরকার। এদের গতি কমিয়ে এটি অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করে, যা গিঁটের প্রদাহের কারণ। সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর উপকার শুরু হয় এবং কয়েক মাস ধরে বাড়তে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেওয়া মাত্রা ঠিক মেনে চলুন। কখনো শুরুতে কয়েক দিন বেশি মাত্রা দিয়ে পরে কম দৈনিক মাত্রায় চালানো হয়। ট্যাবলেট পুরোটা পানি দিয়ে গিলে খান, খাবারের আগে বা পরে, প্রতিদিন একই সময়ে। চিকিৎসার সময় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মেথোট্রেক্সেট এবং লিভার বা অস্থিমজ্জার ক্ষতি করতে পারে এমন অন্য ঔষধের সাথে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়তে পারে, তাই রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা দরকার।
- চিকিৎসার সময় ও পরে কিছুদিন জীবন্ত টিকা নেওয়া এড়িয়ে চলুন।
- কোলেস্টাইরামিন ও অ্যাক্টিভেটেড চারকোল শরীর থেকে লেফ্লুনোমাইড দ্রুত বের করে দেয়; প্রয়োজনে ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো দেওয়া হয়।
- অ্যালকোহল লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- লেফ্লুনোমাইড বা টেরিফ্লুনোমাইডে অ্যালার্জি থাকলে।
- গর্ভাবস্থায়, অথবা গর্ভধারণ সম্ভব কিন্তু নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করছেন না এমন নারী।
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- লিভারের রোগ, তীব্র কিডনি রোগ, গুরুতর সংক্রমণ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার তীব্র ঘাটতি বা রক্তকণিকা কম থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণভাবে ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া, চুল পাতলা হওয়া, র্যাশ, চুলকানি, রক্তচাপ বাড়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও ওজন কমা হতে পারে।
ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, জ্বর, গলাব্যথা বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত, ফোসকা পড়া বা চামড়া ওঠা তীব্র র্যাশ, নতুন কাশি বা শ্বাসকষ্ট, কিংবা হাত-পায়ে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
লেফ্লুনোমাইড গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। শুরু করার আগে গর্ভধারণ নেই তা নিশ্চিত করতে হয় এবং চিকিৎসার সময় নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ দরকার। ঔষধটি শরীরে প্রায় ২ বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে, তাই সন্তান নিতে চাইলে (পুরুষরাও) ঔষধ বের করে দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। এটি খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- শুরুর আগে ও চিকিৎসার সময় নিয়মিত রক্তকণিকা, লিভার পরীক্ষা ও রক্তচাপ দেখা হয়।
- যেকোনো সংক্রমণ, আগে যক্ষ্মা হয়ে থাকলে তাও চিকিৎসককে জানান।
- অ্যালকোহল সীমিত রাখুন।
- চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে ঔষধ বন্ধ করবেন না বা মাত্রা বদলাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ডায়রিয়া, পেটব্যথা, লিভারের সমস্যা ও রক্তকণিকা কমে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন; চিকিৎসক ঔষধ বের করতে কোলেস্টাইরামিন বা চারকোল দিতে পারেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রোগের গতি পরিবর্তনকারী বাতরোগের ঔষধ (DMARD), ইমিউনোমডুলেটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।