ব্যবহার
লেভেটিরাসেটাম মৃগীর চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এটি এককভাবে বা অন্য ঔষধের সাথে ফোকাল (আংশিক) খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করে, সেটি সারা মস্তিষ্কে ছড়াক বা না ছড়াক। মায়োক্লোনিক খিঁচুনি (হঠাৎ ঝাঁকুনি) ও জেনারেলাইজড টোনিক-ক্লোনিক খিঁচুনিতে অন্য চিকিৎসার সাথে যোগ করা হয়। ট্যাবলেট খাওয়া সম্ভব না হলে হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
লেভেটিরাসেটাম একটি খিঁচুনিরোধী ঔষধ। এটি স্নায়ুকোষের মধ্যে রাসায়নিক বার্তাবাহক ছাড়ার কাজে জড়িত একটি প্রোটিনে (SV2A) যুক্ত হয়ে মস্তিষ্কের অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ শান্ত করে, ফলে খিঁচুনি প্রতিরোধ হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ঠিক ডাক্তারের দেওয়া নিয়মে খান, সাধারণত দিনে দুইবার প্রায় একই সময়ে, খাবারের আগে বা পরে, ট্যাবলেট পানি দিয়ে আস্ত গিলে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত দিনে দুইবার ২৫০ থেকে ৫০০ mg দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণের মাত্রায় বাড়ানো হয়, সর্বোচ্চ দিনে দুইবার ১৫০০ mg পর্যন্ত। কিডনির সমস্যা থাকলে কম মাত্রা লাগে। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া খুব কম জানা আছে।
- মদ ও ঝিমুনি আনা অন্য ঔষধ ঘুম ঘুম ভাব ও মাথা ঘোরা বাড়াতে পারে।
- এটি মেথোট্রেক্সেট শরীর থেকে বের হওয়া ধীর করতে পারে; রক্তের মাত্রা পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
- মাত্রার এক ঘণ্টার মধ্যে কিছু জোলাব (যেমন ম্যাক্রোগোল) খেলে এর কাজ কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
লেভেটিরাসেটাম, একই ধরনের ঔষধ (পাইরোলিডন জাতীয়) বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ঘুম ঘুম ভাব, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা বা সর্দি, খিদে কমা এবং মেজাজের পরিবর্তন, যেমন খিটখিটে ভাব, উদ্বেগ বা মন খারাপ।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসে; মেজাজ বা আচরণে তীব্র পরিবর্তন, আক্রমণাত্মক আচরণ বা বিভ্রান্তি হয়; খিঁচুনি বেশি ঘন ঘন বা বেশিক্ষণ ধরে হয়; ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো মারাত্মক র্যাশ, বা জ্বর ও গ্রন্থি ফোলার সাথে র্যাশ হয়; মুখ বা গলা ফুলে যায়; অথবা জ্বরসহ সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; নিজে নিজে ঔষধ বন্ধ করবেন না, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনি মা ও শিশু দুজনের জন্যই বিপজ্জনক। গর্ভাবস্থায় ডাক্তাররা যেসব ঔষধ বিবেচনা করেন লেভেটিরাসেটাম তার একটি, এবং সাধারণত ফলিক অ্যাসিড খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানো উপযুক্ত কি না তা ডাক্তার ঠিক করবেন, এবং শিশুর অতিরিক্ত ঘুমের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সতর্কতা
- হঠাৎ বন্ধ করবেন না; খিঁচুনি এড়াতে ডাক্তারের পরামর্শে ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হয়।
- কিডনির সমস্যা বা আগে বিষণ্ণতা বা মেজাজের সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান। পরিবারের সদস্যরা মেজাজ বা আচরণের পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখবেন।
- ঔষধটি আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না, এবং মৃগী নিয়ে গাড়ি চালানোর স্থানীয় নিয়ম মেনে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে গভীর ঝিমুনি, অস্থিরতা, আক্রমণাত্মক আচরণ, শ্বাস ধীর হওয়া ও অচেতনতা হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খিঁচুনিরোধী (অ্যান্টিএপিলেপটিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।