ব্যবহার
লেভোনরজেস্ট্রেল একটি হরমোন, যা গর্ভধারণ প্রতিরোধে ব্যবহার হয়। একক উচ্চমাত্রার ট্যাবলেট হিসেবে এটি জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়, যেমন অরক্ষিত সহবাসের পর বা নিয়মিত পদ্ধতি ব্যর্থ হলে (কনডম ছিঁড়ে যাওয়া বা পিল বাদ পড়া)। কম মাত্রায় এটি নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের অংশ, প্রায়ই ইথিনাইলএস্ট্রাডিওলের সাথে, এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ ইমপ্ল্যান্ট ও হরমোনযুক্ত জরায়ু-যন্ত্রেও (আইইউডি) ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণে এটি মূলত ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হওয়া পিছিয়ে দেয় বা বন্ধ করে। নিয়মিত পদ্ধতিতে এটি জরায়ুমুখের শ্লেষ্মা ঘন করে, ফলে শুক্রাণু সহজে যেতে পারে না। ইতিমধ্যে শুরু হওয়া গর্ভাবস্থা এটি নষ্ট করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ, প্রাপ্তবয়স্ক: অরক্ষিত সহবাসের পর যত দ্রুত সম্ভব একবারে ১.৫ mg (একটি ১.৫ mg ট্যাবলেট, অথবা দুটি ০.৭৫ mg ট্যাবলেট একসাথে), সম্ভব হলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এবং কোনোভাবেই ৭২ ঘণ্টার (৩ দিন) পরে নয়। যত আগে খাবেন, তত ভালো কাজ করে। খাওয়ার ৩ ঘণ্টার মধ্যে বমি হলে আরেকটি ডোজ খান এবং ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন। নিয়মিত পিল: প্যাকেটের নির্দেশ বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডি প্রশিক্ষিত ডাক্তার বা নার্স বসান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- লিভারের এনজাইম বাড়িয়ে দেয় এমন ঔষধ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে, যেমন রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল, ইফাভিরেঞ্জের মতো কিছু এইচআইভির ঔষধ এবং সেন্ট জনস ওয়ার্ট। গত ৪ সপ্তাহে এগুলোর কোনোটি খেয়ে থাকলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন; অন্য পদ্ধতি বা মাত্রার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
- ইউলিপ্রিস্টাল অ্যাসিটেট খাওয়ার ৫ দিনের মধ্যে এটি খাবেন না, কারণ একটি অন্যটির কাজ কমিয়ে দিতে পারে।
- সাইক্লোস্পোরিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- নিশ্চিতভাবে গর্ভবতী হলে (এটি কাজ করবে না এবং এটি গর্ভপাতের ঔষধ নয়)।
- লেভোনরজেস্ট্রেল বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- দীর্ঘমেয়াদি নিয়মিত ব্যবহারে: বর্তমানে বা আগে স্তন ক্যান্সার, লিভারের গুরুতর রোগ, বা কারণ জানা নেই এমন যোনিপথে রক্তপাত।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, তলপেটে ব্যথা, স্তনে ব্যথা, এবং পরের মাসিকে পরিবর্তন (আগে বা পরে হতে পারে, বা ফোঁটা ফোঁটা রক্ত যেতে পারে)।
নিচের যেকোনোটি হলে সাথে সাথে চিকিৎসা নিন:
- তলপেটে তীব্র ব্যথা, বিশেষ করে মাসিক না হওয়া বা দেরি হওয়ার সাথে, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা কাঁধের ডগায় ব্যথা (জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ বা একটোপিক প্রেগন্যান্সির লক্ষণ হতে পারে)।
- মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা মারাত্মক র্যাশ।
- খুব বেশি বা দীর্ঘ সময় ধরে রক্তপাত।
পরের মাসিক ৭ দিনের বেশি দেরি হলে বা অস্বাভাবিক কম হলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করুন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ইতিমধ্যে গর্ভবতী হলে এটি খাওয়া উচিত নয়। খাওয়ার পরও গর্ভধারণ হলে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী শিশুর ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়। জরুরি ডোজের ক্ষেত্রে ঔষধের লিফলেটে পরামর্শ দেওয়া হয় খাওয়ার ঠিক আগে বুকের দুধ খাওয়াতে, তারপর প্রায় ৮ ঘণ্টা বুকের দুধ না খাওয়াতে (দুধ বের করে ফেলে দিতে)। কম মাত্রার নিয়মিত প্রোজেস্টোজেন পদ্ধতি বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যায়।
সতর্কতা
- জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়মিত পদ্ধতির বিকল্প নয়; নিয়মিত পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ নিন।
- এটি শুধু ডোজের আগের অরক্ষিত সহবাস থেকে সুরক্ষা দেয়, একই চক্রে পরের সহবাস থেকে নয়; পরের মাসিক পর্যন্ত কনডম ব্যবহার করুন।
- যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় না।
- আগে জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ, তলপেটের সংক্রমণ, হজমের গুরুতর সমস্যা বা লিভারের রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি ও যোনিপথে রক্তপাত হতে পারে। গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে বিশেষ করে শিশু খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোজেস্টোজেন (হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।