ব্যবহার
লেভোমেন্থল (মেন্থলের প্রাকৃতিক রূপ) মূলত কাশি ও সর্দির সিরাপে থাকে, ডাইফেনহাইড্রামিন, গুয়াইফেনেসিন বা ডেক্সট্রোমেথরফানের মতো উপাদানের সাথে। এটি কাশি, গলা খুসখুস ও নাক বন্ধ ভাব কমাতে সাহায্য করে। নাক ও বুকের কফ জমার কিছু ইনহেলেশন পণ্যেও এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
লেভোমেন্থল নাক, মুখ ও গলার ঠান্ডা অনুভবকারী স্নায়ুতে কাজ করে। এতে ঠান্ডা ও আরামদায়ক অনুভূতি হয়, নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া সহজ মনে হয় এবং কাশির ভাব কমে। এটি উপসর্গ কমায়, সর্দি বা কাশির কারণ সারায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- মাত্রা কম্বিনেশন ঔষধের উপর নির্ভর করে। লেবেল বা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন; বড়দের অনেক কাশির সিরাপে এটি দিনে তিন বা চারবার ৫ থেকে ১০ ml।
- শিশু: শুধু শিশুদের জন্য তৈরি ঔষধ ও মাত্রা, ডাক্তারের পরামর্শে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে দেবেন না।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ৭ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লেভোমেন্থলের নিজের প্রতিক্রিয়া খুব কম। অন্য উপাদানগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ: ডাইফেনহাইড্রামিন মদ, ঘুমের ঔষধ ও অন্য শান্তকারী ঔষধের সাথে ঘুম বাড়ায়; ডেক্সট্রোমেথরফান MAO ইনহিবিটর (যেমন সেলেজিলিন) এর সাথে চলবে না এবং ফ্লুক্সেটিনের মতো বিষণ্নতার ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। একসাথে দুটি কাশি বা সর্দির ঔষধ খাবেন না।
কারা খাবেন না
- মেন্থল বা পুদিনায় এলার্জি থাকলে।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু; শিশুর মুখের কাছে মেন্থল শ্বাসের সমস্যা করতে পারে।
- ঔষধের অন্য উপাদান যে অবস্থায় নিষেধ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত হালকা: পেটের অস্বস্তি, বুক জ্বালা বা বমি বমি ভাব। কম্বিনেশন সিরাপে ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়াও হতে পারে।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: শ্বাসকষ্ট হয় (বিশেষ করে ছোট শিশুর), র্যাশ, মুখ বা ঠোঁট ফোলার মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দেয়, অথবা খুব বেশি ঘুম বা বিভ্রান্তি হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এসব ঔষধে লেভোমেন্থলের পরিমাণ কম, তবে অন্য উপাদান উপযুক্ত নাও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- কম্বিনেশন সিরাপে ঘুম আসতে পারে; এমন হলে গাড়ি চালাবেন না।
- হাঁপানিতে সাবধানে ব্যবহার করুন, কারণ তীব্র মেন্থল কদাচিৎ শ্বাসে সাঁসাঁ শব্দ বাড়াতে পারে।
- সিরাপে চিনি থাকতে পারে; ডায়াবেটিস থাকলে লেবেল দেখুন।
- কাশি এক সপ্তাহের বেশি থাকলে, বা সাথে বেশি জ্বর, বুকে ব্যথা বা রক্ত গেলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি এবং কদাচিৎ খিঁচুনি হতে পারে। অন্য উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত সেবনও গুরুতর হতে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ঠান্ডা অনুভূতি দেওয়া উপাদান ও কাউন্টার-ইরিটেন্ট; কাশি ও সর্দির ঔষধের উপাদান।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে, ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ রেখে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।