ব্যবহার
লেভোমিলনাসিপ্রান একটি বিষণ্নতারোধী (অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট) ঔষধ। প্রাপ্তবয়স্কদের মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে মন খারাপ থাকা যা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তার চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
লেভোমিলনাসিপ্রান একটি SNRI ঔষধ। এটি মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন নামের দুটি প্রাকৃতিক রাসায়নিকের মাত্রা বাড়ায়, যেগুলো মেজাজ, শক্তি ও উদ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। একই ধরনের অনেক ঔষধের তুলনায় এটি নরঅ্যাড্রেনালিনের ওপর কিছুটা বেশি কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঠিকঠাক সেবন করুন। এটি এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ক্যাপসুল, দিনে একবার প্রায় একই সময়ে খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া খাওয়া যায়। চিকিৎসক কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে আপনার অবস্থা দেখে ধাপে ধাপে মাত্রা বাড়ান। ক্যাপসুল আস্ত গিলে ফেলুন; খুলবেন না, গুঁড়া করবেন না বা চিবাবেন না। উন্নতি বুঝতে সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহ লাগে। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- MAO ইনহিবিটর, লিনেজোলিড বা শিরায় দেওয়া মিথিলিন ব্লু: একসাথে চলবে না; MAO ইনহিবিটর বন্ধের পর অন্তত ১৪ দিন এবং এই ঔষধ বন্ধের পর ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
- সেরোটোনিন বাড়ায় এমন ঔষধ, যেমন অন্য অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, ট্রামাডল, ট্রিপটান, লিথিয়াম বা সেন্ট জন’স ওয়ার্ট: সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি।
- অ্যাসপিরিন, NSAID ব্যথানাশক, ওয়ারফারিন ও অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ: রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- কিটোকোনাজল বা ক্ল্যারিথ্রোমাইসিনের মতো শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটর: ঔষধের মাত্রা বাড়ায়, তাই কম ডোজ লাগতে পারে।
- অ্যালকোহল: এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- লেভোমিলনাসিপ্রান বা মিলনাসিপ্রানে অ্যালার্জি থাকলে।
- MAO ইনহিবিটর সেবনকালে বা বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে।
- অনিয়ন্ত্রিত ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘাম, বুক ধড়ফড়, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, প্রস্রাব করতে কষ্ট, লিঙ্গোত্থান বা বীর্যপাতের সমস্যা, মাথা ঘোরা ও বমি।
নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসা, উচ্চ জ্বরের সাথে অস্থিরতা, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি (সম্ভাব্য সেরোটোনিন সিনড্রোম), অস্বাভাবিক রক্তপাত, প্রস্রাব একেবারে আটকে যাওয়া, ঝাপসা দেখার সাথে চোখে ব্যথা, খিঁচুনি বা তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের সাথে উপকার ও ঝুঁকি আলোচনা করেই ব্যবহার করুন; গর্ভাবস্থার শেষ দিকে সেবন করলে নবজাতকের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ঔষধটি বুকের দুধে যেতে পারে, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- শিশু, কিশোর ও তরুণদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতারোধী ঔষধ আত্মহত্যার চিন্তা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে শুরুতে বা মাত্রা বদলের পর। পরিবারের সদস্যদের মেজাজের পরিবর্তন খেয়াল রাখা উচিত।
- নিয়মিত রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করা উচিত।
- বাইপোলার ডিসঅর্ডার, খিঁচুনি, গ্লুকোমা, প্রস্রাবের সমস্যা, হৃদরোগ বা রক্তে সোডিয়াম কম থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- কিডনির সমস্যায় কম মাত্রা লাগতে পারে।
- মাথা ঘোরাতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে বুক ধড়ফড়, উচ্চ রক্তচাপ, তন্দ্রা, খিঁচুনি বা সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিষণ্নতারোধী, সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SNRI)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।