কী কাজে ব্যবহার হয়
থাইরয়েড গ্রন্থি যথেষ্ট হরমোন তৈরি না করলে (হাইপোথাইরয়েডিজম) লেভোথাইরক্সিন সেই হরমোনের ঘাটতি পূরণ করে। থাইরয়েডের অপারেশনের পরে এবং কিছু ধরনের গলগণ্ড ও থাইরয়েড ক্যান্সারেও ব্যবহার হয়।
কীভাবে খাবেন
দিনে একবার খালি পেটে, এক গ্লাস পানি দিয়ে, সকালের নাস্তার 30 থেকে 60 মিনিট আগে, প্রতিদিন একই সময়ে খান। রক্ত পরীক্ষা (TSH) দেখে প্রত্যেকের মাত্রা আলাদাভাবে ঠিক করা হয়। প্রাপ্তবয়স্করা প্রায়ই দিনে 50 থেকে 100 মাইক্রোগ্রাম দিয়ে শুরু করেন; বয়স্ক ও হৃদরোগীদের সাধারণত কম দিয়ে, যেমন 12.5 থেকে 25 মাইক্রোগ্রাম। বেশিরভাগ মানুষের এটি সারাজীবন লাগে, তাই ডাক্তার না বললে বন্ধ করবেন না। পুরো ফল পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগে।
কারা খাবেন না
লেভোথাইরক্সিনে এলার্জি থাকলে, চিকিৎসা না হওয়া অতিসক্রিয় থাইরয়েড বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যা থাকলে, বা সদ্য হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে খাবেন না। ওজন কমানোর জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সঠিক মাত্রায় সাধারণত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। মাত্রা বেশি হলে বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা, ঘাম, গরম লাগা, ডায়রিয়া, ওজন কমা, ঘুমের সমস্যা বা উদ্বেগ হতে পারে। বুকে ব্যথা বা খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হলে সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিসের ঔষধের মাত্রা বদলাতে হতে পারে) বা হাড় দুর্বল থাকলে ডাক্তারকে জানান। মাত্রা ঠিক আছে কিনা দেখতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় এটি চালিয়ে যাওয়া নিরাপদ ও জরুরি। গর্ভবতী হওয়ার কথা জানার সাথে সাথে ডাক্তারকে জানান, কারণ প্রায়ই মাত্রা বাড়াতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যান্টাসিড, কিছু গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ (ওমিপ্রাজল ও একই ধরনের), কোলেস্টিরামিন ও অরলিস্ট্যাট এর শোষণ কমিয়ে দিতে পারে, তাই অন্তত 4 ঘণ্টা ব্যবধানে খান। এটি ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে। কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও রিফাম্পিসিন এর কাজ কমিয়ে দিতে পারে।
সংরক্ষণ
25°C এর নিচে, আসল প্যাকে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।