ব্যবহার
লাইট লিকুইড প্যারাফিন একটি পরিশোধিত খনিজ তেল, যা ত্বকে ইমোলিয়েন্ট (ময়েশ্চারাইজার) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুষ্ক, খসখসে, আঁশযুক্ত বা চুলকানিযুক্ত ত্বকের জন্য ক্রিম, মলম, লোশন ও বাথ অয়েলে এটি থাকে, যেমন একজিমা, অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস ও ইকথায়োসিস। সংবেদনশীল বা শুষ্ক ত্বকে সাবানের বদলেও এটি ব্যবহার করা যায়।
কীভাবে কাজ করে
লাইট লিকুইড প্যারাফিন ত্বকের ওপর একটি পাতলা তৈলাক্ত স্তর তৈরি করে। এই স্তর ত্বক থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়া কমায়, ফলে ত্বকের বাইরের অংশ নরম, নমনীয় ও আর্দ্র থাকে। ত্বকের সুরক্ষা স্তর আর্দ্র থাকলে চুলকানি, ফাটা এবং শুষ্ক ত্বকের রোগ বেড়ে যাওয়া কমে। এতে কোনো সক্রিয় ঔষধ নেই।
মাত্রা ও সেবনবিধি
আক্রান্ত ত্বকে প্রয়োজন অনুযায়ী লাগান, সাধারণত দিনে ২ থেকে ৪ বার বা লেবেলের নির্দেশমতো। জোরে ঘষবেন না, লোম যেদিকে গজায় সেদিকে আলতো করে লাগান। গোসল বা ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই লাগালে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। সাবানের বদলে ব্যবহার করলে ভেজা ত্বকে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। একই জায়গায় অন্য ক্রিম বা মলম ব্যবহার করলে দুটোর মাঝে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বিরতি দিন, অথবা ডাক্তারের পরামর্শ মানুন।
কারা খাবেন না
- পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কাটা, সংক্রমিত বা রস ঝরা ত্বকে লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। কারো কারো হালকা জ্বালা, লালচে ভাব বা অ্যালার্জিক র্যাশ হতে পারে, যা প্রায়ই সুগন্ধি বা প্রিজারভেটিভের মতো অন্য উপাদানের কারণে হয়। খুব তৈলাক্ত পণ্য লোমকূপ বন্ধ করে ছোট ছোট গুটি (ফলিকুলাইটিস) তৈরি করতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জি, অথবা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ব্যথাযুক্ত র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বকে লাগানো লাইট লিকুইড প্যারাফিন প্রায় শোষিত হয় না, তাই গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ ধরা হয়। স্তনে লাগালে দুধ খাওয়ানোর আগে মুছে ফেলুন।
সতর্কতা
- আগুনের ঝুঁকি: প্যারাফিনযুক্ত পণ্য কাপড়, বিছানার চাদর ও ব্যান্ডেজে শুষে গিয়ে সহজে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে। খোলা আগুন, সিগারেট ও হিটার থেকে দূরে থাকুন এবং কাপড় ও চাদর ঘন ঘন বদলান।
- বাথরুম ও মেঝে পিচ্ছিল হতে পারে; পড়ে যাওয়া থেকে সাবধান থাকুন।
- চোখে লাগাবেন না।
- খাওয়ার জন্য নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে ক্ষতি নেই। বেশি পরিমাণে গিলে ফেললে ডায়রিয়া হতে পারে। তেল ফুসফুসে চলে গেলে (যেমন শিশুর ক্ষেত্রে) নিউমোনিয়া হতে পারে; চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমোলিয়েন্ট; ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ও সুরক্ষাকারী।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।