ব্যবহার
লিনকোমাইসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন, যা সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়া, যেমন স্ট্যাফিলোককাস ও স্ট্রেপটোককাস, দিয়ে হওয়া গুরুতর সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়, মূলত যারা পেনিসিলিন নিতে পারেন না তাদের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে আছে ত্বক ও নরম টিস্যু, হাড় ও গিঁট (অস্টিওমাইলাইটিস), শ্বাসনালি এবং রক্তের (সেপটিসেমিয়া) সংক্রমণ।
কীভাবে কাজ করে
লিনকোমাইসিন ব্যাকটেরিয়ার কোষের প্রোটিন তৈরির অংশে (রাইবোজোম) যুক্ত হয়। নতুন প্রোটিন ছাড়া ব্যাকটেরিয়া বাড়তে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না, ফলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রমণ দূর করতে পারে। এটি সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লিনকোমাইসিন ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স মাংসপেশিতে অথবা পাতলা করে ড্রিপ হিসেবে ধীরে শিরায় দেন। এটি কখনো পাতলা না করে দ্রুত সরাসরি শিরায় দেওয়া যাবে না। মাত্রা ও চিকিৎসার সময়কাল সংক্রমণ, বয়স, ওজন এবং কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লিনকোমাইসিন অ্যানেস্থেসিয়ায় ব্যবহৃত মাংসপেশি শিথিলকারী ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে। ইরিথ্রোমাইসিন এর কার্যকারিতা কমাতে পারে, তাই একসাথে ব্যবহার করা হয় না। কেওলিনযুক্ত ডায়রিয়ার ঔষধ খাওয়ার রূপের শোষণ কমায়। আপনার সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
লিনকোমাইসিন বা ক্লিনডামাইসিনে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। সাধারণ সংক্রমণ বা ভাইরাস সংক্রমণে ব্যবহার করা হয় না। ইনজেকশনে বেনজাইল অ্যালকোহল থাকতে পারে, তাই নবজাতকে এড়ানো হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ডায়রিয়া, বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, র্যাশ ও চুলকানি। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা শক্ত হয়ে যাওয়া হতে পারে। শিরায় খুব দ্রুত দিলে রক্তচাপ কমে যেতে বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।
তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হলে, চিকিৎসা শেষের কয়েক সপ্তাহ পরেও, দ্রুত চিকিৎসা নিন; এটি অন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ (ক্লস্ট্রিডিওইডিস ডিফিসিল কোলাইটিস) হতে পারে। মুখ বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, ত্বকে ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া অথবা অজ্ঞান হলেও সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
লিনকোমাইসিন গর্ভফুল পার হয়ে শিশুতে পৌঁছায়। একান্ত প্রয়োজন হলে এবং অন্য নিরাপদ বিকল্প উপযুক্ত না হলে তবেই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা হয়। এটি বুকের দুধে যায় এবং শিশুর পেটের সমস্যা করতে পারে; দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া নিয়ে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
কোলাইটিসের মতো অন্ত্রের রোগের ইতিহাস, লিভার বা কিডনির রোগ, হাঁপানি বা অনেক অ্যালার্জি থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। দীর্ঘ কোর্সে রক্ত, লিভার ও কিডনির পরীক্ষা দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়রিয়া বন্ধের ঔষধ খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি হলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে; উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। ডায়ালাইসিসে লিনকোমাইসিন খুব বেশি বের হয় না।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক (লিনকোসামাইড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন। জমাবেন না। হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।