ব্যবহার
লিনেজোলিড একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক, যা এমন গুরুতর সংক্রমণের জন্য রাখা হয় যেখানে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, যেমন MRSA ও VRE জীবাণু। এটি ব্যবহার হয়:
- নিউমোনিয়ায়, হাসপাতালে হওয়া নিউমোনিয়াসহ
- জটিল ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণে, যেমন ডায়াবেটিক পায়ের সংক্রমণ
- ঔষধ-প্রতিরোধী এন্টেরোকক্কাস সংক্রমণে
- বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে কিছু ঔষধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মায়
কীভাবে কাজ করে
এটি ব্যাকটেরিয়াকে বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য দরকারি প্রোটিন তৈরি করতে দেয় না। অন্য অ্যান্টিবায়োটিক থেকে এর কাজের ধরন আলাদা, তাই অন্যগুলো ব্যর্থ হলেও এটি প্রায়ই কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত প্রতি ১২ ঘণ্টায় ৬০০ mg, মুখে বা শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে, ডাক্তারের নির্দেশমতো। চিকিৎসা সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিন চলে এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ছাড়া সাধারণত ২৮ দিনের বেশি নয়। শিশু ও যক্ষ্মার চিকিৎসায়: ডাক্তারের নির্দেশমতো। ট্যাবলেট খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লিনেজোলিডের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া আছে। যত ঔষধ খান সব ডাক্তারকে জানান, বিশেষ করে:
- সারট্রালিন, ফ্লুওক্সেটিন, এসসিটালোপ্রাম ও অ্যামিট্রিপটিলিনের মতো বিষণ্ণতার ঔষধ, এবং ট্রামাডল, পেথিডিন ও ট্রিপটান জাতীয় ঔষধ: সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অংশ দেখুন)
- সিউডোএফেড্রিন বা ফেনাইলেফ্রিনযুক্ত সর্দি-কাশির ঔষধ, এবং অ্যাড্রেনালিন বা ডোপামিনের মতো ঔষধ: রক্তচাপ হঠাৎ অনেক বেড়ে যেতে পারে
- অন্য MAO ইনহিবিটর ঔষধ: একসাথে খাওয়া যাবে না
- রিফামপিসিন: লিনেজোলিডের মাত্রা কমাতে পারে
টাইরামিন বেশি থাকা খাবার বেশি পরিমাণে খাবেন না, যেমন পুরোনো পনির, গাঁজানো সয়া সস, ইস্ট এক্সট্রাক্ট, শুকনো বা ধোঁয়ায় সংরক্ষিত মাংস ও মাছ এবং ড্রাফট বিয়ার, কারণ এগুলো রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- লিনেজোলিডে এলার্জি থাকলে
- MAO ইনহিবিটর ঔষধ খেলে, বা গত ২ সপ্তাহের মধ্যে খেয়ে থাকলে
- হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ছাড়া: অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ফিওক্রোমোসাইটোমা, কার্সিনয়েড টিউমার, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, বা ওপরে বলা প্রতিক্রিয়াকারী ঔষধ খেলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, স্বাদের পরিবর্তন ও মুখে বা যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ। লিনেজোলিড রক্তকণিকা কমাতে পারে, তাই সাধারণত প্রতি সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- ঝাপসা দেখা, দৃষ্টি কমে যাওয়া বা রং চিনতে সমস্যা
- হাত-পায়ে অবশ ভাব, ঝিমঝিম বা ব্যথা
- অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, জ্বর, ঘাম, কাঁপুনি, মাংসপেশি লাফানো ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন (সম্ভাব্য সেরোটোনিন সিনড্রোম)
- অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, বা বারবার সংক্রমণ
- বারবার বমি, দ্রুত শ্বাস ও খুব দুর্বলতা (সম্ভাব্য ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস)
- তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, খিঁচুনি বা মারাত্মক এলার্জি
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
তথ্য সীমিত। ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা হয়। এটি বুকের দুধে যেতে পারে; দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- প্রতি সপ্তাহে রক্তকণিকা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়, বিশেষ করে ২ সপ্তাহের বেশি চিকিৎসায় বা আগে থেকে রক্তের সমস্যা থাকলে।
- ২৮ দিনের বেশি ব্যবহারে স্নায়ু ও চোখের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে; দীর্ঘ চিকিৎসায় চোখ পরীক্ষা করা উচিত।
- ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট খেলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে।
- মৃগীরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দ্রুত ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়, এবং ডায়ালাইসিসে কিছু ঔষধ বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক: অক্সাজোলিডিনোন।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। স্যালাইন ব্যাগ বাইরের মোড়কে রাখুন এবং ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।